বিভাগ - ধর্ম

আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব, আজ বৃহত্তর জুমার নামাজ

প্রকাশিত

গাজীপুর প্রতিবেদক: ফজরের পরপরই টঙ্গীর তুরাগ তীরে যার যার খিত্তায় অবস্থান নিয়ে মদিনার মাওলানা ওসমানের আমবয়ান শুনতে মনোযোগী মুসল্লিরা। বয়ানটি বাংলায় তরজমা করেন- মাওলানা আব্দুল্লাহ মুনসুর।

শুক্রবার (১৭ জানুয়া‌রি) বাদ ফজর এভাবেই শুরু হয় ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। এর আগে গতকাল বৃহস্প‌তিবার (১৬ জানুয়া‌রি) বাদ আছর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের প্রাক-বয়ান। শুক্রবার দুপুরে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে এখানেই অনুষ্ঠিত হবে জুমার নামাজ। এতে ইমামতি করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মোশারফ হোসেন। জুমার নামাজ ঘিরে এরই মাঝে আশপাশের এলাকা থেকে ধল বেঁধে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা।

ইজতেমা ময়দানের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত আছে বাড়তি পুলিশ সদস্য। এরই মধ্যে পুরো ময়দানকে ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভি ও ওয়াচ টাওয়ার দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে সবদিকে।

ইজতেমা ময়দানে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য অপসারণসহ মুসল্লিদের সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের মতো শেষ বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করে। পরে বৃহস্পতিবার বাদ আছর শুরু হয় প্রাক-বয়ান। দ্বীনের দাওয়াতে শরিক হতে আসা মুসল্লিরা নিজ নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নেন।

মাওলানা জোবায়েরপন্থি মুসল্লিরা প্রথম পর্ব শেষে ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করার পর গত সোমবার রাতেই মাঠ হস্তান্তর করা হয় সা’দ পন্থীদের হাতে। গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) শুরু হয়ে রোববার (১২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব।

এদিকে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমারও প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় কয়েক লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে জুমার নামাজে বিশাল এক জামাত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশ বিদেশের মুসল্লি ছাড়াও এতে অংশ নেবে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ।

ইজতেমার সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের সমন্বয়ক হাজী মুনির হোসেন জানান, বুধবার থেকে অনেক মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে চলে আসায় বৃস্পতিবার বাদ মাগরিব প্রাক বয়ান করেন ভারতের মাওলানা শামীম। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা জিয়া বিন কাসেম। এখনও সাধারণ মুসল্লিরাও ইজতেমা ময়দানে আসছেন। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত তাদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আমির ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি এ ইজতেমায় আসবেন না। তবে নিজামুদ্দিনের পক্ষ থেকে তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি ও আলেমসহ ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যেই এসে পৌঁছেছেন। তাদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে বিশ্ব ইজতেমা। এ ছাড়া বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে দ্বিতীয় পর্বের এ ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে আসছেন মুসল্লিরা। তারা জেলাভিত্তিক নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন।

এ পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, তুরস্ক থেকে শুরু করে এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে ছুঁতে এসেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইজতেমা ঢেকে রাখা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন ঘটতে না পারে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে যাতায়াত করবে বিধায় ১৯ জানুয়ারি (রোববার) সকাল ৬টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা হতে টঙ্গী ব্রীজ পর্যন্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়াও কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের মাজুখান ব্রিজ থেকে স্টেশনরোড ওভারব্রিজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মুন্নু টেক্সটাইল মিল গেট পর্যন্ত সড়ক বন্ধ থাকবে।