কোন কোন জয় গ্লানির, পরাজয়ও সম্মানজনক

প্রকাশিত

এ্যাডঃ তৈমূর আলম খন্দকার: বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং বহুল আলোচিত রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেলো। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল সকল কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ। ইভিএম নিয়ে জোড়ালো আপত্তি উঠলে শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন যে, সকল রাজনৈতিক দল না চাইলে তারা ইভিএম চালু করবেন না। কিন্তু বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রবল আপত্তি থাকা স্বত্বেও ইভিএম পদ্ধতিতেই রাজধানীর ২ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেল। কলামিষ্ট জি. মুনীর (২৭/০১/২০২০) লিখিত আর্টিকেলের মর্ম মতে “বিশ্বের নানা অঞ্চলের নানা দেশে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এক দিকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু দেশ নিজেদের দূরে রেখেছে ইভিএম ব্যবস্থা থেকে, অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও এশিয়ার অল্প কিছু দেশ ইভিএমের প্রশ্নে আগ্রহ প্রদর্শন করছে। একটি সমীক্ষা মতে, বিশ্বের ৩১টি দেশ ইভিএম ব্যবহার করেছে বা করছে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে, কিংবা এ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছে বা চালাচ্ছে। মাত্র চারটি রাষ্ট্র তাদের সারা দেশে ইভিএম ব্যবস্থা চালু করেছে, ১১টি দেশ আংশিকভাবে অথবা ছোট ছোট নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করছে, পাঁচটি দেশ তা ব্যবহার করছে পাইলট প্রকল্প হিসেব, তিনটি দেশ তা চালু করে পরে বন্ধ করে দিয়েছে। আর ১১টি দেশে ইভিএম পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করে, পরে তা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” উক্ত পর্যালোচনা থেকে দেখা যায় যে, বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলি নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি প্রত্যাক্ষান করেছে।

এ বারের নির্বাচনে অন্যান্য অভিযোগের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় হতাশা সৃষ্টি হয়েছে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণে। উভয় সিটিতে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫৫ লক্ষ, অথচ দু প্রতিদন্ধী বড় দলের প্রার্থীদের ভোট পড়েছে মোট ১২,৪২,৭৪৫টি, তম্মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৩১৮টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছে ৪,৪৭,১১১টি, বিএনপি পেয়েছে ২,৬৪,১৬১টি ভোট। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৪,২৪,৫৯৫টি এবং বিএনপি পেয়েছে ২,৩৬,৫১২টি ভোট অর্থাৎ উভয় সিটিতে গড়ে ২৭.১৫% ভোটার উপস্থিত হয়েছে। উত্তর সিটিতে ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৫.৩০% এবং দক্ষিণ সিটিতে ২৯.০০২%। ২০১৫ ইং সনের নির্বাচনে উত্তর সিটিতে ৩৭.৩০% এবং দক্ষিণে ৪৮.৪০% ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত ছিল। এ পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, দিনে দিনে ভোটারগণ ভোটের প্রতি আস্থা হারিয়ে এখন ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ভোটারদের নিরাপত্তা বা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থাহীনতাই কি এর মূল কারণ?

ভোটার উপস্থিতি হতাশাজনক হওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেছেন যে, “ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি করার দায়িত্ব আমাদের নহে, এ দায়িত্ব প্রার্থীদের।” তার এ মন্তব্য কি গ্রহণযোগ্য? না কি ব্যর্থতার বহি:প্রকাশ। তাহাও অবশ্য জনতার বিবেকের মাপ কাঠিতে পর্যালোচিত হচ্ছে। মুন্নী সাহার (মিডিয়া কর্মী) সাক্ষাৎকারে কাজের বুয়া বা লেখা পড়া না জানা মহিলারা স্বাক্ষাৎকারে বলেছে যে, ভোট দানে তাদের কোন অসুবিধা হয় নাই। অথচ ডা. জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আঙ্গুলের ছাপ মিলে নাই ইভিএম এর সাথে। প্রবীন রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন বলেছেন ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে বিলম্ব হয়। ইভিএম প্রয়োগের আলোচনা-সমালোচনা ছাপিয়ে এখন ভোটার উপস্থিতি কম কেন হলো এ নিয়েই এখন চিন্তাশীল মহলে সর্বত্র আলোচনা, সমালোচনা।

