আমরা ভার‌তের প্র‌তি আনুগত্য নই, বন্ধুত্ব ক‌রে‌ছি: কা‌দের

প্রকাশিত

গাজীপুর প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি’র কাছে আজ আর কোনও ইস্যু নেই। বিএনপি’র এখন বেলা শেষ। শেষ বেলায় বিএনপি নেতারা এখন ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তারা একটার পর একটা ইস্যু খুঁজছেন। কিন্তু বিএনপি’র হাতে আমরা কোনও ইস্যু তুলে দেবো না। শেখ হাসিনা ঘরের লোকদের বিরুদ্ধেও অ্যাকশন নিচ্ছেন। কাজেই বিরোধীদের কাছে আমরা কোনও ইস্যু তুলে দেবো না।’

আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে গাজীপুর শহরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে গাজীপুর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, সামসুন্নাহার এমপি প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি চুক্তি আর সমঝোতা স্মারকের পার্থক্যটা বোঝে না। ভারতের সঙ্গে এবার কোনও চুক্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এবার ভারতে যেটা করেছেন, সেটা হলো এমওইউ অর্থাৎ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। অথচ তারা চুক্তি নিয়ে চিঠি দেয় প্রধানমন্ত্রীকে। চুক্তি আর সমঝোতা স্মারক এক নয়। তারা সেটা বোঝে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ভারত নিয়ে কথা বলে। তারা এতোটা ভারতবিরোধী কেন আমরা তা জানি। বিএনপি ভারতের আনুগত্যের জন্য বার বার ভিক্ষা চেয়েছে। তারা ব্যর্থ হয়ে এখন আওয়ামী লীগকে ভারতের সঙ্গে জড়িয়ে পুরনো সেই সুরে নতুন খেলা শুরু করেছে। ভারত আমাদের বন্ধু, আমরা ভারতের প্রতি আনুগত্য দেই না। আমরা বন্ধুত্ব করেছি, আমরা ভারতের আনুগত্য চাই না। আমাদের শক্তির উৎস আমাদের দেশের জনগণ, কোনও বিদেশি শক্তি আমাদের ক্ষমতায় বসাবে না। বিএনপি ক্ষমতার জন্য আজ বিদেশিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার জন্য জনগণের কাছে দাবি জানাবে, ভোট চাইবে, কিন্তু কোনও বিদেশির কাছে যাবে না।’

তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের একটি বিষয়ে অনুরোধ করছি। আপনারা আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখুন। তৃণমূলে আপনাদের এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আপনারা কমিটি গঠন করতে গিয়ে পকেট কমিটি করবেন না। কমিটি গঠন করতে গিয়ে দুঃসময়ে ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ক্লিন ইমেজের লোককে আওয়ামী লীগ অবশ্যই স্বাগত জানাবে, কিন্তু দুষিত লোককে আমাদের দরকার নেই। সারা বাংলায় আওয়ামী লীগে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।’ তিনি নেতাকর্মীদের মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদীদের দল নয়। আওয়ামী লীগ আদর্শবাদীদের দল। আদর্শের শেকড় থেকে বিচ্যুত হলে আওয়ামী লীগ বাঁচবে না। আওয়ামী লীগ বাঁচবে যতোদিন আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আঁকড়ে ধরে রাখবো, আমরা আদর্শের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবো। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। দল ভারী করার জন্য খারাপ লোকদের পকেটে আনবেন না। মনে রাখতে হবে, এ খারাপ লোকেরা বসন্তের কোকিল। ক্ষমতা থাকলে এরা আসবে, আর ক্ষমতা চলে গেলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজের মূল্য এখন নিয়ন্ত্রণে এসে যাচ্ছে। ইনশাল্লাহ কয়েকদিনের মধ্যে পেঁয়াজের মূল্য স্বাভাবিক হবে। লবণ নিয়ে অনেকেই কারসাজি শুরু করেছে। সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দেশে এখন আর টেন্ডারবাজি চলবে না, দুর্নীতি চলবে না, মাদক ব্যবসা চলবে না, জমিদখল চলবে না। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত তারা হুঁশিয়ার হয়ে যান। শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। দুর্বৃত্তায়নের চক্র ও দুর্নীতির চক্র ভেঙে দেওয়া পর্যন্ত এ অ্যাকশন চলতে থাকবে। এসব চক্র ভেঙে দিতে হবে। এতো উন্নয়ন, এতো অর্জন, আমাদের নেত্রীর এতো ত্যাগ, এতো সততা, এতো সাহস এর সোনালী ফসল আমাদের ঘরে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে উন্নয়ন ও অর্জনের কোনও দাম নেই যদি আচরণ খারাপ হয়। ভালো ব্যবহার না করলে উন্নয়নের কোনও দাম নেই। তাই আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীকে মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।’

সড়ক প‌রিবহনের মা‌লিক ও শ্র‌‌মিক‌দের নতুন আইন মে‌নে চলার আহ্বান জা‌নি‌য়ে মন্ত্রী ব‌লেন, জনগ‌ণের স্বা‌র্থে ও আপনা‌দের নি‌জে‌দের স্বা‌র্থেও সড়‌কে শৃঙ্খলা দরকার। কাউ‌কে শা‌স্তি দেওয়ার জন্য নয়, শৃঙ্খলার জন্য এ আইন করা হ‌য়ে‌ছে। শেখ হা‌সিনা আইন ক‌রে‌ছেন কাউ‌কে শা‌স্তি দি‌তে না, সড়‌কে শৃঙ্খলা প্র‌তিষ্ঠার জন্য।

সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার সরকার। এটা কোনও জামায়াত বিএনপি’র চারদলীয় সরকার নয় যে লুটে পুটে খাবে। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই দেশের সম্পদ নিরাপদ। এখানে কোনও অপব্যবহারের আশঙ্কা নেই।’