কৃষি বিভাগের উদাসিনতা কাউনিয়ায় দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে মান কচু

প্রকাশিত

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধ ঃ “কচু কহে, গন্ধ শোভা নিয়ে খাও ধুয়ে, হেথা আমি অধিকার গাড়িয়াছি ভুঁয়ে। কৃষি বিভাগের উদাসিনাতায় গ্রাম বাংলার ঐতিয্য, বৃষ্টির দিনে গরিবের ছাতা ও ঔষধীগুন সম্পন্ন মান কচু দিনদিন কাউনিয়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

অনুমান করা হয়, কচুর উৎপত্তি ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জসহ দ¶িণ-প‚র্ব এশিয়ায়। প্রায় দু’হাজার বছর আগেও কচুর চাষ হত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমাদের দেশে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব এলাকায় কম-বেশি কচু জন্মে। রাস্তার পাশে, বাড়ির আনাচে-কানাচে, বিভিন্ন পতিত জমিতে অনেক সময় অনাদরে-অবহেলায় কচু হয়ে থাকতে দেখা যায়। বন-জঙ্গলেও জন্মে বুনো কচু। স্থলভ‚মি ও জলভুমি উভয় স্থানে কচু জন্মাতে পারে। তবে স্থলভাগে জন্মানো কচুর সংখ্যাই বেশি। বুনো কচু মানুষ খায় না। খাবার উপযোগী জাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুখীকচু, পানিকচু, পঞ্চমুখী কচু, পাইদনাইল, ওলকচু, দুধকচু, মানকচু, শোলাকচু ইত্যাদি। সবজি হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও সৌন্দর্যের কারণে কিছু কিছু প্রজাতির কচু টবে ও বাগানে চাষ করা হয়। এদের মধ্যে কতগুলোর রয়েছে বেশ বাহারী পাতা, আবার কতগুলোর রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর ফুল। আগের দিনে দরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা বৃষ্টির দিনে মানকচুর পাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যেত এমন কি হাট ঘাট করার সময় মানকচুর পাতা ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে মানকচু আর তেমন চোখে পড়ে না। মানকচুকে ঔষধি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কচু খেলে শরীর পুষ্ট হয় এবং শুক্র বৃদ্ধি পায়। মানকচুর কিছু গুণাগুণ নিচে দেয়া হলো-রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মানকচু সহায়তা করে। মানকচুতে ভিটামিন সি আছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। রক্তে বেশি পরিমাণে শ্বেতকণিকা তৈরি করে। এতে শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী পদার্থ দ‚র করতে পারে। দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে মানকচু প্রচুর কার্যকর। মানকচুতে আছে দরকারি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিটা ক্যারোটিন। যা শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিকেলসকে দ‚রে রাখে। এতে থাকা ভিটামিন চোখের জন্য উপকারী। শরীরে আয়রনের ঘাটতি প‚রণে ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে মানকচু কার্যকর। মানকচু সহজে হজম হয়। এতে আছে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফাইবার, পটাশিয়াম ও ম্যাংগানিজের মতো দরকারি পুষ্টি উপাদান। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এতে সাদা আলৃর চেয়ে বেশি ফাইবার থাকে। ফলে এটি সহজে হজম হয়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজম দ‚র হয়। সর্দি–কাশি দ‚র করতে মানকচু কার্যকর। সব রকম কচুর মাঝে মানকচুর মান বেশি। মাথাব্যথা, ভাইরাসজনিত সর্দি–কাশি ঠেকাতেও মানকচু কার্যকর। মানকচুতে থাকা ভিটামিন ত্বকের জন্য দারুণ সহায়তা করে। এতে ত্বকের বলিরেখা দ‚র হয় বলে শরীরের সতেজ দেখায়। হৃদযন্ত্রের জন্য, মানকচুতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার ও পটাশিয়াম অনেক ভালো। এটি হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখে। ধমনির ধকল দ‚র করায় রক্তচাপ থাকে নিয়ন্ত্রণে। এতো উপকারী একটি ফসল অথচ এটি চাষে কৃষি বিভাগের কোন ভুমিকা নেই।

গদাই গ্রামের কৃষক শাহজাহান জানান‘একটু পরিশ্রম করলেই মানকচু চাষ ভাল হয়। সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে অনেক বেকার যুবক মান কচু চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারে। প্রয়োজন কৃষি বিভাগের উদ্যোগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান এ উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় কচু চাষ হয়। তবে মানকচু চাষ হয় না। তবে কোন চাষি যদি মানকচু চাষ করতে চায় তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে। এছারা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিকভাবে মান কচু চাষে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষি মেলায় মান কচু চাষের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।