ইতাকাফে ও লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রকাশিত

গাজী এমদাদউল্যাহ ফয়েজী

ই’তিকাফ এর ফজিলতঃ-
রমাদ্বানের শেষ দশকের অন্যতম ইবাদত হলো ই’তিকাফ করা।
ই’তিকাফ শব্দের অর্থ হচ্ছেঃ-১. স্থির থাকা,২.আবদ্ধ
থাকা, ৩.অবস্থান করা।
পরিভাষায় ই’তিকাফ বলা হয়,
মাহে রামাদ্বানের শেষ দশকে বা যে কোনো দিন দুনিয়াবি সব কাজ-কর্ম তথা পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মসজিদে বা
ঘরের পবিত্র স্থানে ই’তিকাফের নিয়তে অবস্থানকে ই’তিকাফ বলে।

★ই’তিকাফ তিন প্রকার।

১,দশদিন ই’তিকাফ করা সূন্নাত।
হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসূল (সাঃ) বলেনঃ-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ‏.‏

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন। সহিহ বুখারী।

২,দু’একদিন ই’তিকাফ করা নফল বা মূস্তাহাব।

কেউ যদি দশদিন ই’তিকাফ করতে না পারে তাহলে সে অন্তত দু’একদিন ই’তিকাফ করা দরকার।
রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ- যদি কেউ তার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে হাঁটে তবে তা তার জন্য দশ বৎসর ই’তিকাফ করার চেয়েও উত্তম।
আর যে,একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ই’তিকাফ করবে আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে তিনটি পরিখার দুরত্ব সৃষ্টি করবেন,প্রত্যেক পরিখার প্রশস্ততা দুই দিগন্তের চেয়েও বেশি।
আল-মুস্তাদরাক ৪/৩০০ মুনযিরী।

৩, ই’তিকাফ ওয়াজিব।

কেউ যদি কোনো কাজের জন্য ই’তিকাফ নজর বা মানত করে, তাহলে সেই ইতেকাফ করতে হবে।আর এমন ই’তিকাফের জন্য রোজা থাকা শর্ত।আর কেউ সূন্নত ই’তিকাফ নষ্ট করে তার জন্যও ই’তিকাফ করা ওয়াজিব।
হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ-

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ عُمَرَ سَأَلَ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ: كُنْتُ نَذَرْتُ فِى الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ لَيْلَةً فِى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ؟ قَالَ: «فَأَوْفِ بِنَذْرِكَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, একবার ‘উমার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, (হে আল্লাহর রসূল!) জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি এক রাতে মাসজিদে হারামে ইতিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মানৎ পুরা করো। (বুখারী, মুসলিম)

★ই’তিকাফের ফজিলত ও গুরুত্ব।
ই’তিকাফ হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করার অন্যতম মাধ্যম। হাদিসের মধ্যে এসেছে- রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ-

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ
قَالَ فِى الْمُعْتَكَفِ: «هُوَ يَعْتَكِفُ الذُّنُوبَ وَيُجْزٰى لَه مِنَ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَات كُلِّهَا». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফকারী সম্পর্কে বলেছেন যে, ইতিকাফকারী ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে বাইরে থেকে সকল নেক কাজ করে, গুনাহ হতে বেঁচে থাকে-তার জন্য নেকী লেখা হয়।ইবনু মাজাহ,মিশকাতুল মাসাবিহ।

অন্য হাদিসের মধ্যে এসেছেঃ-
হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সাঃ) বলেছেনঃ- ‘যে ব্যক্তি রমাদ্বান মাসের শেষ দশকে ই’তিকাফ করবে সে দু’টি ওমরাহ ও দু’টি বড় হজ আদায় করার সওয়াব পাবে।’

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي كُلِّ رَمَضَانَ عَشْرَةَ أَيَّامٍ، فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি রমযানে দশ দিনের ই‘তিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিনের ইতিকাফ করেছিলেন।
সহিহ বুখারী।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ مِثْلَ حَدِيْثِ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ-তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করেছিলাম। ‘উসমান ইব্‌নু ‘উমার ‘আলী ইব্‌নু মুবারক (রহ.) থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনিও একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। সহিহ বুখারী।

