করোনা সচেতনতায় কুতুবদিয়াবাসী প্রতি ওসির বার্তা

প্রকাশিত

বিশ্বব্যাপী চলমান আতঙ্কের নাম নভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯। সচেতন হলেই যার সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। তাই সরকারের নির্দেশনায় এই ভাইরাস সম্পর্কে কুতুবদিয়াবাসীকে সচেতন করতে কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দিদারুল ফেরদৌস বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও খাদ্যদ্রব্য বিতরণের পাশাপাশি কুতুবদিয়াবাসীর জন্য একটা বার্তা প্রকাশ করেছেন। পাঠকের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর জন্য ওসির বার্তাটি হুবহু প্রকাশ করা হলো:

প্রিয় কুতুবদিয়াবাসী,

ভালোবাসা এবং সালাম নিবেন। আশা করি আপনারা সবাই বর্তমান সময়ের বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন। ‘করোনা’ নামক ভাইরাসের মহামারী সংক্রমণ আজ বিশ্বের ১৯০ টি দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন অবধি সারা বিশ্বে ৮,৬১,১১৯ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে মারা গেছেন এমন লোকের সংখ্যা ৪২,৩৮৫ জন। এই তথ্য উপাত্তই প্রমাণ করে আমরা স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এবং দূর্বিষহ একটা সময় অতিবাহিত করছি।

এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যযথাসময়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দেশের জনসাধারণকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ অর্থাৎ বাড়িতে অবস্থান করতে বলেছেন। আমরা, বাংলাদেশ পুলিশ জানি এই লকডাউনের ফলে দেশের গরীব, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষ নিদারুণ সমস্যায় পতিত হয়েছে। তাদের অনেকেই হারিয়েছেন চাকরি আবার অনেকের বন্ধ হয়ে গিয়েছে আয়ের একমাত্র উৎস। সারাদেশের এসব গরীব, মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষদেরকে এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে।

দেশব্যাপী পুলিশের নানা জনকল্যাণমুখী ও মানবিক কাজের অংশ হিসেবে আমরা কুতুবদিয়া থানা পুলিশও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, কুতুবদিয়া থানায় কর্মরত প্রত্যেক অফিসার ও ফোর্সদের ৩ দিনের বেতনের টাকা দিয়ে আমরা ‘করোনা সহায়তা তহবিল’ গঠন করেছি। কুতুবদিয়ার বেশ কয়েকজন জনদরদী বিত্তবান মানুষও এই উদ্যোগে আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

কুতুবদিয়া থানার ‘করোনা সহায়তা তহবিল’ থেকে আমরা ইতিমধ্যে লকডাউনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ কুতুবদিয়ার রিকশা, টমটম, টেম্পু ও জীপ চালকদের ২০০ পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। এছাড়া আমরা গত দুই দিনে আরো অন্যান্য ১৫০ শ্রমজীবী মানুষের পরিবারসহ সর্বমোট ৩৫০ পরিবারের কাছে ৭দিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।

প্রিয় কুতুবদিয়াবাসী, আমি আপনাদেরকে একটা বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাচ্ছি যে, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এখন করোনা আক্রান্তের শেষ পর্যায়ে অবস্থান করছে অর্থাৎ আগামী কিছুদিন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টাই নির্ধারণ করে দিবে আমাদের ভবিষ্যৎ অবস্থা কি হবে। তাই আমি আপনাদেরকে হাতজোড় করছি, মিনতি করে বলছি এই সময়ে আপনারা কেউ অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হবেন না, এদিক সেদিক ঘোঁরাঘুরি করবেন না, আমাদের সাথে চোর-পুলিশ খেলার চেষ্টা করবেন না। আমি, আপনি, আমাদের সকলের কল্যাণের জন্য সর্বোপরি আমাদের প্রিয় দেশের মঙ্গলের জন্য আপনারা ঘরে অবস্থান করবেন। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা মেনে চলবেন।

বর্ধিত লকডাউনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা কুতুবদিয়া থানা পুলিশ শ্রমজীবী ও গরীব লোকদের সহায়তা করার জন্য আরো কিছু খাদ্যসামগ্রী মজুদ করে রেখেছি। আপনাদের কারো ঘরে যদি খাবার না থাকে কিংবা আপনাদের আশেপাশে কেউ যদি অভুক্ত থাকে তাহলে আপনারা নিঃসংকোচে আমাদের নিম্নোক্ত হটলাইন নাম্বারে ফোন দিয়ে জানাবেন। আমার কুতুবদিয়া থানা পুলিশ আপনার দোরগোড়ায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিবে। তার পাশাপাশি আমি কুতুবদিয়ার বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ করব দয়া করে আপনি আপনার বাড়ির পাশের গরীব লোকটির খবর, একটু মানবিক হোন। দেখুন এই দুর্যোগকালীন সময়ে কেউ যাতে না খেয়ে না থাকে। মনে রাখবেন এখনই যাকাত দানের উত্তম সময়।

প্রিয় কুতুবদিয়াবাসী, অন্তরে বিশ্বাস রাখেন, আমি, আপনি সকলের সম্মিলিত প্রয়াসই পারে এই ক্রান্তিকালীন সময় থেকে আমাদের মুক্তি দিতে। ধৈর্য ধরুন, বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি ভরসা রাখুন। নিরাশ হবেন না।

আমাদের সচেতনতা ও মানবিকতার সংক্রমণ করোনার সংক্রমণ কে পরাস্ত করবে ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে, কুতুবদয়িার থানার হটলাইন নাম্বারঃ ০১৮৪৩৩৩৩১৪৪, ০১৭৭৭৮১০০৪৬।