বিভাগ - কৃষি

কুড়িগ্রামে আমন ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু

প্রকাশিত

অনিরুদ্ধ রেজা,কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে সরকারী ভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে যে কোন ধরনের অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারী রেখেছে। এবার কৃষকের মাথা পিছু ধান পড়েছে মাত্র ৪৪ কেজি। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়- এবার কুড়িগ্রাম জেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৩শ ৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ অর্জিত হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪ মে. টন চাল। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তালিকা অনুযায়ী মোট আমন চাষীর সংখ্যা ২লাখ ৯৪ হাজার ৫শ’ জন। এর বিপরীতে সরকার কুড়িগ্রাম জেলা থেকে ধান সংগ্রহ করবে ১৩ হাজার ৭১ মে. টন ধান। এতে প্রত্যেক আমন চাষীর ভাগ্যে পড়েছে ৪৪ কেজি করে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আমন চাষীরা লাভবান হলেও বৃহৎ গৃহস্থ চাষীরা পড়েছে চরম বিপাকে।

উপজেলা ওয়ারী ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে- সদরে ১হাজার ১শ’ ৮৬ মে.টন, নাগেশ্বরীতে ২ হাজার ৭শ’ ৫০ মে.টন, জয়মনিরহাটে ১ হাজার ৩শ’ ২৩ মে.টন, ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৯শ’ ১৪ মে. টন, রাজাহাটে ১ হাজার ২শ’ ৬৪ মে. টন, উলিপুরে ২ হাজার ৫শ’ ৬৫ মে. টন, চিলমারীতে ৮শ ৮১ মে. টন, রৌমারীতে ৪শ’ ৯৯ মে. টন এবং রাজিবপুর উপজেলায় ২শ’ ৯০ মে. টন। এই ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয় চলতি বছরের ২০ নভেম্বর থেকে। শেষ হবে আগামী ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারীতে। এবার প্রতি কেজি ধানের মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা।

চলতি আমন ধান সংগ্রহ অভিযান নিয়ে কথা হয় কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন- কৃষকের পরিপূর্ণ তালিকা হাতে না পাওয়ায় ধান সংগ্রহ অভিযান ধীর গতিতে চলছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা বুঝে পেলে ধান সংগ্রহ অভিযান গতি ফিরে পাবে। তিনি আরো বলেন- কোন ধরণের ঝামেলা ছাড়াই প্রকৃত কৃষকরা যাতে সরাসরি গুদামে ধান দিতে পারে সেজন্য এবারই প্রথম ইউনিয়ন ভিত্তিক লটারীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রধানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- কৃষকের তালিকা প্রণয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কৃষকের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

কথা হয় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোছাঃ সুলতানা পারভীনের সাথে। তিনি বলেন- ইতোপুর্বেও আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছি। চলতি আমন মৌসুমেও একই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে যাতে এতোটুকু অনিয়ম না হয় সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারী রাখা হয়েছে।