★মহিলাদের ই’তিকাফের পদ্ধতি।
পুরুষদের মত মহিলারাও ই’তিকাফ করবে তবে ঘরের মধ্যে নিজের থাকার রুমে বা সালাত আদায়ের স্থানকে কাপড় দিয়ে আবৃত করে।

হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসূল (সাঃ) বলেনঃ-

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ، صَلَّى الصُّبْحَ ثُمَّ دَخَلَ فِي الْمَكَانِ الَّذِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهِ، فَأَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ، فَأَمَرَ فَضُرِبَ لَهُ خِبَاءٌ، وَأَمَرَتْ حَفْصَةُ فَضُرِبَ لَهَا خِبَاءٌ فَلَمَّا رَأَتْ زَيْنَبُ خِبَاءَهَا أَمَرَتْ فَضُرِبَ لَهَا خِبَاءٌ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «آلْبِرَّ تُرِدْنَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ فِي رَمَضَانَ وَاعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইতিকাফ করার ইচ্ছা করতেন, তখন ফজরের সালাত আদায় করার পর যে স্থানে ইতিকাফের ইচ্ছা করতেন, সেখানে প্রবেশ করতেন। তিনি রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফের ইচ্ছা করলেন আর তাঁবু স্থাপনের আদেশ দিলেন এবং তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হলো। আর হাফসা (রাঃ) আদেশ করলে তাঁর জন্যও তাঁবু খাটানো হলো, যয়নব (রাঃ) তাঁর তাঁবু দেখলেন। তিনিও আদেশ করলেন, তাঁর জন্যও পৃথক তাঁবু খাটানো হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখতে পেয়ে বললেন, তোমরা কি নেকীর প্রত্যাশা করছো ? তিনি সে রমযান মাসে ইতিকাফ করলেন না এবং শাওয়াল মাসে দশদিন ইতিকাফ করলেন।
সুনানে আন-নসায়ী।

★ ই’তেকাফ অবস্থায় যে সমস্ত কাজ করা যাবেনা।
وَعَن عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا قَالَتْ: السُّنَّةُ عَلَى الْمُعْتَكِفِ أَنْ لَا يَعُودَ مَرِيضًا وَلَا يَشْهَدُ جِنَازَةً وَلَا يَمَسُّ الْمَرْأَةَ وَلَا يُبَاشِرُهَا وَلَا يَخْرُجُ لِحَاجَةٍ إِلَّا لِمَا لَابُدً مِنْهُ وَلَا اِعْتِكَافَ إِلَّا بِصَوْمٍ وَلَا اعْتِكَافَ إِلَّا فِىْ مَسْجِدٍ جَامِعٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ-
তিনি বলেন, ইতিকাফকারীর জন্য এ নিয়ম পালন করা জরুরী- (১) সে যেন কোন রোগী দেখতে না যায়। (২) কোন জানাযায় শারীক না হয়। (৩) স্ত্রী সহবাস না করে। (৪) স্ত্রীর সাথে ঘেঁষাঘেষি না করে। (৫) প্রয়োজন ছাড়া কোন কাজে বের না হয়। (৬) সওম ছাড়া ইতিকাফ না করে এবং (৭) জামি‘ মাসজিদ ছাড়া যেন অন্য কোথাও ইতিকাফে না বসে।(আবূ দাঊদ)

এই হাদিসের মধ্যে রোজা থাকার কথা বলা হয়েছে যে, এটা ওয়াজিব ই’তিকাফের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য,সূন্নত মুস্তাহাবের জন্য নয়।
আমাদের দেশের কিছু ভাই আছেন যারা ই’তিকাফ অবস্থায় ধুমপান করেন।
দীর্ঘ সময় অযথা মোবাইলে কথা বলেন।
প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে অবস্থান করেন।
মনে রাখতে হবে আপনি ই’তিকাফে বসেছেন আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য,তাই আপনার উদ্দেশ্য হাসিল করতে হলে এ সমস্ত কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে।
আর সর্বদা ইবাদতের মাধ্যমে সময় কাটাতে হবে।
ই’তিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করা।

