এই ধনসম্পদ রেখে কোনো লাভ হবে না, মানুষের পাশে দাঁড়ান: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় নিম্ন আয়ের মানুষদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে সরকার সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি সমাজের বিত্তশালীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আমিনের খেলা বোঝা ভার। এ কারণে বলব, এই ধনসম্পদ রেখে কোনো লাভ হবে না। বরং যার যা আছে, বিশেষ করে বিত্তশালী যারা আছেন, আপনারাও মানুষের পাশে দাঁড়ান। এই সাহায্যটাই থাকবে, এটাই মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মনে রাখবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই বিভাগের ১৫টি জেলার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস।

দেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্তে নিহতের সংখ্যা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যাওয়ার সংখ্যাটা অনেক বেশি, এটা আমাদের জন্য অনেক একটা ভালো খবর। কিন্তু আমরা চাই না, এই রোগের প্রাদুর্ভাবটা আরও বৃদ্ধি পাক। আমরা চাই, এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে। আর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশকিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং সবাইকে কাজ করতে হবে।’

করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার জন্য সকলকে কাজ করে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া যারা বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থেকে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, কষ্ট করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

‘এই অবস্থাকে আমাদেরই মোকাবিলা করতে হবে এবং দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা করতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক গতিশীলতা অব্যহত রাখতে হবে। যেহেতু এখন একটা বিশ্বব্যাপী ঘটনা ঘটেছে, খুব স্বাভাবিকভাবে উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে এবং সেখানে মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের বাঙালিরাও অনেক জায়গায় মৃত্যুবরণ করছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক আমাদের জন্য।’- বলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

করোনা সংকট মোকাবিলা চলাকালীন সরকারি সহায়তা বা অন্য কোনো উপায়ে অসুদপায় অবলম্বন করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের দুঃসময় আসলে কিছু লোক তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে বা নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে। মানুষের দুর্ভোগের সময় কেউ যদি সুযোগ নিতে চায় বা টাকা-পয়সা বানাতে চায় বা আমরা যাদের কষ্ট করে দেবো, সেখান থেকে কেউ নয়-ছয় করে বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয় তারা কিন্তু ধরা পড়ে যাবেন, লুকাতে পারবেন না। ধন সম্পদ লুকানো যায় না। তাদের আমরা ছাড়ব না। আমি এতটুকু ছাড় দেবো না, এটা স্পষ্ট।’

‘আরেকটা জিনিস আপনারা লক্ষ্য করছেন, সারাবিশ্বে যুদ্ধ হয় বড় বড় অস্ত্রশস্ত্রে। আর এখানে সামান্য একটা করোনাভাইরাস, যা কেউ চোখে দেখছে না। কারও চোখে পড়েনি, এই জিনিসটি কি? কিন্তু সে এতোই শক্তিশালী সমস্ত বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। সমস্ত বিশ্বই এখন বলতে গেলে স্থবির। ধন-সম্পদ-টাকা-পয়সা, বাড়ি গাড়ি, অথবা যারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মনে করত বিশ্বে সব থেকে শক্তিধর, কথায় কথায় বোম্বিং করছে, কথায় কথায় গুলি করছে, কথায় কথায় মারছে। কোথায় গেল সেই শক্তি? শক্তি নাই? শেষ?’ এভাবেই বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে নিয়ে বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এপ্রিল আমাদের জন্য খুব দুঃসময়ের মাস হিসেবে আসছে জানিয়ে কারও মধ্যে যদি এতটুকু অসুস্থতা দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা যথাযথ আছে, আমরা প্রচুর চিকিৎসা ব্যবস্থা করে রেখেছি। আর যারা চিকিৎসা সেবা দেবেন, তাদের পিপিইসহ সবধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা আছে। কেউ লুকাতে যাবেন না। কারণ একজন লুকাবেন, তিনি আরও দশজনকে সংক্রমিত করবেন। কাজেই সেটা লুকাবেন না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ কেউ আছে যে, এই রকম অসুখ হলে সবাই মনে করছে সে বুঝি অছুঁৎ হয়ে গেল, ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না। তার সঙ্গে দেখা করা যাবে না। এটা কিন্তু না। এই মানসিকতা সবাইকে পরিহার করতে হবে। এখানে মানবিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এটা একটা রোগ। কার কখন হচ্ছে কেউ বলতে পারে না। আজকে যিনি একজনকে ঘৃণার চোখে দেখবেন, কালকে আপনিও সংক্রমিত হতে পারেন? তখন আপনার কি হবে? এই মানসিকতাটা সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। মানুষের জন্যই মানুষ। মানবতা নিয়েই সবাইকে এগুতে হবে। কাজেই আপনারা সেভাবেই সেই মানসিকতা নিয়ে চলুন। দেশবাসীর কাছে এটাই আমার আহ্বান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাঙালি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কাজেই এই ঐক্যের একটা মূল্য আছে। ত্যাগের একটা মূল্য আছে। সেকথাটা মনে রেখে আপনারা কাজ করবেন।’