কর্মজীবী নারীরাই বেশিদিন বাঁচেন, গবেষণার তথ্য

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: ‘পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’- কবির এই একটি বাক্যে নারী-পুরুষের মধ্যে থাকা সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়েছে। তাইতো কর্মজীবী পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে এখন নারীদেরও সংখ্যা বাড়ছে।

নারীরা ঘরে-বাইরে সমান দক্ষতার সঙ্গে সবকিছু সামলেও নিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়েও বেশি দক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছেন নারীরা। ব্যবসা, প্রকৌশল, শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প- সবক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন সমান তালে। সেই সঙ্গে সংসারটাও সামলাচ্ছে বেশ। কিন্তু সবদিক ঠিক রেখে চলতে গিয়ে নারীরাও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এক সময় হয়তো ধৈর্যহারা হয়ে পড়েন।

তবে কর্মজীবী নারীদের জন্য রয়েছে একটি সুসংবাদ। যেসব নারী প্রাথমিক জীবন থেকেই কর্মজীবী হন, তারা অবসরের পরেও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং সুখী থাকেন, এমনটাই বলছে গবেষণা। চলুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে-

কর্মজীবী নারী হতাশায় কম ভোগেন
জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ-এ পরিচালিত গবেষণা অনুসারে, কর্মজীবী নারী কাজ থেকে অবসর নেয়ার পরে কেবল সুস্বাস্থ্যই উপভোগ করেন না, তারা কর্মহীনদের তুলনায় অনেক কম হতাশায় ভোগেন। গবেষণামূলক বিজ্ঞানী জেনিফার ক্যাপুটোকে উদ্ধৃত করে ডেমোগ্রাফি জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে, এই গবেষণার অনেক নারী নিম্ন-মর্যাদায় ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ-অধ্যুষিত ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এমনকি প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা বাড়ির বাইরে কাজ না করে এমন নারীর চেয়ে পরবর্তী জীবনে সুখী ছিলেন।

কর্মজীবী নারী বেশি সুস্থ থাকেন
১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া ৩৬ বছরের দীর্ঘ জরিপে ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৫,১০০ কর্মজীবী নারীর পেশাগত এবং ব্যক্তিগত অগ্রগতি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিষয়ের বিশ্লেষণ করা হয়েছে তাদের ৬৬ থেকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত। জরিপের ফলাফল বলছে, যেসব নারী তাদের তরুণ বয়স থেকে অন্তত ২০ বছর ধরে উপার্জন করেছেন তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি বা জটিলতা কম দেখা গেছে। যারা উপার্জন করেন না বা কাজের বিনিময়ে টাকা পান না তাদের তুলনায়।

নেতিবাচক অভিজ্ঞতা
গবেষণায় কর্মরত নারীদের উপর ধারাবাহিক নেতিবাচক অভিজ্ঞতার প্রভাব বিশ্লেষণও করা হয়েছিল এবং গবেষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এটি নারীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এছাড়াও, যে নারীরা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তারা বলেছেন তারা কাজের তুলনায় কম তৃপ্তি ভোগ করেছেন, তাদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করেননি এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যও খারাপ হয়ে যায়।