★ ‘লাইলাতুল ক্বাদর’বা তাকদীর বা মর্যাদার রাত।

রামাদ্বানের শেষ দশ রাতের মধ্যেই রয়েছে ‘লাইলাতুল ক্বাদর’।
ইমাম বাইহাকী বলেনঃ-লাইলাতুল ক্বদর অর্থ হলো,এ রাত্রিতে আল্লাহ পরবর্তী বৎসরে ফিরিশতাগণ মানুষদের জন্য কি কি কর্ম করবেন তার তাক্বদির বা নির্ধারণ করে দেন।

লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন আল্লাহ নিজেই পবিত্র কোরআ’নের সূরা দুখানের ৩-৮ নং আয়াতের মধ্যে।
আল্লাহ তায়ালা এই রাতকে সকল রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি তাঁর কালামে এ রাতকে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর কালাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরশাদ করেনঃ-

ﺇِﻧَّﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻟۡﻨَٰﻪُ ﻓِﻲ ﻟَﻴۡﻠَﺔٖ ﻣُّﺒَٰﺮَﻛَﺔٍۚ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺬِﺭِﻳﻦَ ٣ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔۡﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣۡﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ
٤ ﺃَﻣۡﺮٗﺍ ﻣِّﻦۡ ﻋِﻨﺪِﻧَﺎٓۚ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﺮۡﺳِﻠِﻴﻦَ ٥ ﺭَﺣۡﻤَﺔٗ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻚَۚ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻫُﻮَ ﭐﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ
ﭐﻟۡﻌَﻠِﻴﻢُ ٦ ﺭَﺏِّ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﻣَﺎ ﺑَﻴۡﻨَﻬُﻤَﺎٓۖ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُّﻮﻗِﻨِﻴﻦَ ٧ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ
ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﻳُﺤۡﻲِۦ ﻭَﻳُﻤِﻴﺖُۖ ﺭَﺑُّﻜُﻢۡ ﻭَﺭَﺏُّ ﺀَﺍﺑَﺎٓﺋِﻜُﻢُ ﭐﻟۡﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ٨ # ﺍﻟﺪﺧﺎﻥ : ٣، ٨ ]

নিশ্চয় আমি এটি নাজিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসুল প্রেরণকারী। তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি
সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
যিনি আসমানসমূহ, জমীন ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃ পুরুষদের রব। বরকতময় রজ্বনী হলো লাইলাতুল ক্বদর। আল্লাহ তাআলা এই রজ্বনীকে রকতময় বলে অভিহিত করেছেন।কারণ এ রাতে রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণ ও তাৎপর্য। বরকতের প্রধান কারণ হলো এ রাতে আল-কোরান নাজিল হয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সিদ্ধান্ত লাওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি
বৈশিষ্ট্য হল আল্লাহ তাআলা এ রাত সম্পর্কে একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ করেছেন। যা কিয়ামত
পর্যন্ত পাঠ করা হবে।

ﺇِﻧَّﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻟۡﻨَٰﻪُ ﻓِﻲ ﻟَﻴۡﻠَﺔِ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ ١ ﻭَﻣَﺎٓ ﺃَﺩۡﺭَﻯٰ كما ﻟَﻴۡﻠَﺔُ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ ٢ ﻟَﻴۡﻠَﺔُ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ
ﺧَﻴۡﺮٞ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻟۡﻒِ ﺷَﻬۡﺮٖ ٣ ﺗَﻨَﺰَّﻝُ ﭐﻟۡﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔُ ﻭَﭐﻟﺮُّﻭﺡُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﺈِﺫۡﻥِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻣِّﻦ ﻛُﻞِّ
ﺃَﻣۡﺮٖ ٤ ﺳَﻠَٰﻢٌ ﻫِﻲَ ﺣَﺘَّﻰٰ ﻣَﻄۡﻠَﻊِ ﭐﻟۡﻔَﺠۡﺮِ ٥ # ﺍﻟﻘﺪﺭ : ١، ٥

নিশ্চয় আমি এটি আমি নাজিল করেছি লাইলাতুল ক্বদরে। তোমাকে কিসে জানাবে
লাইলাতুল ক্বদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ
(জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল
সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সে রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত। (সূরা ক্বদর : ১-৫)

