ছাতকে কর্মহীন পরিবারের সরকারি সহায়তাও পায়নি অনেকেই

প্রকাশিত

ছাতক প্রতিনিধি::ছাতকে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হচ্ছে ভিক্ষুক,দিনমজুর ও অটো চালিত শ্রমিক। এ সম্প্রদায়ের তিন প্রায় ৯০ ভাগ লোক হতদরিদ্র ও দিন মজুর। করোনাভাইরাসে ১৩টি ইউনিয়নের ২ সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার পরিবার কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। নেই কোন কাজ কর্ম। বেকার সময় পার করেছেন হতদরিদ্র দিনমজুর চালক ও অন্ধ ভিক্ষুক। তাদের কয়েক পরিবার সরকারী কিছু সহায়তা পেলেও অধিকাংশ পরিবারে জুটেনি সরকারি বা বেসরকারি খাদ্য সহায়তা। দ্রুত পরিবারগুলোকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাতক উপজেলার, ছৈলাআফজলাবাদ, উত্তরখুরমা, কালারুকাসহ ইউপির ৩ টি ইউনিযনের চেয়ারম্যান -মেম্বারদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রতি অভিযোগ উঠেছে। কালারুকা ইউপির রায়সন্তোষ পুর গ্রামে মৃত আলতাব আলীর পুত্র অন্ধভিক্ষুক সমর আলী গত বৃহস্পতিবার দুপুরের গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিনিধি’র কাছে বলছেন সরকার কর্মহীন হতদরিদ্র অসহায়দের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে আমি মেম্বার কাছে গিয়ে কোন খাদ্য সামগ্রী সহায়তা পায়নি।এছাড়া গৌরিপুর গ্রামে মৃত ফযজুর রহমানের পুত্র ভিক্ষুক পঙ্গু সফিক আলী মেম্বারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন। ১৫দিন ধরে ঘরে বসে ৯সদস্য পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করেছে। কেই তাকে কোন সহায়তা না পেয়ে ও খাবার জোগান দিতে ঘরে বাইরে বের হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন। এখন রাস্তা ও হাট –বাজারে মানুষ ও নেই।শ্রমিক নেতা খালেদ আহমদ জানান জেলা প্রশাসকের আদের্শ মতো এসব শ্রেনীর মানুষ মানবিক সহায়তা তারা না দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছে।

এদিকে ছৈলাআফজলাবাদ ইউপির মেম্বার আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেন প্রতিবন্ধি ভোগলি গ্রামে মৃত সজিদ আলীর পুত্র পঙ্গু প্রতিবন্ধি মছবর আলী (৫০) কে বলেন,তার ওয়াডের মেম্বার বলছেন গোবিন্দগঞ্জ যাও সেখানে সেনা বাহিনী, র্যাব পুলিশ ও বিডিআর তরে সহায়তা করবে। এখানে তোর নামে কোন বরাদ্ধ নেই। এদিকে উত্তর খুরমা ইউপির আলমপুর গ্রামে মুচি মনাই দাস,সোনা দাসসহ সম্প্রদায়ের ৪টি পরিবার ১৫দিন ধরে অনাহারে খেয়ে না খেয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করেছে। কেউ তাদের সহায়তা দেয়নি। বাজারে আসলে এসে দোকান খুললে পুলিশ মারপিট করছে। এখন আমরা যাব কোথায়? গিলাছড়া গ্রামে মৃত আসিম উল্লার পুত্র পঙ্গু ভিক্ষুক আব্দুল মতিন (৫৫)কান্না জড়িত কন্ঠে জানান কেউ আমাদের খবর নেন না। স্থানীয় মেম্বার ও আমাদের নামে কোন সরকারি সহায়তা দেয়নি।

এ ব্যাপারে মেম্বার আকল আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন সমর আলীর স্ত্রী কাছে ১০ কেজি চাউল ও ২ কেজি আলু মানবিক সহায়তা করছি। এদের মধ্যে বেশিই ভাগ দিনমজুর ও ভূমিহীন। এদের অধিকাংশই নানা পেশায় জড়িত।

এদের মধ্যে কেউ রিকশাচালক, কেউ ভিক্ষুক, কেউ ঠেলাচালক, কেউ বাদ্য বাজান, কেউ দোকান কর্মচারী। হাজারো পরিবারে মধ্যে ৫ শতাধিক পরিবার খুবই দরিদ্র। করোন ভাইরাস দেশে সংক্রমিত হবার আশংকায় দেশ প্রায় লকডাউন এর মত হওয়ায় গত ২ সপ্তাহ ধরে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ রোজগারে নেই। সবাই বাড়িতে খেয়ে না খেয়ে বসে দিন কাটাচ্ছে। এই হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে দেখার মতো কেউ নেই। ভ্যান-ঠেলা- রিকশা চালিয়ে ও ভিক্ষাবৃত্তি করে চলা জীবন এখন বন্দি ঘরে আবদ্ধ। অনাহারে দিন কাটছে পরিবারগুলো। অনেক পরিবার ছেলে মেয়ে নিয়ে লবণ চা আর মুড়ি ভাজা খেয়ে দিন পার করছে। কমর আলী জানান ৪ সদস্যের পরিবার নিয়ে আজ অনেক কষ্টে রয়েছি। কোন ধরেন সরকারী সহযোগিতা পাইনি। সিএনজি চালিয়ে আমার সংসার চলতো। খুবই কষ্টে জীবন চলছে। আব্দুল খালিক ও সিরাজ জানান মালিক দোকান বন্ধ করায় বেকার হয়ে বাড়িতে দিন কাটছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ করেন এখনো পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজ নিতে বাড়িতে যাননি। এভাবে প্রতিটি গ্রাম মহল্লা পাড়ায় দিন কাটছে অভাবী মানুষদের। সচেতন মহল দাবি করেন সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী পঙ্গু মুচি শ্রমিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোকেরা বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় আছে। এজন্য জরুরী ভিত্তিতে তাদেরকে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।