বিভাগ - আইন-আদালত

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার, নজর আদালতের দিকে

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: যে দুটি মামলা খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা হয়ে আছে তার একটিতে জামিন শুনানি হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর)। এদিন যদি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জামিন পান তাহলে তাঁর মুক্তির পথ অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

ফলে এদিন আদালতের দিকে নজর থাকবে নেতাকর্মীদের। যদিও নেতাকর্মীদের অভিযোগ- আদালতের সব কিছু এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। যদি তিনি জামিন না পান তাহলে তাঁর প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ পাবে বলেও দাবি করেন নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই শুনানি শুনতে চেয়ে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদনের শুনানি পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ।

এদিন আদালতে বেগম জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন তাঁর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে থাকবেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়।

হাইকোর্ট গত ৩১ জুলাই জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর আপিল করেন খালেদা জিয়া। ওইদিনই আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১৪০১ পৃষ্ঠার এ আপিল আবেদন দাখিল করা হয়।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন আছে। এর মধ্যে জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। অরফানেজ মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল আপিল বিভাগে ও চ্যারিটেবল মামলায় ৭ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন আছে। মূলত এ দুটি মামলায় জামিন পেলেই বেগম জিয়ার মুক্তির পথ খুলবে।