বিভাগ - খেলাধুলা

আড়াইদিনেই ইনিংস ও ৪৬ রানে গোলাপি টেস্ট হারল বাংলাদেশ

প্রকাশিত

স্পোর্টস ডেস্ক: লজ্জা আর অসহায় আত্মসমর্পণের হারেই শেষ হলো ঐতিহাসিক গোলাপি টেস্ট। ইনিংস ও ৪৬ রানের বড় হার নিয়ে ভারত সফরেরও একইসঙ্গে ইতি টানলো বাংলাদেশ। পাশাপাশি সিরিজের দুই টেস্টেই ইনিংস হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হলো প্রথমবার টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেয়া মুমিনুল হককে।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ১০৬ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৩৪৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। ২৪১ রানে পিছিয়ে থেকে শুরুটা যে এমন হবে তা হয়তো কল্পনাও করেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। মাত্র ১৩ রানে দলের ৪ টপ অর্ডার ব্যাটম্যানের বিদায়ে ম্যাচটা মূলত সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে যেতে পারে এমন পরিস্থিতিও উঁকি দিচ্ছিল।

তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম মিলে দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে পাল্টা আক্রমণে বিধ্বংসের তলানি থেকে দলকে টেনে তুলতে শুরু করে। ৬৯ রানের জুটি গড়ে হঠাৎই পায়ে টান পড়লে খুড়িয়ে খুড়িয়ে মাঠ ছাড়েন ৩৯ রানে অপরাজিত থাকা রিয়াদ। এর পর দিনের বাকি সময়ে মিরাজ ও তাইজুলের উইকেটও তুলে নেয় ভারতের পেসাররা। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৫২ রান।

তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ওভারেই এবাদত আউট হলে চাপ বাড়ে একপ্রাপ্ত আগলে রাখা মুশফিকের ওপর। সেই চাপ কাটাতেই উমেশ যাদবের এক ওভারে পর পর দুই বাউন্ডারি হাঁকান এই অভিজ্ঞ সিনিয়র ক্যাম্পেইনার। কিন্তু রেশটা ধরে রাখা গেল না বেশিক্ষণ। দলীয় ১৮৪ রানে সেই উমেশকে কাভারের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে জাদেজার হাতে তালুবন্দি হন বাংলাদেশকে লজ্জার রেকর্ড থেকে কিছুটা রক্ষা করা মুশফিক। সাজঘরে ফেরার আগে ৭৪ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন সাবেক এই টেস্ট অধিনায়ক।

মুশফিকের বিদায়ে ম্যাচটা পুরোপুরিভাবেই বিরাট কোহলিদের হাতে চলে যায়। এর পর উদযাপনটা ছিল শুধু সময়ের ব্যাপার। তার জন্য অপেক্ষা করতে হয় মাত্র ১০ বল। ৪২তম ওভারের প্রথম বলে আল-আমিন কট বিহাইন্ড হলে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন উমেশ যাদব। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশকে নাস্তানাবুদ করে জয়োল্লাসে ভাসে ভারত।