বিভাগ - অপরাজিতা

‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ৭৩ শতাংশ অভিবাসী নারীকর্মী বিদেশে নির্যাতনের শিকার’

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ৭৩ শতাংশ অভিবাসী নারীকর্মী বিদেশে নির্যাতনের শিকার হন। ৫টি দেশ থেকে ফেরত আসা ও কর্মরত ২৪১ জন অভিবাসী নারীকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এক সমীক্ষায় এই তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র (বিএনএসকে)। শুক্রবার (১০ জুলাই) ইউকে এইডের প্রকাশ প্রজেক্টের অর্থায়নে বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র ও আই. আই. ডি আয়োজিত ‘ওমেন মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইন কোভিড-১৯ পেন্ডেমিক: রোল অব এম্বেসিজ’ শীর্ষক এক অনলাইন ওয়েব কনফারেন্সে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। বিএনএসকে’র পক্ষ থেকে সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম এবং ড. সৈয়দা খালেদা মুহিব।

বিএনএসকে’র সমীক্ষার তথ্য থেকে আরও জানা যায়, ৭৮ শতাংশ নারীকর্মী এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ৩ বেলার খাবার ঠিক মতো পান না। তাছাড়া ৬৫ শতাংশ ফেরত আসা নারী কর্মী বলছেন—তারা করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় কোনও সুরক্ষাসামগ্রী পাননি। করোনা পরিস্থিতির কারণে যারা ফিরে এসেছেন তাদের মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ সম্পূর্ণ বেতন পেয়েছেন, ৪১ শতাংশ নারী তার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পুরো বেতন পাননি এবং ৩৫ শতাংশ কোনও বেতনই পাননি।

বিএনএসকে’র পক্ষ থেকে সুপারিশে বলা হয়, নারীকর্মীদের জন্য বিদেশে আরও সেফ হাউজ প্রয়োজন, নারীকর্মীদের নিজ দেশে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সহায়তা দরকার। অভিবাসী নারীকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণের আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

ওয়েব কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন অভিবাসীর অধিকার রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেন এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকার অনুদান, প্রণোদনা জেন্ডার বেইজ সহযোগিতা, ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘অভিবাসী কর্মীদের জন্য ইতোমধ্যে সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম অভিবাসীর অধিকার-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ করে নারী অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষায় গ্রিভেন্স মেকানিজম সার্ভিসসহ সব ধরনের বাজেট, রিইন্টিগ্রেশন সিস্টেমের ওপর জোর দেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন নারী অভিবাসনকে মর্যাদা ও সম্মানের বিষয় বলে মনে করেন এবং তাদের রিইন্টিগ্রেশন, সাইকোসোশ্যাল, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সাপোর্টে সরকারি দ্বায়বদ্ধতার নিশ্চয়তার বিষয় নিশ্চিত করেন।

প্যানেল আলোচনায় যুক্ত ছিলেন জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। তিনি করোনা মহামারিসহ সব সময় অভিবাসী শ্রমিকের বিশেষ করে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের পাশে আছেন এবং থাকবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন—গেয়াটডাব্লিউ’র আন্তর্জাতিক সমন্বয়ক ড. বন্দনা পাটনায়েক, প্রকাশ প্রকল্পের টিম লিডার জেরি ফক্স, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি এজার বোস, জর্ডানের মানবাধিকারকর্মী মারভেট আল জুমহাউই, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগামের হেড শরিফুল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা।