বিভাগ - কৃষি

কাউনিয়ায় ধনিয়া পাতা চাষে ধনী জুড়াবান্ধা গ্রামের সুবল চন্দ্র

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের জুড়াবান্ধা গ্রামের চাষি সুবল চন্দ্র বিষ মুক্ত ধনিয়া পাতা চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তার সফলতা দেখে এলাকায় ২০/২৫ জন ধনিয়া পাতা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে জুড়াবান্ধা গ্রামে গিয়ে ধনিয়া পাতা ক্ষেত পরিচর্যাকালে কথা হয় শ্রী সুবল চন্দ্রের সাথে। তিনি জানান আগাম ধনীয়া পাতা সে ১ কেজি ধনে পাতা ২শ টাকা দরে বিক্রয় করেছে। বর্তমানে ধনে পাতার দাম একটু কমে গেছে। রসনা বিলাসী, ভোজন প্রিয় মানুষ শীত কালে এরা চাহিদা বেশী থাকে এবং শীতে তরকারীর স্বাদ বৃদ্ধিতে ধনিয়া পাতার জুরি নাই। গত বছর সে মাত্র ২ শতক জমিতে ধনিয়া পাতা চাষ করে বিক্রয় করেছে ১০ হাজার টাকা। এবছর ৮ শতক জমিতে চাষ করে বিক্রয় করেছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে আরও জমিতে ধনিয়াপাতা আছে। তার খরচ হয়েছে সব মিলিয়ে ৫ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান এই জমিতে আগে ধান করতাম, ধান হতো মাত্র ১ থেকে দেড় মন। যা বিক্রয় করে পেতাম মাত্র ৫শ’ থেকে ৭শ’টাকা। ধানের চেয়ে অনেক বেশী লাভজনক ফসল ধনিয়া পাতাসহ সবজি চাষ। সে ধনেপাতার পাশাপাশি ফুলকপি,বাধাকপি,টমেটো চাষ করেছে। তবে ধনে পাতা চাষের জন্য আশংকা হচ্ছে বৃষ্টি। বৃষ্টি হলে ধনে পাতা ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সে ধানের পরিবর্তে ধনিয়াপাতাসহ সবজি চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে তার ধানের চেয়ে সবজি চায়ে প্রায় ১০গুন আয় বেড়েছে। সবজি ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া, ফজলু মিয়া ও সিরাজুল জানান মৌসুমের শুরুতে ধনিয়া পাতা অনেক বেশী দামে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে দাম কমে গেছে। তবে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেকে ধনে পাতা চাষ করে ধনী বনে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে ধনিয়াপাতা সহ প্রায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের ধানের বিকল্প ফসল হিসেবে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। বৃষ্টির সময় কৃষক যেন পলিথিন দিয়ে জমি ঢেকে দেয় তাহলে ধনিয়া পাতা ক্ষেত নষ্ট হবে না। কাউনিয়া সুবল চন্দ্র এখন সফল ধনিয়া পাতা চাষি হিসেবে ব্যপক পরিচিতি পেয়েছে। ধনিয়া পাতা চাষে ভাগ্যের পরিবর্তনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সুবল চন্দ্র।