বিভাগ - জাতীয়

খালেদা জিয়া যে অসুস্থ, সেটি তো পুরনো খবর: শেখ হাসিনা

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরং খালেদা জিয়া বিদেশে গিয়ে হুইল চেয়ারে করে শপিং করেছেন, এমনকি হজও করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে বছর তিনেক আগে সরে দাঁড়ানো মোসাদ্দেক আলী ফালু বিদেশে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করতে সহায়তা করেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিন বছর পর দলের এই ফোরামটির সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া যে অসুস্থ, সেটি তো পুরনো খবর। তিনি যখন ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসেন, তখন আমেরিকায় গিয়ে পায়ের নি-ক্যাপ রিপ্লেস করেছিলেন, অপারেশনও হয়। তারপর আবার সৌদি আরবে অপারেশন করান। খালেদা জিয়া যখন বিদেশে গেছেন, তখন তো হুইল চেয়ারে শপিং করতেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফালু হুইল চেয়ার ঠেলত, আর খালেদা জিয়া শপিং করত। সে (খালেদা জিয়া) যখন হজে যায়, তখন ফালু হুইল চেয়ার ঠেলেছে, খালেদা জিয়া হজ করেছে। কাজেই এই যে হুইল চেয়ারে বসা, এটি নতুন কিছু না। এটি তো আমরা বহু যুগ ধরে দেখে আসছি। তারপরও আবার তার জন্য আন্দোলন। তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আল্লাহ তো বলে দিয়েছেন— যে এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ নিজেই তার ব্যবস্থা নেন।’

কারাগারে খালেদা জিয়ার সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেনন, পৃথিবীর কোনো দেশ কি এই দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে যে কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সেবার জন্য তার নিজস্ব কাজের বুয়া দেওয়া হয়? সেটিও কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগারে বসে পাচ্ছেন।

বিএনপির ভোট চুরি থেকে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর রাজনীতির বিভিন্ন নেতিবাচক রাজনীতির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভোট চুরি, তারপর মানুষ হত্যা, আগুন দিয়ে পোড়ানো। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা— এ ধরনের কালচার বিএনপির। জিয়াও যেমন খুনি ছিল, খালেদা জিয়াও খুনি, তার ছেলেও খুনি। গোটা পরিবারই খুনি পরিবার। এরা মানুষ খুন করা, দুর্নীতি করা, অর্থ আত্মসাৎ করা ছাড়া আর কিছুই জানে না। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই কিন্তু দেশের উন্নতি হচ্ছে।

সভা পরিচালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতির একপাশে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সভাপতিমণ্ডলির সদস্যরা ছিলেন।

উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, আবুল মাল আবদুল মুহিত, তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিমণ্ডলির সদস্যদের মধ্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মতিন খসরু, নুরুল ইসলাম নাহিদ, কর্ণেল(অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, আব্দুল মান্নান খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর উপস্থিত ছিলেন। বাকি সদস্যরা সামনের দিকে উপস্থিত ছিলেন।