বিভাগ - সারাদেশ

কবর ধুয়ে পানি খেলে যেকোনো মুসিবত দূর হয়ে যাবে এমন গুজবের হাওয়া বইছে শ্রীপুরে

প্রকাশিত

টি.আই সানি,গাজীপুর: কবর ধুয়ে পানি খেলে সকল বালামুসিবত দুর হয়ে যাবে বলে গুজব ছড়িয়ে পরেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামে। এমন ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরায় উপজেলার আব্দুস সামাদের বাড়িতে মানুষে ঢল । স্থানীয়রা বলেন একই পরিবারের ৪ সদস্যের উপর জ্বীনের আছর পড়েছে বলে এলাকায় গুণঝন মানুষের মুখে মুখে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়,গত (৩০ জুন) বিকালে রতন শেখের স্ত্রী শিখা আক্তার (৩০) প্রথমে জ্বীনের আছর করে,পরে আব্দুস ছামাদের মেয়ে শাহিনুর (২৫) কে,তার পর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া(২৩) এবং একই পরিবারের রুবেলের স্ত্রী আসমা বেগম (২৪) এই পাঁচ জনকে জ্বীনে ধরেছে বলে এলাকায় ছড়িয়ে পরেছে। এতে ওই বাড়ীতে মানুষের ঢল নেমেছে ।

প্রথমে শিখার পেটে ব্যথা হয় তার জন্য পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা ভালো হলেও ১ জুলাই থেকে মানসিক ভারসাম্য হীনের মতো আচরণ শুরু করে শিখা। ২ জুলাই হতে আব্দুস সামাদের মেয়ে শাহিনুর (২৫), ছেলে উজ্জ্বল (২৩) এবং ৩ জুলাই হতে একই পরিবারের রুবেলের স্ত্রী আসমা বেগম (২৩) অন্য রকম আচরণ শুরু করে। এবং বাড়ীর পাশে দাদা মৃত রজব আলী শেখের কবরের উপরে লালসালু টানাতে বলে সকলকে মিলাদ পড়তে বলে এবং কবর ধুয়ে পানি খেতেও বলেন সকলকে। কবর ধুয়ে পানি খেলে নাকি যেকোনো বালা-মুসিবত দূর হয়ে যাবে।

পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি বরমীর এক কবিরাজ হাকিমের কাছে গেলে এদেরকে জ্বীনে ধরেছে বলে তিনি জানান ওই পরিবারকে। পরে ওই অসুস্থ জ্বীনে ধরা রোগীদের কথামতো পরিবারের লোকজন ওই কবরে উপরে লালসালু টানিয়ে দেন এবং কবরের পাশেই তারা পাটি বিছিয়ে অবস্থান করেন। পরিবারের লোকজনের দাবি মৃত রজব আলী শেখ শাহজালাল মাজারের মুরিদ ছিলেন আর এই জ্বন শাহজালাল মাজার থেকে এসেছে। জ্বীনের কথা মতোই কবরে উপরে লালসালু টানানো হয়েছে। এইরকম গুজব সংবাদে এলাকায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি তাদেরকে জ্বীনে আছর করেনি আর তারা মানসিক রোগীও নয় রোগীরা নিজেদেরকে জ্বীনে ধরা বলে অভিনয় করছে এবং একটি গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা তাদের নিজস্ব একটি লক্ষ্য পূরণের জন্য জ্বীনে ধরার অভিনয় করছে। কেউ যদি তাদেরকে দেখতে যায় তাহলে তাদের সাথে অশোভন আচরণ করছে।

কাওরাইদ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, আমি এমন বিষয়টি শুনে তাদের বাড়ীতে গিয়েছিলাম। কিন্তু জ্বীনে ধরা রোগীর যে ধরনের লক্ষণ থাকার কথা তাদের ভিতর নেই। তারা বেশি লোকজন দেখলেই এরকম আবোল তাবোল শুরু করে এবং লোকজনকে মারধরের অভিযোগের কথা শুনেছি। মূলত তারা ওই কবরকে মাজারে পরিণত করবে এটাই তাদের উদ্দেশ্য। আমি কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নিব।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, জিনে ধরার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।