করোনাকালে অফিস যাত্রা

প্রকাশিত

মুঃ সালাহ উদ্দীন

সকাল বেলা তাড়াতাড়ি উঠে গেলাম,
অফিস খুলেছে অনেক দিন পরে।
লকডাউন থাকার কারণে সকালের ঘুমটা ভাঙ্গতো প্রায় দুপুরে;
কিন্তু অফিস খোলার কারণে এলার্মের সাহায্যে ঘুম ভেঙ্গে গেল।

হালকা নাস্তা করে ঘর থেকে বের হলাম অফিসের উদ্দ্যেশে,
আগে যেখানে বাসার নিচে বাজার করতে যেতে ভয় লাগতো এখন সেখানে অফিসে যেতে হচ্ছে জীবিকার তাগিদে,
মনের মধ্যে প্রচুর ভয় কাজ করতেছিলো সারা শহর চেয়ে গেছে করোনার।

অদৃশ্য করোনা কার শরীরে বসবাস করতেছ কে জানে!
আব্বা বলেন সাবধানে চলাফেরা করিস,
আম্মা বলেন, মানুষ থেকে দূরে থাকিস।
কিন্তু কতটা সাবধান থাকা যাবে মানুষের সংস্পর্শে গেলে!

যাই হোক জীবন মানে যুদ্ধ, জীবন যুদ্ধে টিকে থাকাটা একজন যুদ্ধার কাজ। মনে খানিকটা ভয়, খানিক সংশয়
আর দূঢ় মনোবল নিয়ে বের হলাম বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার উদ্দ্যেশে। যেখানে করোনার ভয়ে দীর্ঘ ৬৬ দিন বাসা থেকে বের হওয়ার সাহস পায়নি।

কিন্তু জীবিকার কাছে জীবনের পরাজয় হলো!
কারণ জীবিকা না থাকলে জীবনটা ও অনিশ্চিত প্রান্তে পৌঁছায়!
আর করোনা ভাইরাস সর্তক করে দিল তা সহজে যাচ্ছে না পৃথিবী থেকে;
সুতরাং করোনাকে সঙ্গী করে চলতে হবে আমাদের।

সারা শহরে ছড়িয়ে যাওয়া করোনা নোটিশ দিয়ে গেল
সাবধান হতে হবে আমাদের, অনেক বেশি সচেতন হতে হবে।
মনে করতে হবে আমি ছাড়া সবাই
করোনা রোগী সেই হিসাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

হেঁটে অফিসে যাওয়া দরকার হলে ও তা হচ্ছে
কারণ অফিস একটু দুরে।
শেষ পর্যন্ত সন্দেহ আর সংচয় দুর করে রিক্সায় গন্তব্য করলাম অফিসের পথে। কিন্তু ভয়টা আরো বাড়তে লাগলো, রাস্তায় অনেক গাড়ী,
সামাজিক দুরত্ব বলতে কিছু নেই
মাস্ক বিহীন মানুষের সংখ্যা চোখে পড়লো বেশি;
অনিশ্চিত এক যাত্রায় পতিত হচ্ছি নাতো আমরা।

অফিসে পৌঁছলাম ৪০ মিনিট রিক্সায় চড়ে,
পরিচিত মুখগুলোকে দেখলাম অনেকদিন পড়ে
অপরিচিত মানুষের মত!
মুখোশে মুখটা ঢেকে গেছে সবার, সহজে যাচ্ছে না চেনা কাউকে। দুর থেকে বলতে হচ্ছে কথা, নেই কোন করমর্দন আর কোলাকুলি!
করোনা যেন মানুষে মানুষের দূরত্বটা বাড়িয়ে দিলো!

তবে ইদের পরে প্রথম অফিস হওয়াতে
অফিসের ইদ আজকে;
সবার মনে ইদের আনন্দ যেন খানিকটা মলিন করে দিয়েছে অদৃশ্য করোনা নামক ব্যাধি।
নেই কোন কোলাহল আনন্দের
সব কিছু যেন থমকে আছে বিষাদের রুপে!

অনেকের কাছে আবার বেদনার সুর পরিচিতজন হয়েছে আক্রান্ত এই ব্যাধিতে। যেন এক সুনীল আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর হঠাৎ বজ্রপাত!
সামাজিক দূরত্বে ৬৬ দিনের জমানো কথা আর শুভেচ্ছা বিনিময় আর খানিকটা কাজ করে বের হলাম অফিস থেকে।

মুখোশ মানব হয়ে আবার উঠলাম রিক্সায় বাসায়
ফেরার গন্তব্যে;
রিক্সায় প্যাডেল ঘুরার সাথে সাথে মনে পড়ে অজানা এই অদৃশ্য সঙ্কার কথা।
কবে করোনা মুক্ত হবে এই শহর, এই দেশ, এই পৃথিবী।

অতৃপ্ত বাসনা এই মনের গহীনে
রিক্সায় প্যাডেলে যেমন দুরত্ব অতিক্রম করে চলে যায় আমরা নিজ গন্তব্যে;
ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাস দূর হয়ে যাবে এই পৃথিবী থেকে,
করোনামুক্ত একটা সুনীল আকাশের নিচে উপভোগ করবো সুন্দর একটি সকাল।

যতদিন না যাচ্ছে না এই অদৃশ্য ভাইরাস
ততদিন মনোবল ঠিক রেখে চলতে হবে আমাদের।
মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি,
করোনার সাথে যুদ্ধ করে থাকতে হবে প্রতিনিয়ত!
মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখলে এই যুদ্ধে বিজয় সুনিশ্চিত হবে আমাদের
অবশ্যই আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন।

_________মুঃ সালাহ উদ্দীন
___________কবি, লেখক
_____________চট্টগ্রাম