বিভাগ - খেলাধুলা

আমি সবার কাছে বোঝা, কখনও কোনও সম্মান পাইনি: গেইল

প্রকাশিত

স্পোর্টস ডেস্ক: ২২ গজের ‘দ্য ইউনিভার্সাল বস’ খ্যাত ক্রিস গেইল এবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। টি-২০ ক্রিকেটের এই মহারাজা এখনও যেকোনও বোলারের সামনে যমরূপ ধারণ করেন। তবে যৌবনের সেই সোনালী সময়টা কোথায় যে হারিয়ে ফেলেছেন গেইল। তারপরও ব্যাট হাতে যে একেবারেই ঝড় তুলেন না তা নয়, মাঝেমধ্যেই তার তাণ্ডবলীগ দেখতে পায় ক্রিকেট দুনিয়া।

‘হাউ ইজ দ্যাট’। আম্পায়ারের কাছে লেগ বিফোরের জোরালো দাবি রাখলেন ক্রিস গেইল। কিন্তু আম্পায়ার কোন সাড়া দিলেন না। গেইল যেন আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মানতে পারলেন না। কেঁদেই দিলেন ইউনিভার্স বস। গেইল মাঠে কাঁদছেন মানতে কষ্ট হলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার এনজানজি সুপার লিগে।

ক্রিস গেইল টি-২০ ক্রিকেটের অন্যতম বিনোদনদায়ী ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে বোলারদের বলে বড় বড় ছক্কা মেরে তা মাঠ ছাড়া করে বিনোদন দেন তিনি। মাঠে নানান উৎযাপন করেও ক্রিস গেইল থাকেন আলোচনায়। গেইল সেই বিনোদন দেওয়ার জন্যই কাঁদলেন এবার? অনেকে অবশ্য তেমনটাই মনে করছেন।

এনজাননি সুপার লিগে গেইল জোঝি স্টার্সের হয়ে খেলছেন। আর ম্যাচটি ছিল পার্ল রকর্সের বিপক্ষে। ব্যাট হাতে গেইলকে ওই ম্যাচে ওপেনিংয়ে নামতে দেখা যায়নি। তিনে ব্যাট করতে নামেন তিনি। কিন্তু রান করতে পারেননি। বল হাতে তাকে দিয়েই ওপেন করায় তার দল। ওভারের শেষ বলে গেইল স্লোয়ার ফ্লাইট দেন। ব্যাটসম্যান বল ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হন। প্যাডে গিয়ে লাগে তার। গেইল লেগ বিফোরের আবেদন করেন। আম্পায়ার না করে দিতেই কেঁদে দেন গেইল।

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ৪০ বছর বয়সী গেইলের উপলব্ধি হলো- দু-এক ম্যাচ পারফর্ম না করতে পারলেই তাকে সবাই দলের বোঝা মনে করে। সেটা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগগুলোতেও।

দক্ষিণ আফ্রিকায় চলছে টি-২০ ফ্র্যাঞ্জাইজি টুর্নামেন্ট জানসি সুপার লিগ। সেখানে তার দল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জোজি স্টারস গত ৬ ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পায়। ৬ ম্যাচে গেইলের রান ১০১। এর মধ্যে পরশু সবশেষ ম্যাচে করেছেন ৫৪ রান।

জিততে জিততেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া ওই ম্যাচের পরই সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্ষোভ ঝাড়লেন গেইল। চার-ছক্কার এই দানবীয় বীর বলেন, ‘দু-তিন ম্যাচ রান না পেলেই গেইল দলের বোঝা হয়ে উঠে। গত কয়েক বছরে সব ফ্র্যাঞ্জাইজিগুলোতেই এ দৃশ্য দেখছি। ব্যাপারটা এমন হয়ে উঠে যে, গেইল শুধু একাই দলের বোঝা। অথচ কেউ মনে রাখে না গেইল তাদের জন্য কী করলেন। গেইল তখন তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পায় না।’

শুধু ফ্র্যাঞ্জাইজিগুলোই নয়, গেইলের বক্রোক্তি খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট, বোর্ড সদস্যসহ সবাইকে নিয়েই।

২২ গজের এই মহানায়ক বলেন, ‘আমি কখনও কোনও সম্মান পাইনি। এক-দুই ম্যাচে পারফর্ম করতে না পারলেই সবাই ভাবে গেইলের ক্যারিয়ার শেষ। তাকে দিয়ে কিছু হবে না। আসলে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই আমি দীর্ঘ পথ পার হয়ে এসেছি। এগুলো তাই এখন নতুন কিছু মনে হয় না।’