বিভাগ - সারাদেশ

কলাপাড়ায় সরকারী ভাতা আত্মসাতের বিরদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়ায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র বানিয়ে জাল-জালিয়াতি করে সরকারী ভাতা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী লাইলির স্বামী শ্রমজীবী শহিদুল ইসলাম।

লাইলির অভিযোগ, তার বাবা হাফিজুর রহমান একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী গ্রামে তাদের বাড়ি। হাফিজুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের গেজেট নম্বর ৭২৭ ও সনদপত্র নম্বর ১৫০৮৬৪। গেজেট বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর ৭১৯০, তারিখ ৮-১১-২০০৪। জীবদ্দশায় ২০০৭ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ভাতা তুলে আসছিলেন। ভাতার বই নম্বর ৩১/বি। ২০১১ সালের ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত ভাতা তুলেছেন। একটি মামলায় হাজতে থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান ২০১২ সালের ৬ আগস্ট মারা যান, হাজতী নম্বর ৯১২/১২। এরপরেই শুরু হয় জাল-জালিয়াতি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লাইলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, কলাপাড়া উপজেলা ও পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের একটি চক্রের যোগসাজশে তার বাবার নামে নাম বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার চন্দ্রা গ্রামের মৃত আব্দুল করিম মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুর রহমান মাতুব্বর ভুয়া কাগজপত্র বানায়। লাইলির বাবার গেজেট নম্বর এবং ভাতার বইয়ের সবকিছু ঠিকানাসহ অবিকল রেখে এখন পর্যন্ত কলাপাড়া থেকে মুক্তিযোদ্ধার সকল ভাতাদি উত্তোলন করে আসছেন। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার সন্তানদের স্কুল ও পুলিশে চাকরি দিয়েছেন।

লাইলি বেগম আরো জানান, তিনি বহুবার বিষয়টি নিয়ে আমতলীতে গিয়েছেন। কোন সমাধান তো দুরের কথা। উল্টো ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। লাইলি তার বাবার নামের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফিরে পাওয়া এবং জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। বহুবার কলাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান লাইলি। বর্তমানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাইলি তার শ্রমজীবী স্বামীকে নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি প্রতিকার চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মৃত হাফিজুর রহমান জীবিত থাকাকালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নামের ভাতার বই খুলে ভাতা তুলেছেন। বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ায় ঠিক করে তার নামে (প্রকৃত হাফিজুর রহমান) বই খুলে ভাতাদি দেয়া শুরু করে। তিনি বরং ২০০৭ সাল থেকে ১২ সাল পর্যন্ত ভাতাদি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন, এমন পাল্টাঅভিযোগ তুলেছেন।