বিভাগ - সারাদেশ

গরুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ঠাকুরগাঁওয়ে খামারিরা

প্রকাশিত

ফিরোজ সুলতান : ঠাকুরগাঁও : আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরুর মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ে খামারিরা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে খামারিরা। আর কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাপারীদের কাছে ও বিভিন্ন বাজারে গরু বিক্রির জন্য নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের মধ্যে গরুর দাম ঠিকমত পাওয়া যাবে কি-না তা নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে জেলার ছোট বড় সব খামারির মধ্যে। এর মধ্যে বাজারে ভারতীয় গরুর আমদানি হবে কি-না এমন দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন খামারিরা।

সরেজমিনে কয়েটি খামারে গিয়ে দেখা যায়, গমের ভূষি, খৈল, খড়, কাঁচা ঘাসসহ অন্যান্য খাবার খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে। কেউ খড় কাটছেন কেউবা গরু পরিষ্কার করছেন। এভাবেই দেশীয় পদ্ধতিতে চলছে ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের খামারিদের গরু মোটাতাজা করণের কাজ। সকলেরই লক্ষ্য আসন্ন কোরবানির ঈদে ভালো দামে গরু বিক্রি করা। কিন্তু করোনা কারণে গো-খাবারের দাম বেশী হওয়ায় খরচও হচ্ছে বেশী।

এদিকে ঈদ ঘনিয়ে আসলেও খুব একটা দেখা মিলছে না ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাইরের গরুর ব্যাপারীর। করোনা কারণে স্থানীয় বাজারে নেই তেমন গরুর দামও। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে বাজারে আসবে ভারতীয় গরু এমন শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

ব্যাপারী সাজু মিঞা জানান, এ জেলার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে খামারিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় গরু রপ্তানি করে থাকেন। যার কারণে গত বছরের তুলনায় গরুর দাম কম, তবে সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ হলে তারা লাভ করতে পারবেন বলে জানান। এদিকে খামারি আনোয়ার জানান, করোনা আতংকে গরু কিনতে বাইরের খরিদ্দার তেমন আসছে না। যদি ভারতীয় গরু বাজারে আসে তাহলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে। ঠিকমত দাম পাবকিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি! সঠিক দাম না পেলে আমাদের অবস্থা কি হবে জানিনা?

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন বলেন, এবারে গো-খাদ্যর দাম বেশি। খামারিদের এখন কিছুটা লোকসান হলেও তারা ভালো দাম পাবেন। দেশীয় গরুই দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবে তাই প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন নেই। এ জেলায় প্রচুর খামারি তাদের গরু বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।