বিভাগ - সারাদেশ

কাউনিয়ায় শহীদ স্মরনে ইউনিয়নের নাম হয়েছে শহীদবাগ

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাউনিয়া উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৯ বছর পর এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বানিজ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের সহায়তায় অবশেষে জুরাবান্ধা (ঘুঘুরথান) বধ্য ভুমিটি নান্দনিক অবকাঠামো দিয়ে সুরক্ষিত হয়েছে। সেই সময় জাতির সূর্য সন্তান যারা এ দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন তাঁদেরকে গভীর ভাবে স্মরন করতে যুদ্ধপরবর্তী সময় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ও বালাপাড়া ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। আর শহীদ স্মরনে ওই ইউনিয়নের নাম দেয়া হয় শহীদবাগ। ওই ইউনিয়নে দুইটি বধ্যভূমির মধ্যে একটি সংরক্ষন করা হয়েছে অন্যটি এখনও অরক্ষিত রয়েছে। এখনও স্বজনরা ওই বদ্ধভূমিতে গিয়ে আর্তনাদ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১’র এপ্রিলে কাউনিয়ার সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের শপথ নিয়ে কাউনিয়া থানা ঘেরাও করে।ওই সময় পাকসেনারা বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর মৌজায় মা-বোনদের উপর অত্যাচার শুরু করলে উত্তেজিত জনতা প্রানের মায়া ত্যাগ করে দা, কুড়াল, বটি দিয়ে কুপিয়ে পাক সেনাদের হত্যা করে লাশ গুম করে। ৭১ এর ১০জুন পাক হানাদার বাহিনীরা কাউনিয়া তপিকল বাজারের পাশে রেল লাইনের উপর গুলি করে ফুলু মিয়া ও মনতাজুর রহমানকে হত্যা করে। ৩০ জুন জনতা রেল লাইন তুলে ফেললে পাক সেনারা ক্ষীপ্ত হয়ে হরিশ্বর মৌজায় আবারো হামলা চালালে স্বাধীনতাকামী কয়েকজন সাধারন মানুষ পাকিস্তানী নরপিচাষকে হত্যা করে লাশ গুম করলে পাক বাহিনীর হায়েনারা তাদের লাশ না পেয়ে ভূতছাড়া মৌজার জুড়াবান্দা বিলে এবং রেল লাইনের ধারে শতাধিক নিরীহ নারী-পুরুষ তরুন-তরুনী ও শিশুদের নির্বিশেষে গুলি করে হত্যা করে ওই এলাকার সবগুলো বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং অনেক শহীদদের লাশ আগুনে পুড়ে ফেলে। ওই দিন পাক সেনারা এতটাই হিংস্র ছিলো যে তারা জনৈক হাজ্বী সাহেবকে ট্রেনে গুলি করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় সে কাহিনী প্রত্যক্ষ দর্শীদের মুখে শুনলে আজও গা শিহরে ওঠে। ওই দিন ওই এলাকার ভূতছাড়া গ্রামে একসাথে প্রায় ২শ মানুষকে হত্যা করার কারনে স্বাধীনতার পর এখানে নতুন করে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয় যার না দেওয়া হয় শহীদবাগ। তৎকালিন প্রায় বিশ হাজার জনসংখ্যা আর ৬.৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে কাউনিয়া উপজেলা পরিষদ থেকে পশ্চিমে বর্তমানে শহীদবাগ ইউনিয়নটির অবস্থান।এই ইউনিয়নের রয়েছে ২টি বধ্যভূমি, কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর একটি সংরক্ষন করা হলেও অন্যটি এখনও সম্পূর্ণ অরক্ষিত। উপজেলার সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার সরদার আব্দুল হাকিম বলেন বধ্যভূমি ১টি সংরক্ষান করা হয়েছে অন্যটিও করা প্রয়োজন। এ ব্যপারে নির্বাহী অফিসার মোছাঃ উলফৎ আরা বলেন বানিজ্যমন্ত্রী মহদয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।