বিভাগ - কৃষি

চায়না কমলার বাগান দেখিয়ে কোটিপতি ফারুক!

প্রকাশিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ আমাদের দেশে কমলা উৎপাদন নিয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মনে দীর্ঘদিন ধরে যে সংশয় চলে আসছিলো ওমর ফারুক তা বদলে দিয়েছেন। পাহাড়ি এলাকার পরিবর্তে সমতল ভূমিতে কমলা চাষে সফল হয়েছেন এ নার্সারি ব্যবসায়ী। সুমিষ্ট চায়না কমলা উৎপাদিত হয়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিজিটরদের ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ওমর ফারুকের কমলা দেখতে প্রতিদিনি বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে। নার্সারি ফারুক এখন কমলা ফারুক নামে পরিচিতি পেয়েছেন। শুধু তাই নয় ১ বিঘা জমিতে ১০০টি কমলার চারা দিয়ে বাগান করে তিনি আজ সফল কমলা চাষী। ব্যবসা জমজমাট। ১ বিঘা জমির কমলা বাগান দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করে রাতারাতি আজ তিনি কোটিপতি। কমলা চাষ ওমর ফারুকের মুল পেশা না মুল পেশা হচ্ছে ওনার কমলার চারা বিক্রি। বাগানে কমলা দেখিয়ে আর টেলিভিশনের পর্দায় সুমিষ্ট আকর্ষনীয় বক্তব্য দিয়ে দর্শকদের মন জয় করছেন তিনি।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নিধিকুন্ডু গ্রামের ওমর ফারুক জানান, তিনি মূলত একজন ক্ষুদ্র নার্সারি ব্যবসায়ী। অনেকটা আগ্রহের বসে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিধিকুন্ডু গ্রামের মাঠে নিজের ১ বিঘা জমিতে চায়না কমলার বাগান করেন। ১০০টি চারা ধরে এক বিঘায়। পরিচর্যার পর ২ বছরের মাথায় ২০১৮ সালের নভেম্বরে গাছে কমলা ধরে। এ কমলা অবিকল চায়নার কমলার মতো দেখতে এবং রঙ ও স্বাদে একই রকম। ওই বছর তিনি আড়াই লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেন এবং বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ার জন্য ৩০ হাজার কলম চারা বাধেন। এ বছর প্রতিটি গাছে গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ কেজি করে কমলা ধরেছে। গাছে থোকাই-থোকাই ঝুলছে কেবল কমলা আর কমলা। ওমর ফারুকের কমলা বাগানের এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মিডিয়াকর্মী, আগ্রহী চাষি ও দূর-দুরান্ত হতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় কমলা বাগানে লেগেই আছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারী টেলিভিশনের সংবাদ সাক্ষাতকারে ওমর ফারুক জানান, কমলা চাষে খরচ অত্যান্ত কম। এ বছর তিনি ৮ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা করেননি। দর্শনার্থীদের দেখার জন্য কমলা গাছেই রেখে দিয়েছেন। খেতে দিচ্ছেন এ কমলা। এতে তারা খুশি হয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কমলার চারা, অনেকেই বাগান তৈরির জন্য দিচ্ছেন চারার অর্ডার। প্রতি পিস চারা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দেড় মাসে ১৪ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন। এখনো ১৬ লাখ টাকার চারা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, কেবল পাহাড়ে নয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমতল ভূমিতেও সুমিষ্ট কমলার চাষ সম্ভব।

তিনি আশা করে বলেন, বিদেশ থেকে আমাদের কমলা আমদানির দিন শেষ হতে চলেছে। বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তুললে সুমিষ্ট দেশীয় কমলা দিয়ে আমাদের বাৎসরিক চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ঘটবে এবং দেশ কমলায় স্বাবলম্বী হবে ইনশাআল্লাহ। উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার জানান, ওমর ফারুকের সকল প্রকার সহযোগিতা কৃষি বিভাগ থেকে করা হচ্ছে। আগ্রহী কমলা চাষিদের এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।