বিভাগ - অপরাধ

কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানার আগুনে একজন নিহত, আশঙ্কাজনক ৩৪

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ৩৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এ ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিদের সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।

দগ্ধ ও আহতদের মধ্যে রয়েছে, মো. ফায়সাল (২৯), জাহাঙ্গীর হোসেন (৫২), শফিকুল ইসলাম(২৭), মো. বসির (২০), ফয়সাল মিয়া (৩৫), দুর্জয় সরকার (১৭), সুমন ইসলাম (২৫), মেহেদী (২০), আসাদ (২৩), মো. সিরাজ (৫০), মো. সাজিদ (২৯), জিনারুল ইসলাম (৩২), শাখায়াত (৩০), আবু সাইদ (১৬), সোহান (২২), বাবুল (২৫), জাকির হোসেন মাদবর (২২), মো. আলম (২২), আ. রাজ্জাক (৪২), লাল মিয়া (৪২)।

আগুন নিয়ন্ত্রণে কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট, পোস্তগোলা ও সদর ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১০টি ইউনিট কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় র‌্যাব পুলিশসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, বিকাল সোয়া ৪টায় কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া হিজলতলায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ড্রাস্ট্রিস লি. এর কারখানার ভিতর গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে এলাকাবাসীর ধারনা। কারখানাটিতে ওয়ান টাইম খাবার প্লেট, গ্লাসসহ বিভিন্ন আইটেম তৈরি হতো। আশপাশের মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় ফায়ার সার্ভিস (ঢাকা জোন-৬) এর উপপরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আগুন লাগার পর আমরা খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬টা পর্যন্ত কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত আগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যাবে।

এ ঘটনায় মালিক নজরুল ইসলাম ও ম্যানেজার আল আমিনকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। র‌্যাব ১০ সিপিসি ২ মেজর মো. শাহরিয়ার হোসেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

সন্ধ্যার পর ঢাকা মেডিকেলে রোগীদের দেখতে আসেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওই কারখানার কোনো অনুমোদন ছিল না। কারখানাটি কীভাবে সেখানে হলো, সে ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেলে আসার আগে তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে ঢাকা মেডিকেলে আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড় ও আর্তনাদ লক্ষ করা গেছে। এ সময় সাহেরা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, তাঁর দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ওই কারখানায় মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে। চার বছর ধরে সে ওই কারখানায় কর্মরত। আজ দুর্ঘটনার পরপরই কারখানার লোকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসে। তার শরীরও পুড়ে গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে।উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।