বিভাগ - সারাদেশ

কাউনিয়ায় মাছের অভয়াশ্রম নামে মাত্র একটি

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল. কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ তিস্তা, মানাস ও বুড়াল নদী বেষ্টিত দেশী মাছ উৎপাদনের ভান্ডার নামে খ্যাত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বর্তমানে মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে নাম মাত্র ১টি। সমস্যাটি দেখার যেন কেউ নেই।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানাগেঝে উপজেলায় রয়েছে রংপুর জেলার সবচেয়ে বড় ১৪৪ একর জমি নিয়ে ‘ধূমনদী’ বিল। এ ছাড়াও রয়েছে তপশীডাঙ্গা, টেপরিকুড়া ও হোকোডাঙ্গা সরকারী বিল, যার আয়াতন প্রায় ২০০ একর। সরকারী বিল ছাড়াও রয়েছে সরকারী পুকুর, রেলওয়ে বড় বড় দুটি ফুট, বাঁধের রাস্তার জলাশয়সহ ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে ৪১৪৩ টি ছোট বড় পুকুর। এ উপজেলার মৎস্য চাষীদের উৎপাদিত মাছ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মৎস্য আঁড়তে বিক্রয় হয়। কিন্ত দুঃখ জনক হলেও সত্য উপজেলায় মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে মাত্র ১টি তাও আবার নামে মাত্র নিশানা। উপজেলার তপশীডাঙ্গা বিলে অভয়াশ্রমটি থাকলেও সেখানে দেদারছে মাছ নিধন চলে। অভয়াশ্রমটি দেখার কেউ নেই, নেই তেমন কোনো তদারকী বা নজরদারী। নামকা ওয়াস্তে অভয়াশ্রমের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা চোখে পরে না। এলাকার মাছ চাষীরা বলছেন দেশীয় মাছ রক্ষায় সরকারী ভাবে সময়োচিৎ পদক্ষেপ জরুরী তা না হলে দেশীয় মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

উপজেলার পূর্বচান্দঘাট গ্রামের রংপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও সফল মাছ চাষী আঃ ছোবহান বলেন মাছের অভয়াশ্রম না থাকায় দিন দিন দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে তাই আমরা হাইব্রিড জাতীয় মাছ চাষের ওপর নির্ভশীল হয়ে পড়ছি। একই এলাকার অপর মাছ চাষী শফিকুল ইসলাম বলেন মাছের অভয়াশ্রম না থাকলে আর কয়েক বছর পর দেশী জাতের মাছ যেমন কর্তি, কই, গচি, পাপদা, মাগুর, পুঁটি, শোল, ময়া,দারকাসহ অনেক মাছ আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশীয় মাছ রক্ষায় মাছের অভয়াশ্রমের বিকল্প নেই। বর্তমানে উপজেলায় মাছের ১টি অভয়াশ্রম আছে তবে খুব শীঘ্রই আরও ৩/৪টি অভয়াশ্রম তৈরীর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।