★লাইলাতুল ক্বদর কখনঃ-
আল-কুরআনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি লাইলাতুল ক্বদর কোন রাত। তবে কুরআনের ভাষ্য হলো লাইলাতুল ক্বদর রমজান মাসে।
এ রজ্বনী রামাদ্বানের শেষ দশকে হবে বলে সহি হাদিসে এসেছে। এবং তা রামাদ্বানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে
হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে এসেছেঃ-
ﺗَﺤَﺮُّﻭْﺍ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻷﻭَﺍﺧِﺮِ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ

রামাদ্বানের শেষ দশদিনে তোমরা ক্বদরের রাত তালাশ কর।(বোখারি মুসলিম)
এবং রামাদ্বানের শেষ সাত দিনে লাইলাতুল কদর থাকার সম্ভাবনা অধিকতর। যেমন হাদিসে এসেছেঃ-
ﺗَﺤَﺮُّﻭْﺍ ﻟَﻴْﻠَﺔُ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮِ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ

তোমরা রামাদ্বানের শেষ দশকে বেজোড় রাতগুলোতে ক্বদরের রাত খোঁজ কর। (বোখারী)
রাসূল (সাঃ) আরো বলেনঃ-

عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يُخْبِرُ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلاَحَى رَجُلاَنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ ‏ “‏ إِنِّي خَرَجْتُ لأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَإِنَّهُ تَلاَحَى فُلاَنٌ وَفُلاَنٌ فَرُفِعَتْ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمُ الْتَمِسُوهَا فِي السَّبْعِ وَالتِّسْعِ وَالْخَمْسِ

‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লায়লাতুল কদ্‌র সম্পর্কে জানানোর জন্য বের হলেন। তখন দু’জন মুসলমান বিবাদ করছিল। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের লাইলাতুল কদ্‌র সম্পর্কে জানানোর জন্য বেরিয়েছিলাম; কিন্তু তখন অমুক অমুক বিবাদে লিপ্ত থাকায় তা (লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কিত জ্ঞান) উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আর হয়তো বা এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তোমরা তা অনুসন্ধান কর (রমযানের) ২৭, ২৯ ও ২৫ তম রাতে। (সহিহ বুখারী)

অন্য হাদিসে এসেছে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ-

وَكَانُوا لاَ يَزَالُونَ يَقُصُّونَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا أَنَّهَا فِي اللَّيْلَةِ السَّابِعَةِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فَقَالَ النَّبِيُّ أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ

ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ-সাহাবীগণ আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট (তাঁদের দেখা ) স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন। লাইলাতুল কদর রমযানের শেষ দশকের সপ্তম রাতে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি মনে করি যে, ( লাইলাতুল কদর শেষ দশকে হবার ব্যাপারে ) তোমাদের স্বপ্নগুলোর মধ্যে পরস্পর মিল রয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদ্‌রের অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন তা শেয দশকে অনুসন্ধান করে।
সহিহ বুখারী।

অধিকতর সম্ভাবনার দিক দিয়ে প্রথম হলো রামাদ্বান মাসের সাতাশ তারিখ।দ্বিতীয় হল পঁচিশ তারিখ। তৃতীয় হল ঊনত্রিশ তারিখ।চতুর্থ হল একুশ তারিখ।পঞ্চম হল তেই’শ তারিখ।আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে।
তিনি দেখতে চান এর বরকত ও ফজিলত লাভের জন্য কে কত প্রচেষ্টা চালাতে পারে। লাইলাতুল ক্বদরে আমাদের কর্তব্য হলো বেশি বেশি নিজের জন্য আত্নীয় স্বজনদের জন্য দোয়া করা।

ই’তিকাফে অবস্থান করে আমরা লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করবো এবং সকলের জন্য আল্লার নিকট দোয়া করব।
আল্লাহ আমাদেরকে করোনা সহ সকল প্রকার মসিবত থেকে হেফাজত করুন “আমিন”।

লিখক পরিচিতিঃ
গাজী এমদাদউল্যাহ ফয়েজী।
অধ্যয়নরতঃআল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো মিশর।