কিছু দেশ নির্দেশনা অমান্য করায় পুরো বিশ্বকেই চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে: জাতিসংঘের মহাসচিব

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া পরামর্শ কিছু দেশ উপেক্ষা করায় এখন পুরো বিশ্বকেই চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। গতকাল সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এই উষ্মা প্রকাশ করেন।

প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনো বৈঠক অনলাইনে অনুষ্ঠিত হলো। এতে জাতিসংঘ মহাসচিব ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘একেক দেশ একেক পথে হেঁটেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপরীত কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে, যার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের সবাইকে।’ তিনি বলেন, এখন দক্ষিণ গোলার্ধে করোনা মহামারির বিস্তার ঘটছে। এই গোলার্ধে এই মহামারির প্রভাব আরও ধ্বংসাত্মক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, করোনাভাইরাসের এই মহামারি বিশ্ববাসীর জন্য একটি ‘জেগে ওঠার ডাক’। সংকট মোকাবিলায় বিশ্বকে আরও একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে, সে সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব স্বাধীন তদন্ত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করবেন। তিনি বলেন, ‘এই মহামারি থেকে আমাদের সবারই কিছু না কিছু শেখার রয়েছে। প্রতিটা দেশ, প্রতিটা সংস্থারই গৃহীত পদক্ষেপ যাচাই করা এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অব্যাহত উন্নতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ডব্লিউএইচওর বৈঠকে গুতেরেস জেনেভায় আয়োজিত এই বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন বিশ্বনেতারা।

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চীনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ অভিযোগ করে আসছে, চীন এই মহামারির বিষয়ে শুরুতে পুরো তথ্য সরবরাহ করেনি। চীন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরপরও গতকাল সম্মেলনে যোগ দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় গৃহীত বৈশ্বিক পদক্ষেপের বিশদ মূল্যায়নের বিষয়ে চীনের সমর্থন রয়েছে। তবে এই মূল্যায়ন করতে হবে মহামারি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর। তিনি বলেন, চীন সব সময় স্বচ্ছতার পথে হেঁটেছে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, করোনা প্রতিরোধে চীনে কোনো টিকা উদ্ভাবনের পর ব্যবহার শুরু হলে, তা তারা বিশ্বের সব মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের ব্যবস্থা করবে। উল্লেখ্য, চীনে এখন পাঁচটি টিকা পরীক্ষাধীন রয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, বিশ্ব যতটা একতাবদ্ধভাবে কাজ করবে, করোনা মহামারি তত দ্রুত জয় করা সম্ভব হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাজের প্রক্রিয়ার উন্নয়নের আহ্বান জানান তিনি।