বিভাগ - খেলাধুলা

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের সোনা জেতার এই তো সুযোগ

প্রকাশিত

স্পোর্টস ডেস্ক: কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে লাল-সবুজ পতাকা ওড়ার দৃশ্যটা আজও অনেক ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে অমলিন। ১৯৯৯ সালের ৪ অক্টোবরের সেই আনন্দময় বিকেলে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস ফুটবলে প্রথমবার সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০ বছরের ব্যবধানে দশরথে আবার বসতে যাচ্ছে ফুটবলের সেই মেলা। এবার বাংলাদেশের স্বপ্নের সারথি জামাল ভূঁইয়ারা।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আজ শুরু যাচ্ছে এসএ গেমস। গেমসের অন্যতম মূল আকর্ষণ ফুটবল শুরু হবে আগামীকাল। ভুটানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়েই হিমালয় জয়ের মিশন শুরু বাংলাদেশের। যুক্তিসংগত কারণেই সোনা জয় করে দেশে ফিরবেন জামাল ভূঁইয়ারা, এই প্রত্যাশা জাগছে। দুটি কারণে গেমসের ফুটবলে অন্যতম ফেবারিট তকমা নিয়ে কাঠমান্ডুতে বাড়তি খাতির–যত্ন পাচ্ছেন জামাল, ইয়াসিনরা। প্রথমত, প্রায় জাতীয় দল নিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ত, এবার নেই এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ভারত। গেমস শুরুর আগেই তাই জামালদের গলায় সোনার পদক দেখতে শুরু করেছেন অনেকে।

১৯৯৯ সালের পর ঘরের মাঠে ২০১০ এসএ গেমসের সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। ৯ বছর বাদে তৃতীয়বারের মতো সোনা জয়ের প্রতীক্ষা। বাংলাদেশের হিমালয় জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে স্বাগতিক নেপাল ও মালদ্বীপ। তবে কাগজ-কলমের হিসাব বলছে, এই দুটি দলের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেমস শুরু করতে যাচ্ছে জেমির দল। তিনটি দলের সম্ভাব্য একাদশের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বাংলাদেশের শক্তি। যেখানে অভিজ্ঞ ও আনকোরা খেলোয়াড়ের সংমিশ্রণে একাদশ গঠন করতে হবে নেপাল ও মালদ্বীপকে, সেখানে একেবারে জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া একাদশটাই পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য পাঁচ দিন সময়ও পেয়েছে দলটি।

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের ফুটবলে এবার অন্যতম সেরা ফেবারিট ধরা হচ্ছে বাংলাদেশকে। শক্তিমত্তাই বলছে কাঠমান্ডুতে সোনা জয়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে আছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ:
২০ সদস্যের দলের ১৬ জনই মূল জাতীয় দলের খেলোয়াড়। অর্থাৎ প্রায় জাতীয় দল নিয়েই অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টে গিয়েছেন কোচ জেমি ডে। পুরো দলের দিকে তাকালে প্রায় জাতীয় দল বলতে হলেও একাদশকে জাতীয় দল বলেই চালানো যাবে অনায়াসে।

গোলপোস্টের নিচে আনিসুর রহমান জিকো। শেষ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই তরুণ। রক্ষণভাগের চারজন তো জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্যই। দুই সেন্টারব্যাক ইয়াসিন খান ও রিয়াদুল হাসান, লেফটব্যাক রহমত মিয়া ও রাইট ব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ।

মাঝমাঠের নেতৃত্বে থাকছেন যথারীতি জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তাঁর সঙ্গে জাতীয় দলেরই বিপলু আহমেদ ও রবিউল হাসান। আক্রমণভাগও একেবারেই হুবহু জাতীয় দলের কপি। নম্বর নাইন হিসেবে নাবীব নেওয়াজ জীবন, রাইট উইংয়ে সাদ উদ্দিন ও লেফট উইংয়ে মোহাম্মাদ ইব্রাহিম। বেশ কয়েক বছর ধরে একই সঙ্গে থাকা দলটি সোনা জিততে না পারলে তা হতে পারে ব্যর্থতাই।

নেপাল:
স্বাগতিক হিসেবে ফেবারিট নেপালও। গেমসের ফুটবলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। কিন্তু খর্বশক্তির একটি দল নিয়ে ঘরের মাঠে নামতে হবে তাদের। শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ছিটকে গিয়েছেন নেপাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বিমল ঘাটরি মাগার। একই কারণে ২১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের সঙ্গে নেই তাঁর দুই সতীর্থ অনজন বিস্তা ও দিনেশ রাজবংশী। এমনকি দলটির দায়িত্বেও নেই নেপাল মূল জাতীয় দলের সুইডিশ কোচ জোহান কালিন।

গতবারের চ্যাম্পিয়ন কোচ বাল গোপাল মহারজনের হাতেই আবার তুলে দেওয়া হয়েছে দলকে। জাতীয় দলের ১০ সদস্যকে পাচ্ছেন, কিন্তু এঁদের মধ্যে সিনিয়র কোটায় নিতে পারেননি দুই সেরা তারকা গোলরক্ষক কিরণ চেমজং ও মিডফিল্ডার রোহিত চাঁদকে। ভারতের আই লিগের ক্লাব মিনার্ভা পাঞ্জাব থেকে ছুটি পাননি কিরণ। রোহিতকে ছাড়েনি তাঁর ইন্দোনেশিয়ান ক্লাব পারসিয়া জাকার্তা।

মালদ্বীপ:
গুয়াহাটিতে মালদ্বীপকে হারিয়েই শেষ গেমসে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও বাংলাদেশের তুলনায় শক্তিতে পিছিয়ে আছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। মূল জাতীয় দলের ১২ সদস্য আছে তাদের দলে। এদের মধ্যে একাদশে খেলেন মাত্র ৬ জন। সিনিয়র কোটায় আছেন আকরাম গনি, ইব্রাহিম মাহুদি ও হামজা মোহামেদ। তাঁদের মূল তারকা আলি আশফাককে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নব্য সিনিয়রদের সুযোগ দিয়েছেন তাঁদের ক্রোয়েশিয়ার কোচ পিটার সিগ্রেট।