বিভাগ - সারাদেশ

কাউনিয়ায় তিস্তার চরে বর্ষায় নৌকা তৈরির হিড়িক

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর)্ প্রতিনিধি ঃ এখন আষাঢ় মাস। পুরোদমে বর্ষা মৌসুম শুরু। অঝোরো ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। অবিরাম বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে পানি টৈ- টুম্বুর। ইতিমধ্যে দু-দফা তিস্তার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। কিছু কিছু চরাঞ্চালে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যা। কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার তীরবর্তী ২২ টি চরাঞ্চালের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতে বর্ষা মৌসুমে এক মাত্র ভরসা নৌকা। তাই নুতন নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে।

সরেজমিনে কাউনিয়ার তিস্তা নদী বেষ্ঠিত চর ঢুষমারা, চর গনাই, হয়বত খাঁ, চর আজমখাঁ, বিশ্বনাথ, পূর্ব নিজপাড়া, তালুকশাহবাজ, হরিচরন শর্মা, পাঞ্জর ভাঙ্গা, গোপী ডাঙ্গা, চর গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, চর প্রানাথ, চর নাজির দহ, ভাঙ্গামালি¬রচর, টাপুর চর, সহ ২২টি চরাঞ্চালের মধ্য বেশ কয়েক টি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নৌকা তৈরির হিড়িক পড়েছে। করোনা ক্রান্তিকালে জীবন-জীবিকার চাহিদার কারণে অনেক দিন অবরুদ্ধ থেকে তারা ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েছে মাঠে প্রান্তরে। শুকনো মৌসুমে রাস্তার অভাবে চরাঞ্চালের মানুষের উত্তপ্ত বালুর উপর দিয়ে হেটে চলা আর বর্ষা মৌসুমে ডুবো চরে অথৈ পানি আর বন্যার সাথে যুদ্ধ করে এসব চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের নৌকায় করে চলাফেরা করাই তাদের যেন নিয়তি। সমতলের মানুষের যেমন নিজস্ব মটর সাইকেল, বাইসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহন আছে তেমনি চরাঞ্চলের মানুষের থাকতে হয় একটি নৌকা। তাই পুরোনো নৌকা গুলো মেরামত করার উপযোগী না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঋন করে নৌকা তৈরি করছে কৃষক জেলে মাঝিরা। ফসল আনা নেয়া, মাছ ধরা, হাট বাজার, শহর, বন্দর যেখানেই যাক না কেন তাদের নৌকা যোগেই যেতে হয়। তাই তাদের থাকতে নিজস্ব নৌকা। ঢুষমারা গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, প্রকার ভেদে নিন্মে ডিঙ্গি নৌকা ১০ হাজার থেকে বড় নৌকা তৈরিতে ১ লক্ষ টাকা খরচ পড়ে। যার যেমন সামর্থ্য তারা সেভাবেই নৌকা তৈরি করে যাতায়াত করে। চরাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের খবর কেউ রাখেনা। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ক্রান্তিকালে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লেও তাদের খবর কেউ নেয়নি। তারা যেন ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা। বন্যা দেখা দিলে চাহিদার তুলনায় নগন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হয়তো একদিনের জন্য দেখা মেলে সরকারী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের। আর সারা বছরেই তাদের দেখা মেলে না চরাঞ্চলের মাটিতে। রোদ বৃষ্টি খরা বন্যা মাড়িয়ে নিয়তির সাথে যুদ্ধ করেই চলতে হয় তাদের বারো মাস।