বিভাগ - কৃষি

কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল বদলে দিয়েছে চরাঞ্চলের চিত্র, তিস্তায় এখন সবুজের সমারোহ

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় একজন কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল আলম তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বদলে দিয়েছে চরাঞ্চলের চিত্র। তিস্তা নদীর জেগে উঠা ধু-ধু বালু চরে এখন সবুজের সমারোহ। সরেজমিনে চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর যে সব চর জেগে উঠেছিল সেই সব চরে এখন চাষ হচ্ছে আলু, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, স্কোয়াস, গম,ভুট্ট্রা। চরে বর্তমানে সবুজের মনমুগ্ধকর সবুজের সমারোহ যে কোন প্রকৃতি প্রেমিকে কাছে টানে। বিশেষ করে ধু-ধু বালু চরে যেখানে কোন কিছুই ফলানো সম্ভব ছিল না সেই চরে কুমড়া চাষ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মোটা বালির উপর মিষ্টি কুমড়া গাছের সবুজের বিস্তার পুরোচর সবুজ চাদরে ঢেকে গেছে। শুধু তাই নয় পুরো চরেই যাতে নিরাপদ মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করা যায় সে জন্য শোভা পাচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও ইয়োলো স্টিক ট্রাপ। হরিচরণ শর্মা চরের কৃষক মোঃ শফিকুল কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রায় ১০০ শতক বালু চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন। তার মিষ্টি কুমড়া গাছের অবস্থা খুবই ভাল। এখন পর্যন্ত কোন রোগ বা পোকার আক্রমণ হয় নি। ধু-ধু বালুচরে এই সবুজের সমারোহ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এর সকল কৃতিত্ব দেন উপজেলা কৃষি বিভাগকে, বিশেষ করে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুল আলম ও এসএএও মোঃ এমদাদুল হক এর। তিনি বলেন উপজেলা কৃষি অফিসার তাদের চরে কিভাবে মিষ্টি কুমড়া চাষ করতে হবে সেজন্য চরের সফল চাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। সকলকে উদ্বুদ্ভকরণ করে বালু চরে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াস ও তরমুজ চাষ করার জন্য। প্রশিক্ষণ প্রদানের পর মিষ্টি কুমড়া চাষের জন্য সার, পলিথিন, ফেরোমন ফাঁদ, ইয়োলো স্টিক ফাঁদ, সেচের জন্য নগদ অর্থ ও সেচপানি ধরে রাখার জন্য পলিথিন প্রদান করেন। আমরা প্রথমে বিশ^াস করতে পারিনি যে বালির মধ্যে কিভাবে মিষ্টি কুমড়া হবে, কিন্তু এমন গাছের চেহারা ও ফলনের আভাস দেখে আমাদের সকলের মধ্যে আনন্দ ফুটে উঠেছে। কাউনিয়ায় তিস্তা চরের চিত্র বদলে দেওয়ার যিনি মূল কারিগর তিনি হচ্ছেন কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুল আলম। তাকে বালু চরে সবুজের সমারোহ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান চর এলাকার শ্রমজীবী কৃষক ভাই ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের এসএএও মোঃ এমদাদুল হকের কঠিন শ্রম ও প্রচেষ্টার ফসল এই সবুজ ভুমি। আমি শুধু তাদের সবাইকে অনুপ্রেরনা ও সহযোগিতা করেছি। এত বড় উদ্যোগ কিভাবে গ্রহন করলেন ? তিনি বলেন ২০১৮ সালে এ উপজেলায় যোগদান করার পর জেগে উঠা ধু-ধু বালু চরে কিভাবে ফসল উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে ভেবেছি। চরে সব কিছুই খুবই শ্রম সাধ্য, তা ছারা বাইরে থেকে মাটি জৈবসার, রাসায়নিক সার, পানি পরিবহন করে চরে আবাদ করতে হয়। আমার এ ধরনের উদ্দ্যেগের কথা উপজেলা পরিষদে জানালে পরিষদ অর্থের সংস্থান করে। এই অর্থের মাধ্যমে চরের ১০০ জন চাষী নির্বাচন করি যাদের মাধ্যমে ১০০ একর মিষ্টি কুমড়ার চাষ করানো হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ,পিপিপি এর ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়। এ ছারা মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনে যেন কোন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা না হয় সে জন্য প্রশিক্ষণ, জৈবসার, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, ইয়োলো স্টিক ফাঁদ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করি। এই ১০০ একর বালু চরে যে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদিত হবে তা সম্পূর্ন বিষমুক্ত, এর বাজার মূল্য বেশি হবে। এছাড়া এ কুমড়া যাতে বিদেশে রপ্তানী করা যায় সে জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান কাউনিয়ায় ৩০ টি চরে জমির পরিমান ২৪০০ হেক্টর এর মধ্যে স্থায়ী চরে জমির পরিমান ১৯৫০ হেক্টর। সেখানে সব ধরনের ফসল উৎপান হয় কিন্তু অস্থায়ী বালুর চরের পরিমান প্রায় ৪৬০ হেক্টর সেখানে কোন ফসল হতো না। কৃষি কর্মকতার কারনে প্রায় ১০৩ হেক্টর অস্থায়ী বালুর চরের জমি আবাদেও আওতায় আনা সম্বব হয়েছে।