কাউনিয়ায় করোনার মাঝেও মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে ফসল কেটে আনছে কৃষক

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ হরেক রকম পিঠা পায়েস রান্না হবে ঘরে, পাকা ধানের মিষ্টি গন্ধে মন আনচান করে। ধানের আলে মটরশুঁটি হয়েছে আরও চাষ, সবাই এবার ডালে ভাতে থাকবে বারো মাস। বাংলার কবির সেই কবিতার চরনের সাথে তাল মিলিয়ে মরন ব্যাধি করোনার মাঝেও কাউনিয়ার কৃষকরা বলছে সন্তান কালো হোক বা ফর্সা, অন্ধ হোক বা বোবা, মা যেমন সন্তান কে ফেলে রাখতে পারে না তেমনী ধানের দাম কম হোক আর বেশী হোক সন্তানের মতো লালন পালন করা সেই সোনালী ফসল কৃষকরা মাঠে ফেলে রাখেনি। বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া এবং ঝড়ে পরে যাওয়া ধান দিনভর মাথার ঘাঁম পাঁয়ে ফেলে সন্তান তুল্য মাঠের সেই ধান সাধারন মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে বাড়ীতে নিয়ে আসছে রংপুরের খাদ্য উৎপাদন কারী কৃষক। চলতি মৌসুমে আবহায়া অনুকুলে থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভাল হলেও দামনিয়ে দুঃচিন্তা থাকলেও কৃষকরা বলছে দাম কম থাক বা বেশী আমাদের ‘মা লক্ষী’কে তো আর মাঠে ফেলে রাখতে বা পুড়ে ফেলতে পারি না। সরকার বাহাদুর কৃষকের উৎপাদিত ধান ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করবেন এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। বুকের ভেতর চাঁপা কান্না লুকিয়ে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব শহিদার রহমান জানান বীজতলা থেকে শুরু করে, ধান লাগানো, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক প্রয়োগ, পানিসহ ধান কাটা মাড়াই পর্যন্ত এক মণ ধানে কৃষকের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৭শ’ টাকার মতো। এছারাও করোনার কারনে শ্রমিক সংগ্রহ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত মুজুরি দিয়ে। এতে করে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে দুই থেকে তিনশ’ টাকার মতো লোকশান গুনতে হতে পারে তাদের। সরকার ঈতোমধ্যে ধান ক্রয়ের তালিকা তৈরী করেছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ধান হয়েছে হাসি মুখে ধান বিক্রি করতে পাচ্ছে কৃষক। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাউনিয়া উপজেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ২শ’ ২০ হেক্টর আর অর্জন হয়েছে ৭ হাজার ৬শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৩শ ৪৩ মেঃটন। কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান বর্তমানে উপজেলা জুড়ে চলছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের উৎসব। উপজেলার ২৮হাজার ২শ’৫০ জন চাষি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চলতি মৌসুমে অসাধারন উৎপাদন বৃদ্ধি করে। প্রতি হেক্টরে তারা গড়ে উৎপাদন করেছে ৪.২৪ মেঃটন চাউল। আমার মতে সরকার ধান সংগ্রহ শুরু করলে বাজারে ধানের দাম বাড়বে।