বিভাগ - সারাদেশ

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের অনলাইন নিউজ পোর্টাল একুশে পত্রিকায় গত ০৩ ডিসেম্বর ‘ছিলেন চোর, এখন ‘বোয়ালখালীর বাদশা’ শিরোনামে সংবাদটি মিথ্যা, কাল্পনিক ও বানোয়াট দাবি করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাবেক ছাত্রনেতা বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বোয়ালখালী পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মো.মনছুর আলম পাপ্পী।

৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের রহমান হলে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে চট্টগ্রামে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আলহাজ্ব মো. মনছুর আলম পাপ্পী বলেন, আপনারা হয়ত অনেকেই জানেন, আমি আলহাজ্ব মনছুর আলম পাপ্পী শৈশব কাল হতে সত্য-নিষ্ঠার সাথে জীবন যাপন করার চেষ্টায়রত। আমার কর্মদক্ষতার ওপর ঈর্ষানীত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বিগত সময় অসংখ্য অপ-প্রচারসহ একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ আর্থিক ক্ষতি সাধিত করেছে। আমি কারো বিরুদ্ধে আক্রোশ হয়ে কোন ধরণের ক্ষতি সাধিত কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলাম না এবং আগামীতেও হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমি দীর্ঘ বছর সততার সাথে বাংলাদেশ সরকারকে নিয়মিত আয়কর প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছি। আমার ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে কোন ধরনের ফাঁকফোকর ছিল না। ব্যবসায়ীক সফলতা অর্জনের মাধ্যমে আমি গাড়ী-বাড়ীর মালিক হয়েছি এবং আমার ছেলে সন্তানদের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করিয়ে আসছি।

মনছুর আলম পাপ্পী জানান, তিনি ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯০ সালে আমার স্থানীয় এলাকা কধুরখীল ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় ২৭ জুলাই ২০১৯ ইং সালে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনোনীত হই। এছাড়া আমি অসংখ্য সমাজসেবামূলক সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সম্প্রতি একুশে পত্রিকায় লেখা হয় কর্ণফুলী কালুরঘাট এলাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে বালি উত্তোলনের কথিত সংবাদটি বানোয়াট ও কাল্পনিক। এছাড়া বাস্তব সত্য হল যে, আমরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক হতে বৈধ ইজারা নিয়ে সরকারী সকল শর্ত সাপেক্ষে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি।

এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেগা প্রজেক্ট এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ১৩তম ইউনিভার্সিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রকল্পটির কার্যাদেশ নিয়ে সুনামের সহিত বালি ভরাটের কাজ করেতেছি।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বলেন, মূলত আসন্ন বোয়ালখালী পৌরসভা নির্বাচনে আমি মেয়র পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার মানসে প্রতিদিন সামাজিক, রাজনৈতিক কর্মসূচী গণসংযোগ উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচি করায় আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি জামায়াত জোটের কতিপয় ষড়যন্ত্রকারী নেতৃবৃন্দের যোগসাজেসে আমি ও আমার পরিবারের সুনাম ব্যক্তি ইমেজ ক্ষুন্ন করার লিপ্ত রয়েছে। একুশে পত্রিকা নিউজ পোর্টালের মনগড়া কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন সংবাদে তা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়।

আমার কোন ধরনের ইচ্ছা নেই, সাংবাদিক তথা সংবাদপত্রের সাথে অহেতুক কাঁদা ছোড়াছুড়ি করার। সংবাদপত্র দেশের দর্পন সাংবাদিকেরা হলেন সমাজের বিবেক। সেই বিবেকমান কিছু কিছু সাংবাদিক বিবেকহীনতার ভূমিকায় অবতীর্ন হয়ে আমাদের মত নিরহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করে থাকে যা অপ্রিয় হলেও সত্য।
অহেতুক বিভ্রান্তমূলক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে ও আমার প্রাণপ্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জনমূখী কর্মসূচী সফল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক দেশের বিপুল উন্নয়ন কর্মকান্ড বোয়ালখালীবাসির কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের বর্হিপ্রকাশ বলে মনে করছি।

তিনি বলেন, এক কথায় আমাদের জড়িয়ে একুশে পত্রিকায় যে খরবটি প্রকাশিত হয়। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট আমরা এসব মিথ্যা বানোয়াট প্রকাশিত খবরের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও দুঃখ প্রকাশ করছি। কেননা এর সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তার বিরুদ্ধে করা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভুল তথ্যে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হয়ে সংবাদটি ঘৃণাভাবে প্রত্যাখান করেন। সম্মেলনে সাংবাদিকেরা উপস্থিত হয়ে বক্তব্য অনুধাবন করায় সাংবাদিকদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সিনিয়র সদস্য বেলাল মো. সাইফুদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ আলম, সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, চেয়ারম্যান শামসুল আলম, মো. কাজী ওসমান খসরু, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বায়োজিদ রাজু, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সরওয়ার উদ্দিনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।