কারও চৌদ্দপুরুষকে দিয়ে আওয়ামী লীগে পকেট কিট চলবে না: কাদের

প্রকাশিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সুসময়ের বসন্তের কোকিল নয়, দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীর মূল্যায়ন করতে হবে। কারও চৌদ্দপুরুষকে দিয়ে কমিটি-পকেট কমিটি চলবে না।’

আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় পটুয়াখালী শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুন্দর সুন্দর পোস্টার আর ব্যানার দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা হওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেক ত্যাগ করতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৪৪ বছরে দেশের সবচেয়ে সৎ, দক্ষ ও জনপ্রিয় রাজনীতিক হলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হলে ত্যাগী কর্মীদের বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে বারবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। উন্নয়ন ও অর্জনে শেখ হাসিনার কোনও বিকল্প নেই।’

সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ১৪ জনের নাম জমা পড়ে। ২০ মিনিট আলোচনা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর নাম ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে সভাপতি হন বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক হন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান। এই কমিটি তিন বছরের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘এই সরকারের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণমানুষের, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দল। এ দল কোনো ঠুনকো কচু পাতার পানি নয় যে একে ঘণ্টা দিয়ে বা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া যাবে।

সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন নাছিম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের এমপি কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন, সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে মো. শাহজাহান মিয়াকে সভাপতি ও খান মোশাররফ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

error0