বিভাগ - সারাদেশ

ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসবের প্রস্তুতি

প্রকাশিত

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির জীবনে অগ্রহায়ণ আসে কৃষকের মাঝে নতুন বার্তা নিয়ে। নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি পিঠা, পায়েস, ক্ষীরসহ নানা রকম খাবারে মুখরিত হয়ে ওঠে বাঙালির প্রতিটি ঘর। নতুন ধানের পিঠা-পায়েসের ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। নতুন ধান ঘরে আসার পর শুরু হয় চালের তৈরি পিঠাপুলি খাওয়ার নবান্ন উৎসব। বাঙালির ঘরে ঘরে নবান্নের হৈই চৈই পড়ে যায়। চিরাচরিত এ উৎসব আমাদের সংস্কৃতির শেকড়ের অংশ।

অগ্রহায়ণে নবান্ন নিয়ে আসে খুশির বার্তা। নতুন ধান ঘরে উঠানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। আর ধান ঘরে উঠলে পিঠা-পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় চলে নবান্ন উৎসব। গ্রামবাংলায় নতুন এক আবহ সৃষ্টি হয়। নবান্ন উৎসবের সাথে মিশে আছে বাঙালীদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নানা দিক। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি জাতি ধর্ম বর্ণ উপেক্ষা করে নবান্নকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে। কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় শস্যভিত্তিক এই লোকজ উৎসবটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বৃহত্তর যশোরের প্রতিটি গ্রামে।

ঝিকরগাছা গ্রামের ধান চাষি রুবেল বিশ্বাস বলেন, এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। ধান বাড়িতে আনার সাথে সাথেই চিড়া, মুড়ি ও চালের গুড়া তৈরি শুরু হয়ে গেছে। কদিনের মধ্যে পিঠা-পায়েসে ভরে উঠবে বাড়ি। দাওয়াত দেওয়া হবে আত্মীয়স্বজনদের। পরিবার, আত্মীয় স্বজন সব মিলে আনন্দের সাথেই কাটবে সময়।

শার্শার পাকশিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, নবান্ন শব্দটি শুনলেই পিঠা, পুলি, পায়েস, চিড়া, মুড়ি-মুড়কি আর নতুন চালের সুগন্ধে ভরে ওঠে মন। এসময় কোনো বাড়িতে চালের গুঁড়া করছে পিঠা তৈরির জন্য, কোনো বাড়িতে তৈরি হচ্ছে পায়েস। বাড়ি বাড়ি পিঠা তৈরির ধুম পড়ে গেছে।

যশোর শহরের দড়াটানা এলাকায় কথা হয় সদরের হালসা গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদ আলীর সাথে। তিনি জানান, নবান্ন বাঙালির একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। তার বাড়িতেও চলছে নবান্ন উৎসব পালনের প্রস্তুতি। আরেক কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষার পর আসে এই সময়টি। হেমন্তের মৃদু বাতাসে যখন পাকা ধানের শীষ দোল খায়, আমাদের মন তখন খুশিতে ভরে ওঠে। সোনালি ধানের দিকে তাকালেই চোখে নতুন নতুন স্বপ্ন ভেসে বেড়ায়। দীর্ঘ কয়েক মাস কঠোর পরিশ্রম করার পর ঘরে আসবে নতুন ধান। সেই ধান বাজারে বিক্রি করবে। কৃষকের মুখে ফুটবে হাসি। আমন ধান সাথে করে নিয়ে এলো নবান্নের উৎসব। পিঠা-পুলি, চিড়া, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস ও নতুন ধানের সুগন্ধে মুখোরিত হবে চারিদিক।