করোনা সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ নিতে সর্বদলীয় সভার আহ্বান

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। এ জন্য অবিলম্বে সর্বদলীয় সভা ডাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভা থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্স সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা শহিদুল ইসলাম সবুজ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক।

সভার বাম জোট নেতারা বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পৃথিবীর কোনো দেশের সরকারের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের দেশেও সরকার বা সরকারি দলের একার পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব না। তাই আমরা শুরু থেকেই এ পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞদের ঐক্যবদ্ধ করে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার এখনো আমাদের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সভা থেকে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে দ্রুত এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ নিতে সর্বদলীয় সভা আহ্বানের জন্য ফের সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, ব্যক্তি গোষ্ঠীকে করোনা সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে এসে সীমিত সম্পদ-সামর্থ্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।

সভায় আরেক এক প্রস্তবে দেশের ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা, শ্রমজীবী-হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, কৃষিতে মনযোগহীনতা, ত্রাণ স্বল্পতা ও বিতরণে দলীয়করণ এবং সর্বোপরি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সমন্বয়হীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সভার প্রস্তাবে দেশের শ্রমজীবী, হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষদের ঘরে ঘরে আগামী ৬ মাসের খাদ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা, মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্প মূল্যে রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। সভায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ানো ও আসন্ন বোরো মৌসুমে ধান কাটার জন্য কৃষি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়তের জন্য সরকারি উদ্যোগে ব্যবস্থাপনার দাবি জানানো হয়।

সভার প্রস্তাবে বলা হয়, এ মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ করে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি-কৃষক রক্ষায় মনযোগ দেওয়া এবং সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা জরুরি। মৎস্য, পোল্ট্রি, ডেইরিসহ কৃষি উৎপাদন, বিপণন চেইন সুরক্ষাও বিশেষভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।