ইতোপূর্বেও দেখা গেছে যে, দেশের কোথাও কোথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করেও ভোটারদের কেন্দ্রে আনা যায় নাই। সিটি নির্বাচনে কামরাঙ্গী চরে মাইকিং করার পরও ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয় নাই। এমন অনেক কেন্দ্র রয়েছে যেখানে কেন্দ্রে ভোটার যায় নাই। জাতীয় নির্বাচনে (৩০/১২/২০১৮) কেন্দ্রে ভোটার অনুপস্থিতি ছাড়াও পূর্ব রাত্রেই সীল মামার ঘটনা, অধিকন্তু গায়েবী মোকদ্দমা, প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর হামলা ও গ্রেফতার প্রভৃতি। ঢাকা সিটি নির্বাচনে অনুরূপ প্রকট অভিযোগ না থাকলেও অনিয়ম ও কেন্দ্রে বুথের ভিতর জোরপূর্বক ভোট দিয়ে দেওয়া, জোরজবরদস্তিসহ ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগের চেয়ে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার চিন্তাশীল মহলে উদ্দ্যেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে, এতে সরকারী দলেরও কন্ঠ একটু নীচে নেমে এসেছে। বোদ্দারা মনে করেন যে, ভোটারগণ কেন ভোট দানে উৎসাহ হারিয়েছে এ জন্য গবেষনা হওয়া জরুরী। সরকারী দলের প্রার্থী ও নেতাদের বক্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে যে, যেহেতু দেশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে, এ জন্য ভোটার উপস্থিতি কম। সরকারী দলের এ মন্তব্য “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার” নামান্তর মাত্র। নির্বাচনের দিন প্রধানমন্ত্রীর আহবান থাকা সত্বেও ভোটার উপস্থিতি কেন আশানুরূপ হলো না, তা নিয়ে তার একটি সরকারী ব্যাখ্যা জাতি প্রত্যাশা করে। পরীক্ষায় ৩৩% নাম্বার না পেলে তৃতীয় শ্রেণীর পাশও মিলে না। অথচ ২৭.১৫% ভোটারের অংশ গ্রহণমূলক নির্বাচন কি ভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? ৫০% ভোটার নির্বাচনে অংশ না নিলে সে ভোট কি জনগণের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটায়?

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে সরকারী দল বলছে যে, ইভিএম নিয়ে বিদেশীদের নিকট বিএনপি’র অভিযোগ এবং ছুটি থাকার কারণে ভোট উপস্থিতি কম হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার যখন বিদেশীদের নিকট অভিযোগ করে তখন অপরাধ হয় না, বরং বিএনপি কোন বিষয়ে অভিযোগ উপস্থাপন করলে সেখানে (সরকারী দলের মতে) দেশের জাত যায় বৈ কি (!) এ সকল বক্তব্য রাজনীতি মেধা শুন্য হওয়ার বহি:প্রকাশ মাত্র।

