বিভাগ - সারাদেশ

কাউনিয়ায় ওজন পরিমাপে সনাতনী বাটখারা !

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য ভোক্তা অধিকার আইন সরকার প্রনয়ন করলেও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় এ আইনের প্রয়োগ তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না। আইন আছে বাস্তবায়ন নাই।

সরেজমিনে উপজেলার প্রায় ২৫ টি হাট বাজার ঘুরে দেখাগেছে ওজন পরিমাপে ব্যবহার করা হচ্ছে মানধাত্তা আমলের সেই সনাতনী বাটখারা। মাছ ও কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে ধান চাউল এমন কি পাট ক্রয় বিক্রয়েও চলছে এই বাটখারার দৌরাত্ন। এ নিয়ে হাট বাজারে প্রায়সই ঝগড়া বিবাদ হলেও কর্তৃপক্ষের নেই তেমন কোন মাথা ব্যথা। বিষয়টি নিয়ে নানা জনের আছে নানা রকম মতামত। কেউ বলছেন বাপ দাদার আমলের বাটখারাই অনেক ভালো কারন ঐ পদ্ধতিতে কেউ ওজনে কম বেশী করতে পারেন না তবে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী পাল্লায় ফ্যার (বাটখারার মার-প্যাচ) রেখে ওজনে কম দেন আবার কোন কোন ব্যবসায়ী বাটখারার পাথর (পরিমাপের শীল) কামারের দোকান থেকে কম করেই ব্যবহার করেন। ফলে ক্রেতা সাধারন সব সময় ঠকেই যাচ্ছেন। আবার অনেইে বলছেন ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্রই শ্রেয় কারন এত কম বেশী দেয়া নেয়া হয় না। ভুক্তভোগীরা বলছেন ডিজিটাল পাল্লায়ও আছে ডিজিটাল চুরি। কাউনিয়া উপজেলায় ভোক্তা অধিকার আইন নিরবে কাঁদে। কথা হয় কাউনিয়া তকিপল হাটে কাঁচা বাজার করতে আসা গদাই গ্রামের শহজাহান এর সাথে. তিনি বলেন দেশে এখন সব কিছু ডিজিটাল কিন্ত আমরা যখন কেনা কাটা করি তখন দেখি সেই মান্ধাত্তা আমলের দাড়ীপাল্লা। এসব দেখার কী কেউ নাই ? শুনেছি আইন আছে কিন্তু বাস্তবায়ন কর্তপক্ষ নিরব। আমরা কি সারা জীবন ঠকে যাবো ? উপজেলার ভায়ারহাট বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হরিবলা বলেন ‘হামরা গ্রামোত বাস করি, এ্যাটেকার মানুষগুলো ডিজিটাল পাল্লায় বিশ^াস পায় কম, কায়েও কায়েও নেকা পড়া নাই, তাই ডিজিটাল পাল্লার হিসাবও ওমরা বুঝে না, তাই বাধ্য হয়া হামরা দাড়ীপাল্লা ব্যবহার করি। উপজেলার মীরবাগ বাজারে মাছ কিনতে আসা মামুন ভুইয়া বলেন সরকারের আইন আছে কিন্ত আইনের বাস্তব প্রয়োগ নাই। তিনি দাবী করে বলেন এলাকার সব হাট বাজরেই ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হোক। এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ উলফৎ আরা বেগম বলেন, ইতোঃমধ্যেই বাটখারা ব্যবহারে আমি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি,প্রয়োজনে আবারও করা হবে।