করোনার আতঙ্কে এবার ঈদে নতুন ছবি নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত

বিনোদন ডেস্ব: ঢাকার বাইরে দু-একটি ছবির শুটিং চললেও ঢাকায় অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সিনেমার সব শুটিং। ১৮ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সিনেমা হল বন্ধ থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী রোজার ঈদের জন্য মুক্তির তালিকায় থাকা সিনেমাগুলো কি অনিশ্চয়তায় পড়ছে, এমন প্রশ্ন জেগেছে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে।

করোনার আতঙ্কে ঈদের জন্য ঘোষিত শাকিব খানের ‘নবাব এলএলবি: ব্যাক ফর জাস্টিস’ ছবির শুটিং অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ছবির শুটিং শুরুর কথা ছিল ২৮ মার্চ, কিন্তু করোনার প্রভাবে নির্ধারিত তারিখে শুটিং হচ্ছে না বলে জানান ছবির পরিচালক অনন্য মামুন। তিনি বলেন, ‘যদি আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে শুটিং করতে পারি, তাহলে ঈদে আসবে ছবিটি। তা না হলে ঈদে ছবিটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়।’

ঈদুল ফিতরে সম্ভাব্য মুক্তির তালিকায় থাকা বাকি চারটি ছবি হলো ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির প্রথম পর্ব, ‘শান’, ‘বিদ্রোহী’ ও ‘মন দেব মন নেব’। করোনার আতঙ্কে সবকিছু স্থবির হয়ে যাচ্ছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য সিনেমা হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের ছবিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন প্রযোজকেরা? ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির প্রযোজক ও পরিচালকদের একজন সানী সানোয়ার বলেন, ‘কিছুটা অনিশ্চয়তা আছেই। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ভালো নয়। এখন কবে পরিস্থিতি ভালো হবে, তার কোনো ঠিক নেই। যদি মাসখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি ভালোও হয়, তারপরও কিছুটা আতঙ্কে থাকব। এ পরিস্থিতিতে সংঘবদ্ধভাবে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যাবেন কি না, তা-ও ভাবার বিষয়।’

সানী সানোয়ার আরও বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ করছি। যদি দেখি পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে না, তাহলে ঈদে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে কাছাকাছি সময়ে মুক্তি দেওয়ার চিন্তা করব।’ ‘মন দেব মন নেব’ ছবির পরিচালক রবিন খান মনে করেন, অনিশ্চয়তার মধ্যেও ঈদে ছবি মুক্তি দিতে প্রস্তুত থাকবেন তাঁরা। তিনি বলেন, মাসখানেকের মধ্যে এ পরিস্থিতি ভালো না হলে অনিশ্চয়তা থেকে যাবে। কারণ, পরিস্থিতি ভালো হলেও মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরতে ১৫ থেকে ২০ দিন লেগে যাবে। তারপরও এ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঈদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এ ব্যাপারে ‘শান’ ছবির প্রযোজক আজাদ খান বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে ঈদের সব ছবির জন্যই সমস্যা। তবে ঈদ আসতে এখনো অনেকটা সময় আছে। তাই মনে করি, সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সময় আছে।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদের ছবিগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে কি না, এ ব্যাপারে সাবেক প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও চন্দ্রিমা সিনেমা হলের মালিক কাজী সোয়েব বলেন, ‘পরিস্থিতি ভালো না হলে ঈদই হবে না। সিনেমা তো পরের কথা। তবে আমার বিশ্বাস, এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।’

error4
Tweet 20