রাজনৈতিক দলগুলিতে রাজনীতির অনুশীলনের পরিবর্তে পাল্টা পাল্টির প্রতিযোগীতা হয় বিধায় রাজনীতি মেধাশুন্য হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি এখন দিনে দিনে ব্যবসায়িক কোম্পানীতে পরিনত হয়েছে, যেখানে কর্মী হিসাবে নয় বরং কর্মচারী হিসাবে অবদান রাখতে হচ্ছে, যার মূল্যায়ন করা হচ্ছে চামচাগিরিতে কে কতটুক এগিয়ে? জনগণের চাহিদার সাথে এ সংস্কৃতির কোন সামানজস্য নাই। জাতীয় নির্বাচন (২০১৮) এর মত সিটি নির্বাচনে এবার গায়েবী মোকদ্দমার গায়েবী প্রকোপ না থাকলেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনে সমতল মাঠের অভিযোগ বা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার অভিযোগ তারা খন্ডাতে পারে নাই। ভোটের পূর্বে দক্ষিণে সরকারী দলের শো-ডাউনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, “এটা উচিৎ হয় নাই।” অথচ বিএনপি যদি অনুরূপ শো-ডাউন করতো তখন তিনি কি এতো মিষ্টি ভাষায় অনুরূপ মন্তব্য করতেন? স্বরস্বতী পূজার জন্য নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না করার জন্য কমিশন অনড় ছিল, কিন্তু যখনই আওয়ামী লীগ থেকে তারিখ পরিবর্তনের গ্রীন সিগন্যাল দিল তখনই তারিখ পরিবর্তন হয়ে গেল। এখানে ভোটার ও প্রার্থীদের Balance of conviniance and Inconviniance নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করে নাই বা তাদের মতামত নেয় নাই। নির্বাচন কমিশন নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে সমন্বয়হীনতার ছিল যার প্রমাণ পাওয়া যায় জোষ্ঠ্য কমিশনারের ২৬/০১/২০২০ ইং তারিখে, যে মন্তব্য করেছেন যা নিম্নরূপ ঃ-

“নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিজের বক্তব্য দেয়ার স্থান সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, কমিশনের অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। তিনি বলেন, কমিশন সভায় আমার প্রস্তাব বা সুপারিশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অগৃহীত হয়। আমাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে না দেখে আমার বক্তব্যের বিষয়বস্তুর মেরিটকে বিবেচনায় নেয়া সমীচিন বলে মনে করি। আমার ধারণা, কমিশন সভায় আমার বক্তব্য প্রদানের স্থান সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে চাই। আমাদের কর্মকান্ডে তা দৃশ্যমান হওয়া বাঞ্ছনীয়।”

সিটি নির্বাচনে প্রমানিত হলো যে, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একই বৃত্তের দুটি ফুল। কারণ জাতীয় পার্টি প্রার্থী (দক্ষিণে) দিলেও প্রার্থীর পক্ষে কোন দলীয় কোন প্রকার কর্মকান্ড ছিল না। যদি বিএনপি কোন কারণে নির্বাচন বয়কট করত: তখন জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ড্যামি বানিয়ে সরকার নির্বাচন-নির্বাচন খেলায় মেতে উঠতো। উল্লেখ্য নির্বাচন-নির্বাচন (জনগণের অর্থে) খেলার কারণে জাতীয় সংসদ একদিকে প্রতিদন্ধিতা বিহীন প্রহসনমূলক তথাকথিত নির্বাচনের ফসল, অন্যদিকে গৃহপালিত বিরোধী দল সম্মলীত দেশের ধনীক শ্রেণীর মিলন মেলার একটি কেন্দ্রস্থল মাত্র।

