বিভাগ - সারাদেশ

কালীগঞ্জে পুঁইশাক ঘুরিয়ে দিয়েছে জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাগ্যের চাকা!

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউপির বারোপাখিয়া গ্রামের দলিল উদ্দীনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন। পুঁইশাক ঘুরিয়ে দিয়েছে জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাগ্যের চাকা। এর চাষ করে যাবতীয় খরচ বাদে দেড় লাখের বেশি টাকা আয় করেছেন। তার মতে, অন্য ফসল চাষ করে উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকে না। আবার ব্যয়বহুল রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়ে উৎপাদিত সবজি খেলে মানবদেহের চরম ক্ষতি হয়। তাই তিনি ২৫ শতক জমিতে জৈব পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের পুঁইয়ের চাষ করেছেন। এখন এলাকার অন্য কৃষকদের নজরও পুঁইয়ের দিকে। সরেজমিনে কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেনের মেছড়ির ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, পাটকাঠি, বাঁশ ও শক্ত মোটা সুতায় তৈরি করা হয়েছে বান বা টাল। যে বানের ওপর যেন প্রতিযোগিতা করে বেয়ে বেড়াচ্ছে পুঁইয়ের ডগা গুলো। সব ডগার গিরায় গিরায় ধরে আছে বিভিন্ন বয়সী মেছড়ি। কিছু লালচে রঙের, যা এখনই খাওয়ার উপযোগী। কিছু মাঝারি আবার কিছু একেবারেই ছোট। রাত পোহালেই হাটের দিন। তাই কৃষক জাহাঙ্গীর শ্রমিক নিয়ে মেছড়ি তুলতে মহাব্যস্ত। কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মাঠে তার মোট আট বিঘার মতো চাষযোগ্য জমি আছে। অন্য জমি গুলোতে ধান ও অন্য ফসলের চাষ করেছিলেন। আর ২৫ শতকের একখ- জমিতে পুঁইয়ের চাষ করেছেন। কিন্ত পুঁইয়ের জমি থেকে প্রায় দেড় লাখের বেশি টাকা আয় হয়েছে। যা অন্য সব গুলো জমির ফসল বিক্রি করেও এতোটা লাভ হয়নি। তিনি আরো বলেন, পুঁইয়ের জমিটি অপেক্ষাকৃত নিচু। ফলে জলাবদ্ধতা হতে পারে এমন ঝুঁকির মধ্যেও জমিতে পুঁইয়ের চারা লাগিয়েছিলেন। প্রায় নয় মাস আগে লাগানো চারাগুলো যখন তরতাজা হয়ে উঠেছিল, তখন কয়েক দফা বৃষ্টির আঘাতও এসেছে। কিন্ত দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্ষতি হয়নি। পরে লতা গুলো খানিকটা লম্বা হলে শক্ত করে টাল বা বান দিয়েছিলেন, যাতে আপন গতিতে বেড়ে উঠে। এর কিছুদিন পর থেকেই পুঁইশাকের ডগা কেটে বিক্রি শুরু করেন। প্রায় তিন মাস এ ডগা বিক্রি করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন। পরে ফল আসার সময়ে শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে কিছুদিন ডগা কাটা বন্ধ রেখে পরিচর্যা করতে থাকেন। এ সময়ে প্রত্যেক ডগার গিরায় গিরায় মেছড়ি বা বীজ বড় হলে চড়া দামে বিক্রি শুরু করেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে প্রতি কেজি মেছড়ি ৮০ টাকায়ও বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে দুই দিন মেছড়ি তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। এখনো গাছ সতেজ রয়েছে। ফলে আরো বেশ কিছুদিন মেছড়ি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। কৃষক জাহাঙ্গীর আরো জানান, এ চাষে তেমন একটা খরচ নেই। একটু ঘনঘন সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। তিনি জানান, যেহেতু সবজি তাই এ ক্ষেতে রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার প্রয়োগ করেছেন। এতে একদিকে খরচ সাশ্রয়ী হয়েছে, অন্যদিকে বাজারের অন্য মেছড়ির চেয়ে নিরাপদ ও স্বাদ বেশি। তাই এলাকায় তার ক্ষেতের মেছড়ির চাহিদা অনেক বেশি। মোক্তার হোসেন নামের গ্রামের অন্য এক কৃষক জানান, তাদের মাঠটি বেশ নিচু। একটু ভারী বর্ষা হলেই পানি জমে যায়। ফলে জাহাঙ্গীরের পুঁইয়ের ক্ষেতটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও কঠোর পরিশ্রমে ভালো জাতের বীজ হওয়ায় ভালো পুঁইশাক হয়েছে। অথচ যখন ক্ষেতে পুইয়ের চারা রোপণ করে তখন গ্রামের মানুষ বেশ ঠাট্টা করেছিলেন। বরং এ ক্ষেত থেকে পুঁইশাক আর মেছড়ি বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছেন তা অন্য ফসলের পাঁচ বিঘা চাষ করেও হয়নি। তিনি বলেন, আগামীতে তিনিও এক বিঘা জমিতে পুঁইশাকের চাষ করবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন তার ২৫ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের পুঁইয়ের চাষ করেছেন। প্রথম দিকে পুঁইশাকের ডগা বিক্রি করে বেশ আয় করেছেন। এখন বিক্রি করছেন পুঁইয়ের ফল বা মেছড়ি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরে সবজির দাম ভালো থাকায় বেশ লাভবান হয়েছেন কৃষক জাহাঙ্গীর। তিনি কয়েক দফা তার ক্ষেতে গিয়েছিলেন। অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য তাকে উৎসাহিতও করেছেন।