এরিকএরশাদকে নিয়ে জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে বিদিশার অভিযোগ

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ছেলে এরিক এরশাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিস্তর অভিযোগ এনেছেন তার মা বিদিশা। এরশাদের বারিধারার ফ্ল্যাটে থাকা অটিস্টিক এরিককে ‘চরম অবহেলা করে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটানো হয়েছে’ বলে মূল অভিযোগ বিদিশার। তার অভিযোগের তীর এরশাদের ভাই ও জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের দিকে।

চলতি বছর জুলাইয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের মৃত্যুর পর ছেলে শাহতা জারাব এরিককে নিজের কাছে রাখতে চাইছিলেন মা বিদিশা। তবে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকা এরিকের সঙ্গে দেখা করাটা সহজ ছিল না বলে জানান বিদিশা। তার অভিযোগ, এরিকের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা তাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে ‘বাধা দিতেন’।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘একরকম জোর’ করেই বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের বাসভবনে উঠে পড়েন বিদিশা। ওই ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তার তরুণ ছেলে এরিক।

বিদিশা রোববার বলেন, “এরিকের একটা ফোন পেয়ে আমি এসেছি। ওরা (কর্মচারীরা) এরিককে খেতে দিচ্ছে না। গাড়ির চালক আওয়াল (এরশাদের ব্যক্তিগত গাড়িচালক) তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। ও আমাকে বলল যে ভয় পাচ্ছে। আমি সাথে সাথে চলে আসি।”

এখনও ওই ফ্ল্যাটে থাকা বিদিশা বলেন, “সেদিন রাতে এসে শুনি, এরিককে ওরা রাতের খাবার খেতে দিত না। এরিকের ওজন কমে গেছে। সে নিজেও খুব ভীতিসন্ত্রস্ত ছিল।” এদিকে এরিকও সাংবাদিকদের বলেছেন, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে তিনি ‘কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’।

রোববার বিকালে বিদিশা তার ফেইসবুকে পেইজে এরিকের একটি ভিডিও আপলোড করেন। তাতে এরিককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশে বলতে দেখা যায়- “প্রিয় হোম মিনিস্ট্রি আঙ্কেল, আমি এরিক বলছি। আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে খেতে দেওয়া হত না।

“আমার লিগ্যাল গার্জিয়ান আমার চাচা জি এম কাদের না, আমার মা। সেক্ষেত্রে ওনার (জি এম কাদের) তো কোনো রাইট নাই, আমাদের এরকম টর্চার করার।” প্রেসিডেন্ট পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো ‘ঝামেলা না করে’ তার অনুরোধও করতে দেখা যায় এরিককে।

এরিকের দায়িত্ব নিয়ে এরশাদ-বিদিশার লড়াই আদালতে গড়িয়েছিল। ২০০৫ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর এরশাদের দেওয়া মামলায় গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল বিদিশাকে। পরে আদালতের মাধ্যমে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ। বারিধারার বাড়িতে এরিককে নিয়ে থাকতেন তিনি।

এরশাদ তার মৃত্যুর আগে এরিকের ভরণপোষণের জন্য ট্রাস্ট গঠন করে যান। সেই ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন এরশাদের ভাতিজা ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খালেদ আখতার। এরিকের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় বিদিশার অভিযোগ রয়েছে খালেদের বিরুদ্ধেও।

তবে খালেদ উল্টো বিদিশাকে দোষারোপ করে বলছেন, “তিনি (বিদিশা) প্রায় উটকো লোক নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে আসেন। চেয়ারম্যান স্যারও তার জীবদ্দশায় বলে গেছেন, বিদিশা যেন এই বাড়িতে না আসে।” আপনাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে বিদিশা বলেন, “আমাকে না। আমার স্বজনদের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।”

এদিকে জি এম কাদেরকে উদ্দেশ করে বিদিশা বলেন, “এরিককে নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন। আমি মুখ খুললে কিন্তু অনেকের অনেক রাজনৈতিক সমস্যা হতে পারে।” এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা। এরশাদের মৃত্যুর পর দলের কর্তৃত্ব নিয়ে রওশনের সঙ্গে কাদেরের বিরোধ দেখা দিয়েছিল।

পরে তাদের সমঝোতা হয়; যাতে কাদের হন দলের চেয়ারম্যান, রওশন হন সংসদে বিরোধী দলের নেতা। এরশাদের রংপুরের আসনে সংসদ সদস্য হন রওশনের ছেলে শাদ এরশাদ। বিদিশা বলেন, তিনি এরিককে নিয়ে থাকতে চান।

কোথায় থাকতে চান- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এরিক যেখানে থাকতে চাইবে, আমি সেখানেই থাকব। সে যদি এখান থেকে আমার গুলশানের বাসায় থাকতে চায়, তাও আমি মানব। আর এটা তো (প্রেসিডেন্ট পার্ক) তো এরিকেরই বাড়ি।” বিদিশার এসব অভিযোগের বিষয়ে খালেদ আখতার বলেন, “অপেক্ষা করেন ক’দিন। তারপর আমাদের চেয়ারম্যান সব বলবেন।”