চুলচেরা হিসাবে দেখা যায় যে, মাত্র ২৭.১৫% ভোটার ভোট দিয়েছে, যদিও এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকার বোতামে চাপ দিয়ে সবুজ বোতামে টিপ দিয়ে সবুজ বাতি জ্বালিয়ে দেয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত হয় নাই এটা গোটা মিডিয়ার বক্তব্য। অন্যদিকে সরকারী ঘরনার কোন কোন মিডিয়া ২/১টি কেন্দ্রে ফলাও করে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির বার্তা চেয়ার চেষ্টা করলেও জনমনে তা দাগ কাটতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সাংবিধানিক ভাবে দায়িত্ব নেয়ার কথা বা গবেষনা যাদের করার কথা, তারা এ মর্মে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। মনে হচ্ছে তারা দায়িত্ব পালন নয় বরং শুধুমাত্র চাকুরী করতে এসেছে। বিগত ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে, যার মেরুদন্ড সোজা রয়েছে, যে বিবেক দ্বারা তাড়িত, তাদের সাংবিধানিক ভাবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়া হয় না। কাগজে কলমে আইনগত ভাবে প্রতিষ্ঠাগুলিকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে চলার ক্ষমতা দেয়া হলেও কার্যকর করার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয় মাজাভাঙ্গা ছাপোষা মানুষগুলিকে যারা আজ্ঞাবাহ হয়ে কর্তার ইচ্ছায় কর্ম করতে অভ্যস্থ। যার ফলশ্রুতিতে নিয়োগ কর্তাকে খুশী রাখতে গিয়ে নিজ অস্তিত্বকে কর্তার মধ্যে বিলীন করে দেয়। ফলে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন হয়ে উঠে না, যাদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সীমাবদ্ধ আছে শুধু মূখে মূখে। তাদের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাড়ায় মাস গেলে বেতন তোলা, জনগণের অর্থে দামী বাড়ী গাড়ী ব্যবহার করা, জনগণ তাদের সম্মান করুক বা না করুক, পুলিশ দারোগার স্যালুট আছে (!) এটাই মেরুদন্ডহীনদের সান্তনা। মেরুদন্ডহীন লোকদের লজ্জা শরম একটু কম থাকে, এখানেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর আহব্বানের পর ভোটার অনুপস্থিতি প্রথমত: প্রমান করে যে, জনগণ বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির উপর আস্থা হারিয়েছে। এ অনাস্থা প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের উপরেই বর্তায়, যদিও সরকারী দল দাবী করছে যে, বিগত ১০০ বৎসরে এ ধরনের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আর হয় নাই, তবে এ সব কথা “কবরের” শান্তির সাথেই তুলনাযোগ্য, বাস্তবে নহে। যারাই সরকার চালায় “মিথ্যা” কথা যেন তাদের সার্বক্ষনিক সঙ্গী হয়ে পড়ে, ফলে অসহায় জনগণ বিশ্বাস করুক বা না করুক মিথ্যার কলের গান চলছে অনবরত।

দ্বিতীয়: রাজনৈতিক দলগুলি যে মেধাশুন্য হয়ে পড়েছে ভোটার বিহীন নির্বাচনের এটাই তার একটি নমুনা। রাজনীতি চর্চার বা অনুশীলন বা শিক্ষার স্কুল হলো রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলগুলিতে রাজনীতির চর্চা বা অনুশীলন হয় না, বরং দলে এখন কর্মীর চেয়ে কর্মচারীর সংখ্যাই সংখ্যাগরিষ্টের চেয়েও বেশী। রাজনীতি শিক্ষার স্কুলগুলিতে যে সংস্কৃতি প্রকাশিত হয়েছে তা হলো ক্ষমতা থাকলে টেন্ডার বানিজ্য, আর ক্ষমতায় না থাকলে পদ পদবীর বানিজ্য। বানিজ্য থেমে থাকছে না। বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মত রাজনৈতিক দলের এ.সি.আর অর্থাৎ বাৎষরিক গোপনীয় প্রতিবেদন অর্থাৎ পদ/প্রমোশন নির্ধারিত হয় কর্ম বা মেধার ভিত্তিতে নয় বরং চামচাগীরি নির্ভর।

তৃতীয়: (১) ইভিএম পদ্ধতির উপর জনগণের আস্থাহীনতা, (২) ভোট দিলে বা না দিলেও প্রশাসন সরকারী দলকে পাশ করিয়ে দেয়, (৩) ভোট কেন্দ্র দখলের সরকারী দলের হুমকির সাথে বিএনপি প্রতি কেন্দ্রে ৫০০ সন্ত্রাসী রাখার (যদিও মিথ্যা প্রমাণিত) সরকারী দলক কর্তৃক আগাম বার্তা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য যথেষ্ঠ ছিল, (৪) প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নগ্ন পক্ষপাতিত্ব ও (৫) বিরোধী দলের পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট হওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা।

চতুর্থ: দেশে গোটা রাজনীতিতে চলমান সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের প্রতি গনগণের আস্থাহীনতাই ভোট কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ভোটার অনুপস্থিতির মূল কারণ।

লেখক
কলামিষ্ট ও আইনজীবী
(এ্যাপিলেট ডিভিশন)

error0