উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি,ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত

মাহির খানঃ অবিরাম বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে গত কয়েক দিনে রংপুর অঞ্চলের বিশেষ করে তিস্তা নদের উপকূল বর্তী এলাকা গুলোতে চরম ভাবে দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থি।

রংপুর বিভাগের বেশ কিছু জেলা যেমন লালমনিরহাট,গাইবান্ধা,কুড়িগ্রাম,নীলফামারি জেলা গুলোতে ব্যাপক ভাবে দেখা দিয়েছে এ বন্যা। চরাঞ্চল গুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বসত বাড়ির নেই কোন আলামত ।নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘর বাড়ি।বসত ভিটা গুলো নদীর সাথে মিথালী করছে।ঘর হারানো মানুষ গুলো যেন উদাসীন পথিকের মত হয়ে আশ্রয় হীন হয়ে পড়ছে।তাদের এ চরম ভোগান্তির যেন নেই শেষ।চরবাসী মানুষ গুলোকে দেখে মনে হয় তারা অতল সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে।বিশেষ করে বৃদ্ধ আর শিশুদের নিয়ে তারা পড়েছে নানা মুখী সমস্যায়।তারা বলছে আমরা কী মানুষ? আর মানুষের জীবনে কী বার বার এ ভাবে দু:খ আসে?আমরা চরবাসি মানুষগুলো প্রতিবারে বন্যায় ভেসে সব কিছু হারিয়ে জীবন নিয়ে কোনরকম বেচে থাকি,বন্যা চলেগেলে আমাদের দু:খের সীমা থাকেনা।

চাষাবাদের জন্য যে বীজ রোপন করা হয়েছে তাওতো হারিয়ে বিপাকে পড়েছি আমরা।অসহায় এই পরিবার গুলোর জন্য সরকারি ও বে-সরকারি ভাবে এাণ সহায়তা আসলেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত না হওয়ায় মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। চলমান করোনা সংকটে বিপর্যস্ত এই মানুষগুলোর সাথে বন্য ও নদী ভাঙ্গন যুক্ত হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এযেন, মরার উপর খরার ঘাঁ।রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর সকল পয়েন্ট গুলোতে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ,বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশংকা করছেন তারা। উজানের নেমে আসা ঢলের সাথে অবিরাম বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতির হচ্ছে।

রংপুর অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা যায় পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়া, জুয়ান, রামশিং, শিবদেব ও হাগুরিয়া হাশিম গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং নদী তীরবর্তি অনেকেই বন্যাও ভাঙ্গনের হাত থেকে শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর জন্য প্রাণপন চেষ্টা চালাতে দেখাযায়।

এছাড়াও বন্যা ও ভাঙনের শিকার হাজারো নিঃস্ব মানুষ পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার অভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত চিত্র পরিলক্ষিত হয়।ঠিক একই অবস্থা বিরাজ করছে লালমনির হাটের আদিত মারীর মহিষ খোচা,কালীগঞ্জের বৈরাতি ,চরনোহালী,হাতীবান্ধার গড্ডীমারী,সিংহীমারী,সানিয়াজান সহ রংপুর অঞ্চলের অন্যান্য চরাঞ্চলগুলোতে।

স্থানীয়রা জানায়, চলতি মাসে তিস্তা নদী তীরবর্তী উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের হাগুরিয়া হাশিম গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে চলে যায়। এ ছাড়া পাশের নাউয়া পাড়া এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়ায় ওই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক ঘর বাড়ি ও আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউপি চেয়ারমেন শাহ আব্দুল হাকিম তাম্বুলপুর ইউপি চেয়ারমেন রওশন জমির রবু সরদার বলেন, বন্যার্তদের জন্য সরকারি, বে-সরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। তারা বন্যার্ত অসহায় মানুষগুলোর সংকট লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ত্রাণ, ঔষধ ও আর্থিক সহায়তা দাবী জানান।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে এম তরিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার্ত ও নদী ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলোকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

কোনভাবেই যেন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি না হয় এজন্য জেলা ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।