বিভাগ - সারাদেশ

চুনারুঘাটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিম্নমানের চা পাতাসহ দুইজন আটক

প্রকাশিত

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসা নিম্নমানের চোরাই চা পাতায় সয়লাব হয়ে গেছে বাজার। কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেও চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না প্রশাসন। ফলে দিনদিন দেশী চা পাতার বাজারে ধ্বস নেমে এসেছে। লোকসানের মুখে পরেছেন বাগান মালিকরা।অনুসন্ধানে জানা যায়, চুনারুঘাট ও মাধবপুরের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রায় বছরখানেক ধরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিম্নমানের চা পাতা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি এর মাত্র আরও বেড়ে যায়। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশাকাকে কাজে লাগিয়ে প্রতি রাতেই ভারত থেকে অবৈধপথে বাংলাদেশ প্রবেশ করছে লাখ লাখ টাকার নিম্নমানের চা পাতা। এসব চা পাতা জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। নিম্নমানের এসব চা পাতা বাজারে স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারাও কিনছেন দেধারছে। ফলে উন্নতমানের দেশি চা পাতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা। চায়ের রের্কড পরিমাণ উৎপাদণ হলেও লাভের মুখ দেখছেন না বাগান মালিকরা। এ ব্যাপারে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে দফায় দফায় মিটিং করেও বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না চোরাচালান।এদিকে, চোরাচালন রোধে প্রতি রারেই কঠোর নজরধারী রেখে টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি থেকে শুরু করে পুলিশ, ডিবি এমনকি সিআইডিও এখন চোরাকারবারিদের ধরধে রাতে অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেফতার ও চোরাই পণ্য জব্দও করা হচ্ছে কয়েকদিন পরপরই। কিন্তু এরপরও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না চোরাকারবারিদের। গতকাল শুক্রবার রাতেও চুনারুঘাট থেকে ৩ হাজার ৯১৩ কেজি ভারতীয় নিম্নমানের চা পাতা জব্দ করে সিআইডি। এ সময় দুটি পিকআপ ভ্যানসহ দুইজনকে আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন- চুনারুঘাট উপজেলা দক্ষিণ দেওরগাছ গ্রামের রমিজ আলীর ছেলে মো. রতন মিয়া (১৮) ও একই উপজেলার কালিসিঁড়ি গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে তাহের মিয়া (২২)। তারা দুজনেই পিকআপ চালক। তবে এ সময় মূল পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।সিআইডির পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান- গতকাল শুক্রবার ভোররাতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকা থেকে দুটি পিকআপ চাঁনপুর বাগান দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সিআইডি পুলিশ পিকআপ দুটি আটক করে তল্লাশি করলে বস্তা ভর্তি ৩ হাজার ৯১৩ কেজি চোরাই চা পাতা পায়। এসময় পিকআপের দুই চালককে আটক করলেও পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। জব্দকৃত চা পাতার বাজার মূল্য ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৯শ’ টাকা বলে জানায় সিআইডি। এ ব্যাপারে সিআইডি পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আটককৃতদের সদর থানায় হস্থান্তর করে। আজ শনিবার তাদের আদালতে তুলা হবে বলে জানায় সিআইডি। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা সিআইডি কার্যালয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।