এক অসহায় ক্রীড়াবিদ পরিবারের সব দায়িত্ব নিলেন তামিম ইকবাল

প্রকাশিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক: খবরটি শুনে তামিম ইকবাল নিজেই ফোন করেছিলেন সামিউল ইসলামকে। গত অক্টোবরে জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জেতা এই অ্যাথলেট কয়েক দিন ধরেই বিজেএমসির চাকরি হারিয়ে অভাবে দিন কাটাচ্ছিলেন রোজগারহীন এই দৌড়বিদ। আগামী তিন মাস তাঁর পরিবারের সব দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

বিজেএমসিতে অস্থায়ী পদে চাকরি করতেন সামিউল। বেতন নগণ্যই ছিল। খেলোয়াড় হিসেবেই পেয়েছিলেন চাকরিটা। কিন্তু জানুয়ারির শেষ নাগাদ অস্থায়ী পদে চাকরি করা মোট ২৬৫ জন খেলোয়াড় ও কোচকে ছাঁটাই করে দেয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটি। করোনার এই সময় রীতিমতো অর্ধাহারেই দিন কাটছে তাঁদের। একটি ইংরেজি দৈনিক থেকে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ সামিউল সম্পর্কে জেনেই এগিয়ে এসেছে দেশের অন্যতম এই ক্রিকেট তারকা।

অক্টোবরে জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটারে ১১.৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছিলেন সামিউল। ভালো অ্যাথলেট হওয়ার জন্যই বিজেএমসির চাকরিটা হয়েছিল। এর পাশাপাশি ফুটবল খেলেও আয়–রোজগার খারাপ ছিল না তাঁর। নিজ জেলা খুলনায় ভালো ফুটবলার হিসেবে খ্যাতি থাকায় খেপ খেলে আয়–রোজগার ভালোই ছিল। তা দিয়েই পরিবারে বড় অবদান রাখতেন সামিউল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে সেই আয়ও বন্ধ।

বাড়ির বড় ছেলের আয়–রোজগার নেই। লকডাউনে বাবার মুদি দোকানটাও বন্ধ। ছয় সদস্যের ( মা-বাবা ও চার ভাইবোন) পরিবারে রীতিমতো আঁধারই নেমে এসেছে। তামিম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পর এখন হয়তো একটু স্বস্তি মিলবে তাঁদের।

সামিউল জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকার এই মহানুভবতায় আপ্লুত, ‘তামিম ভাই আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমার ও আমাদের পরিবারের খোঁজখবর নিলেন। মাসে আমাদের পরিবারের খরচ কেমন, সেটাও জিজ্ঞেস করলেন। বিকাশে সে অনুপাতে তিন মাসের খরচ পাঠিয়ে দিয়েছেন। এটা আমার পরিবারের অনেক বড় পাওয়া। আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

তামিম নিজেও ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি ওপেনার জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সামিউলের পরিবারকে আরও সহায়তা দেবেন তিনি।