গাজীপুরে ঈদের রাতে আত্মহত্যা

প্রকাশিত

টি.আই সানি,গাজীপুর: আমি একলা কাম করে সংসার চালাইতে পারিনা,তরে কইলে সে কাম করেনা,কামের কথা কইলে আমারে গরের বাইরে রাইখা ঘুমায়া পড়ে,রাতা রাইত আমি ঘরের বাইরে খারায়া থাকি,আমার কাম করতে করতে জীবন শেষ। স্বামী মারা যাওয়ার পর মনের গভিরে লুকিয়ে থাকা এমনই কথা বলছিলেন শেফালী বেগম।

গাজীপুরের শ্রীপুরে তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামে ঘরের আড়ার সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন বেকার যুবক মোঃ আজমতউল্লা (৩০)। উপজেলার আবদার গ্রামের জৈনা বাজার কাঠ ও লাকরি ব্যবসায়ী আলাল উদ্দিনের ভাড়া বাড়িতে এঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আজমতউল্লাহ টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার বাড়িবান্দা গ্রামের জয়দ আলীর ছেলে। স্ত্রীকে নিয়ে দুই বছর যাবৎ উপজেলার আবদার গ্রামে আলালউ দ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভাড়া থেকে শেফালী বেগম স্থানীয় একটি করখানায় চাকরি করতেন।

শেফালী বেগম বলেন, সোমবার রাতে ঈদের কেনা কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ ব্যাপারে রাতেই শ্বশুর জয়দ আলিকে বিষয়টি জানানো হয়। শোনার পরই শশুর রাতে বাসায় চলে আসেন। শশুর চলে যাওয়ার পর পরে রাতের খাবার খেয়ে ১২টার দিকে আমাকে বাহিরে রেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ঘরে শুয়ে পড়ে আজমত উল্লাহ। রাতে অনেক ডাকাডাকি করলেও দরজা খুলেনি,রাগ করে ঘুমিয় পড়েছে মনে করে রাতের আর কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে আবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে পাশের ঘর থেকে সিলিং এর উপর দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলতে দেখা যায়।

পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে থানায় খবর দেয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে শ্রীপুর মডেল থানার পুলিশ।

শ্রীপুর মডেল থানার এস আই নয়ন ভূইয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।