কাউনিয়ায় মরিচের বাম্পার ফলন, ক্রেতা সংকট দাম না পেয়ে কৃষকের মাথায় বাজ

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক আশায় বুক বেঁধেছিল রমজানের আগে ভাল দাম পাবে বলে, সে আশা গুড়ে বালিতে পরিনত হয়েছে। করোনা ভাইরাস বিপর্যয়ে পরিবহন ও ক্রেতা না থাকায় মরিচের দাম কমে যাওয়ায় মরিচ চাষীদের মাথায় বাজ পরেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে এক মন মরিচ বিক্রি করছেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে। করোনা আতংক শুরুর আগে মরিচের মন ছিলো ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। করোনা ভাইরাসের কারনে পরিবহন বন্ধ ও ক্রেতা বাজারে আসতে না পারায় মরিচসহ সবজি বাজারে ধ্বস নেমেছে। উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত ২৭টি চরাঞ্চলসহ গ্রাম গুলোতে উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হতো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজারে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুক‚ল ধাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হলেও করোনা দূর্যোগে দাম না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রান্তিক মরিচ চাষীরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর ৮৫ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মরিচ চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৩২৫ হেক্টর কিন্তু চাষ হয়েছে ৪২০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার চরগনাই গ্রামের মরিচ চাষী দুদু মিয়া জানান, এ বছর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ২ একর জমিতে ফরিদপুরী জাতের মরিচ চাষ করেছি। প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার কারণে ফলনও ভাল হয়েছে। প্রথমের দিকে ভাল দামেই বিক্রয় করেছি কিন্তু বর্তমানে করোনার কারনে বাজার ক্রেতা না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতি মন মরিচ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই কথা জানালেন গদাই চরে মরিচ চাষি শাহজাহান ও গফুর আলী মন্ডল। স্থানীয় কৃষক জানায় রংপুর অঞ্চলে মরিচসহ সবজি সংরক্ষনের জন্য সরকারী বা বে-সরকারী কোন হিমাগার না থাকায় প্রান্তিক চাষীরা বাধ্য হয়ে কম দামে মরিচ বিক্রি করছে। কৃষকের দাবী ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে রংপুর অঞ্চলে মরিচসহ সবজি সংরক্ষনের হিমাগার স্থাপনের। সেই সাথে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় কৃষকদের প্রনোদনা প্রদান করার। তকিপল হাটের মরিচ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, ক্ষেত থেকে মরিচ ফরিয়া এবং আড়ৎদারের হাত বদল হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। সম্প্রতি করোনার কারনে প্রশাসনের নির্দেশনায় মোকামে কম সময় দোকানে বেচা কেনা ও পরিবহন সংকটের ফলে মরিচের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কমে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল আলম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং মানসম্মত বীজ, প্রয়োজনীয় জৈব সার-কীটনাশক প্রয়োগের ফলে চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথমের দিকে কৃষক দাম ভাল পেলেও বর্তমানে ক্রেতা সংকটে বিক্রয় করতে পাচ্ছে না।