বিভাগ - সারাদেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এক সংখ্যার ভুলে ভর্তি পরীক্ষায় অন্যজন

প্রকাশিত

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কুমিল্লা: জালিয়াতি নয় বরং অন্য এক পরীক্ষার্থী বৃত্ত ভরাটে ভুল করায় এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সৃষ্ঠি হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষেও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষেও ভর্তি পরীক্ষায়। জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায়অংশ গ্রহণ না করেই মেধা তালিকায় ১২তম হয়েছেন মো: সাজ্জাতুল ইসলাম নামের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় গত শনিবার (৩০ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রমও স্থগিত করতে হয়েছে এবং তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ ভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়, এই ঘটনার নেপথ্যে জালিয়াতি নয়, বরং আরেক পরীক্ষার্থীর ভুল কওে উত্তর পত্রে নিজের রোল নম্বরের একটি সংখ্যা ভুল ভরাট করায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

কুবির স্নাতক প্রথম বর্ষেও ‘বি’ইউনিটের ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলেও প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় তিনি ১২তম হয়েছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বৃত্ত ভরাটে ভুলের বিষয়টি। ‘বি’ ইউনিট সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আরেক শিক্ষার্থী ভুল করে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ভরাট করায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে মেধাতালিকায় ১২তম স্থান লাভ করা সাজ্জাতুল ইসলামের কেন্দ্র ছিল কোটবাড়ির টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। কিন্তু ওই কেন্দ্রের নিচতলার ৫নং কক্ষের পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত তালিকায় তার স্বাক্ষও ছিলনা। তার রোল নম্বরছিল ২০৬০৫০। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় এই রোল নম্বরের উত্তরপত্র পাওয়া যায় এবং ও এমআর মেশিনের মাধ্যমে এ উত্তরপত্র মূল্যায়িত হয় এবং ফলাফল তৈরি হয়। ফলাফল তৈরি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রবেশপত্র যাচাই-বাছাই কমিটি মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্রের কপি যাচাই-বাছাই করে। এ সময় সাজ্জাতুল ইসলামের প্রবেশপত্র ও পাওয়া যায়নি। এছাড়া ফলাফলের পর তিনি মৌখিক সাক্ষাৎকারেও অংশগ্রহণ করতে আসেননি।

পরবর্তীতে এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হলে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদেও উপস্থিতির স্বাক্ষও তালিকা এবং উত্তরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ওই কেন্দ্রের একই ভবনের তৃতীয় তলার ১১ নং কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া ২০৬১৫০ রোলধারী মো. আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও এবং উপস্থিতির তালিকায় তার স্বাক্ষর থাকলেও তার রোলের উত্তরপত্র নেই। পরে দেখা যায় ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মো. আলী মোস্তাকিন উত্তরপত্রে রোল নম্বর লেখার নির্ধারিত স্থানে সঠিক রোল লেখলেও বৃত্তভরাটের স্থানে ‘১’ এর স্থলে ‘০’ ভরাট করেন। ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকের অসর্তকতায় বিষয়টি ধরা না পড়ায় উত্তরপত্রটি ভুলভাবেই মূল্যায়িত হয়। যার ফলে ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মো. আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তিনি রোল নম্বরভুল লেখায় পরীক্ষা অংশ না নিয়েও ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম মেধাতালিকায় স্থান পায়।

এ বিষয়ে সাজ্জাতুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই জানান, সাজ্জাতুল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট ‘বি’ ইউনিটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘এটি কোন জালিয়াতি নয় বরং একজন পরীক্ষার্থীর ভুলে এমনটি হয়েছে। আর বিষয়টি সম্পর্কে উপাচার্য মহোদয়কে আমরা পূর্বেই অবগত করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।