বিভাগ - সারাদেশ

ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক

প্রকাশিত

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীরপ্রতীক মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় ১৬ নভেম্বর, ১৯৭১ খ্রিঃ আনুমানিক সকাল ৭.৩০ টায় নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী সড়কের সন্তোষপুড় নামক স্থানে পাক বাহিনীর দু’জন সৈন্যকে দেখতে পান। সে সময় এ দু’জন পাক সেনা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারপরও ক্যাপ্টেন আজিজুল হক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দু’জনকে জীবিত অবস্থায় ধরে ফেলেন। এদের একজন ৪৮ফিল্ড আর্টিলারী কোরের সিপাহী আতা মোহাম্মদ এবং অপরজন ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সিপাহী আসলাম খান নেওয়াজী। আটককৃত এ দু’জন পাক সেনার কাছ থেকে ৭.৬২ মডেলের দু’টি চাইনিজ রাইফেল এবং দু’জনের নিকট থেকে মোট ৪০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আজিজুল হক ১৯৭১ সালে রংপুর ইপিআরের ১০ উইংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত মুজাহিদ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চের ১০ দিন আগে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে লালমনিরহাট শহরে বাবার বাড়িতে যান। ছুটি শেষে চাকরিতে আর যোগ দেননি।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কয়েক দিন পর ভারতে যান। পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য ৮ নম্বর সেক্টরের সাহেবগঞ্জ (ভারত) সাবসেক্টরে হাজির হন। ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন আহমেদ তাঁকে কোম্পানি কমান্ডার পদে নিযুক্ত করেন। তাঁর যুদ্ধ-এলাকা ছিল কুড়িগ্রাম জেলার জয়মনিরহাট, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, পাটেশ্বরী, রায়গঞ্জ ও সন্তোষপুড়।

মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য স্বাধীনতার পর আজিজুল হককে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ন্যাশনাল মিলিশিয়া গঠিত হলে তিনি তখনকার গাইবান্ধা মহকুমা ন্যাশনাল মিলিশিয়ার ক্যাম্প কামান্ডেন্ট নিযুক্ত হন। পরে তাঁকে অনারারি ক্যাপ্টেন পদমর্যাদা দেওয়া হয়।

১৯৭১ সালে আজিজুল হকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় ও বাবার বড় সন্তান হওয়ার পরও তাঁর মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে না পারার দুঃখ ভুলে যেতে পারেননি।’ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১ সেপ্টেম্বর আজিজুল হকের বাবা ভারতের আলীপুর দুয়ার মহকুমার ছিপকাটা গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন।

একাত্তরের রণাঙ্গনের সাহসী যোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আজিজুল হক ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১ এপ্রিল লালমনিরহাট জেলা শহরের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে রামকৃষ্ণ মিশন রোডে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম ছখি উদ্দিন আহম্মেদ, মাতার নাম মোছাম্মদ আছিয়া খাতুন এবং স্ত্রীর নাম মিসেস ফরিদা হক। ক্যাপ্টেন (অব:) আজিজুল হক বীর প্রতীক ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। পুত্র ফয়ছাল হক (অনিক) এবং কন্যা আরবী হক (অজন্তা)।

ক্যাপ্টেন (অব:) আজিজুল হক বীর প্রতীক উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অন্তর্ভুক্ত হন। নিজ যোগ্যতা বলে তিনি পরবর্তীতে ১৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন ‘কোয়ার্টার মাষ্টার’ মনোনীত হন।