গুটিকয়েক নেতার কারণে যুবলীগের বদনাম: হারুন

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুবলীগের এখন যে সমালোচনা হচ্ছে, তার জন্য গুটিকয়েক নেতাকে দায়ী করেছেন সংগঠনটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ।শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের কংগ্রেসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংগঠনের বেশিরভাগ নেতার নির্দোষিতার পক্ষে বলেন তিনি।

আওয়ামী যুবলীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এবং সপ্তম কংগ্রেসের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ তাদের কমিটির চেয়ারম্যানসহ বিতর্কিত নেতাদের ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে যুবলীগের ওপর যে কালিমা লেপন হয়েছে তা দূর হবে।

এ সময় তিনি জানান, যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে লোভ-লালসা নেই। তবে তাদের মতো নেতাদের লোভে পেয়ে বসেছে বলে জানান বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক। তার কণ্ঠ বারবার রুদ্ধ হয়ে আসছিল।

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। বিদায় বেলায় মন ভারাক্রান্ত হয়ে আসছে। অনেক আন্দোলন সংগ্রামের সাক্ষী। এই কাজের মধ্যে কখনো কখনো অনেক নেতাকর্মীকে শাসন করেছি। কষ্ট দিয়েছি।’শুরুতে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে সাংগঠনিক রিপোর্ট পাঠ করেন। লম্বা বক্তব্য হওয়ায় তিনি বাকি অংশ পঠিত বলে গণ্য করার জন্য অনুরোধ করেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যুবলীগের সপ্তম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুবলীগ নেতা হারুন অর রশীদ যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন শেখ হাসিনাকে তার দিকে একনাগারে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের বেশ কিছু নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। নতুন নেতৃত্ব স্বচ্ছ ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি করেন। পাশাপাশি আন্দোলন সংগ্রাম এবং দলের প্রতি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

হারুন বলেন, ‘আজকে বিদায় বেলা সত্যি খুব কষ্টের বিষয়। আজকে নেত্রীর কাছে একটা কথা বলতে চাই। আমাদের যারা সাধারণ কর্মী তারা খুবই ভালো মানুষ, তাদের কোনো লোভ লালসা নেই। তারা আপনার আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে। আপনার নির্দেশ পালনের জন্য যুবলীগের নেতাকর্মীরা সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ দিতে প্রস্তুত। নূর হোসেন জীবন দিয়ে তা প্রমাণ করে গেছে। আমাদের সেই কর্মীরা শুধু একটু ভালোবাসা চায়। একটু সম্মান চায়। এর বেশি তৃণমূলের কোনো দাবি নেই।’

দলের বিতর্কিত নেতাদের কথা বলতে গিয়ে হারুন বলেন, ‘আমাদের মতো কিছু লোকের ওপর লোভ-লালসা ভর করেছে। আমরা মানুষের জন্য রাজপথে কাজ করি, পুলিশের হাতে লাঠিপেটা খাই। কিন্তু গুটিকয়েক লোকের রাতারাতি বড়লোক হওয়ার দুঃস্বপ্নের কারণে আজকে রাজনীতিবিদদের অপবাদ সহ্য করতে হচ্ছে।’

শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাদেরকে শিখিয়েছেন রাজনীতিতে নেওয়ার জন্য রাজনীতি দেয়ার জন্য যা যুবলীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী পালন করে আসছে। আমরা বঙ্গবন্ধু এবং আপনার কাছ থেকে যা শিখেছি মনে করি আজকের এই কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে নতুন যে নেতৃত্বে আসবে। সেই নেতৃত্ব আমাদের রাজনীতি পথচলা এগিয়ে চলার লড়াই-সংগ্রামে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে স্বপ্ন দেখছে ২১০০ সাল পর্যন্ত আপনি যে স্বপ্ন দেখেছেন যে বাংলাদেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের যুবসমাজ উদ্বেলিত হয়েছে। সে স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব এমন একটি অবকাঠামো সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গড়ে তুলবেন। এ সংগঠনের যে কালিমা রয়েছে তা দূর করবেন। আমি মনে করে আমাদের বিদায়ের মাধ্যমে সে কালিমা দূর হবে। নতুন নেতৃত্বের জন্য একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে সে দিগন্ত হবে আলোর দিগন্ত।’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও একজন ইমানদার মানুষ হিসেবে নিজের মৃত্যু যেন হয় সেজন্য সবার কাছে দোয়া চান হারুন অর রশীদ।