করোনায় ভয় নেই ওদের, রোদ বৃষ্টি ঝরে মাঠে কাজ করে সোনালী ফসল ফলায় ওরা

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে দিশেহারা তখনও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সোনালী ফসলের কারিগররা দিনভর রোদ বৃষ্টি ঝর উপেক্ষা করে মাঠেই কাজ করেন। করোনা কে ওরা ভয় পায় না ওরা চায় মহান আল্লাহর করুনা। সরেজমিনে মাঠে গিয়ে কথা হয় সোনালী ফসল ফলান কারীগরদের সাথে, রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় জবাব ‘হামরা গরীব মানুষ,করোনা হোক আর যাই হোক প্যাটোৎ তো ভাত দেওয়া নাগবে, তাই নিজের ফসলের জমিতে কাজ করি ও অন্যের ফসলেও কাজ করি, কথা গুলো গর্বের সাথে বললেন উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজুল শ্রমিক রেনু বালা, কাজলী, রাজিলা। তারা বলেন এ্যালা জামরা (যারা) করোনা নিয়ে কাজ করছে (তামার) তাদের ভবিষ্যতের খাবার তো হামাকেই ফলাতে হইবে (হবে)। ’রংপুরের কাউনিয়ায় উত্তরাঞ্চলের উপজেলা গুলোর মধ্যে সব চেয়ে বেশী বোরো চাষ হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায় চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো চাষ হয়েছে ৭ হজার ৫’শ হেক্টর জমিতে, আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার মেট্রিক টন যা উপজেলার ৮৩টি গ্রামের ৩ লাখ মানুষের খাবার জোগিয়েও দেশের অন্যত্র রপ্তানি হবে। উল্লেখ্য এ উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের পেট পুরে খাবার জন্য লাগে ৩০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য। বাকি ১৫ হাজার মেট্রিক টন খাবার চলে যায় দেশের অন্য জেলার মানুষের খাবার চাহিদা মেটাতে। বর্গা নেয়া জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার সময় কথা হয় উপজেলার বুড়িডোবা গ্রামের আঃ সামাদ এর সাথে তিনি জানান এ্যালা ধানের দাম ভালো তাই ধানতো আর পোঁকাক খাবার দিবার পারি না ? সে জন্য জীবনের বাঁজি রেখেই সারাদিন ক্ষেতে কাজ করি। সেচ ও জমিতে পানি দেয়ার বিদ্যূতের সমস্যা আছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে আঃ সামাদ জানান এখন আর বিদ্যূৎ সমস্যা হয় না তাই সেচ দিতেও সমস্যা নেই। এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলমের সাথে তিনি জানান আবওহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকুল রয়েছে,বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ উপজেলায় বোরো’র বাম্পার ফলন হবে। তবে তিনি কৃষকদের মাস্ক পরে মাঠে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।