করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও এক সাংবাদিকের মৃত্যু

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সিনিয়র সাংবাদিক সুমন মাহমুদ মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

তিনি স্ত্রী বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. শাহিদা পারভীন, মেয়ে জার্মানিতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার শর্মিষ্ঠা ও ছেলে ডাক্তার সৌরভসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শুক্রবার রাতে তাকে বনানীর একটি কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরশায়িত করা হয়েছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

অধুনালুপ্ত গণকন্ঠের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের শুরু করেছিলেন সুমন। এরপর সাপ্তাহিক লড়াই, সাপ্তাহিক সমীক্ষণ পত্রিকা হয়ে আজকের কাগজে যোগদান করছিলেন তিনি। পরে ভোরের কাগজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ যুক্ত ছিলেন সুমন। বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির বার্তা সম্পাদক হিসাবেও কর্মরত ছিলনে তিনি। সবশেষ সহকারী সম্পাদক হিসাবে ভোরের কাগজ থেকে অবসরে যান।

সাংবাদিক সুমনের ভাই কর্নেল (অব.) মঞ্জুর আহমেদ হেলাল জানান, জামালপুর জেলার মেলানদহ থানার পাঁচতইলা গ্রামের মরহুম নিজামউদ্দিন আহমেদের ছেলে সুমন। বর্তমানে রাজধানীর আসাদ এভিনিউয়ের একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। গত ১২ মে থেকে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। যেহেতু শ্বাসকষ্ট করোনার উপসর্গ তাই সুমন মাহমুদকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে থাকা সম্ভব নয় ভেবে সুমন মাহমুদকে বাসায় নিয়ে আসলে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে।

তিনি আরো জানান, পরে ওই দিন রাতেই আজগর আলী হাসপাতালে সুমনকে ভর্তি করানো হয়। পরো ১৩ তারিখ শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে যায় তার। ১৪ তারিখ থেকে নেবুলাইজার দেওয়াসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ওই দিন থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। এর মাঝখানে দুইবার করোনা টেস্ট করানো হয়। যার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

শুক্রবার বিকেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বর্ষীয়ান এই সাংবাদিককে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান মঞ্জুর আহমেদ হেলাল।