বিভাগ - সারাদেশ

ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ পদে সুপ্রিম কোটের আপিল ডিভিশন খারিজ

প্রকাশিত

ছাতক প্রতিনিধি::ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ও তার এ পদটি অবৈধ বলে রায় দিযেছেন সুপ্রিম কোটের আপিল ডিভিশন। দীঘদিন ধরেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অধ্যক্ষ পদটি দখল করে রেখেছেন সিলেটের জেলা শাখার আ’লীগের যুগ্মসম্পাদক সুজাত আলী রফিক। তার ্এ পদে থাকা বৈধ নয় বলে হাইকোট রায় দিয়েছে। এ রায়ের উপর সুজাত আলী রফিক বাদী হয়ে সুপ্রিম কোটের আপিল ডিভিশনে লিভ টু আপিল করলে ও এ আপিল বিভাগের পুবেব এ রায় বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কলেজ গর্ভনিং বডি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উর্চ্চ মাধ্যামিক শিক্ষা বোড ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় সুজাত আলী রফিক দেশের প্রচলিত আইনে সুপ্রিম কোটের রায়কে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলে কলেজের ছাত্র.ছাত্রী  শিক্ষক ও কর্মচারীরা এ অভিযোগ তোলেন। জানা যায়, সুজাত আলী রফিক সিলেটের শহরের কুমার গাও এলাকার প্রতিষ্টিত শাহ খুররম কলেজের একজন প্রভাষক হিসাবে যোগদান। পরে এ কলেজে এমপিভুক্ত না হওয়ার কারনে ১৯৯৬ সালে প্রথম দিকে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে যোগদান করে ২০০৬ সালে ২৪ জুন মাসে আবেদন করে দুই মাসের ছুটি নিয়ে লন্ডনে সফলে গমন করেন।২০০৭ সালে ৪ এপ্রিল ১৯(৭) স্মারকে সুজাত আলী রফিক পত্র প্রাপ্তির ১০দিনের মধ্যে স্বপদে যোগদান করতে অনুরোধ করেন কলেজ কতৃপক্ষ। সে যোগদান না করায় তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরী বিধি অনুযায়ী প্রযোজনী আইনানুগত ব্যবস্থা করেন কলেজ কতৃপক্ষ। ২০০৮ সালে ১০জানুযারি তার পদত্যাগ পত্র গ্রহন করলে ও সুজাত আলী রফিক প্রবাসে থাকায় পৌর বিঞ্জান প্রভাষক পদটি দীঘদিন শুন্য থাকে। তিনি  দীঘ ৩ বছর প্রবাসে থেকে সুজাত আলী রফিক দেশে ফেরত আসে। তার অধিকৃত পুর্ববতী পদে পুনবহালে জোর তদবির শুরু করে ২০০৯ সালে ১৫ ডিসেম্বর মাসে এ পদে পুনবহালের জন্য আবেদন করলে তার এ আবেদন কলেজ পরিচালনা পষদ গ্রহন করে ২০১০সালে ২০ মার্চ পুনবহাল করেন। অনিয়মে কলেজ কতৃপক্ষ তাকে সাধারন ছুটি ঘোঘনা করেন। কলেজের সাবেক ছাত্র ও পরিচালনা কমিটি অভিভাবক সদস্য আশিকুর রহমান আশিক বাদী হয়ে সুজাত আলী রফিক  তার অনিয়ম দুনীতি বিরুদ্ধে হাইকোটে রিটপিটিশনমামলা দায়ের করেন ৪৭৩৩(২০১১) হাইকোট বেঞ  আদেশ প্রাপ্তির ৯০দিনের মধ্যে কলেজ পরিচালনা পষদ কতৃক গৃহিত সিদ্ধান্তে বিষয়ে নিদেশন যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহনের নিদেশ ও তদন্ত সমাপ্ত না হওয়ার পযন্ত শিক্ষামন্ত্রনালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিচালক পদের ডিজি বরাবরে তদন্ত শেষ না হওয়ার পযন্ত বেতনভাতা স্থগিতাদেশ নির্দেশ প্রদানকরেন। তিনি বেতনভাতা স্থগিতাদেশ থাকার পর  প্রতিমাসে বেতনভাতা উত্তোলন করে নিচ্ছেন সুজাত আলী রফিক। এ আদেশে না মেনে সুজাত আলী রফিক বাদী হয়ে লিভ টু আপিল ১৬৫০(২০১১) দায়ের করলে হাইকোট পুবে আদেশ স্থগিত করেন। এ স্থগিতাদেশ সুযোগে তার বেতনভাতা সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক তদন্ত স্থগিত হলে ২০১৬ সালে ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোটের আপিলেট ডিভিশনে প্রধান বিচারপতি এস.কে সিনহা বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা.সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকির যৌথ বেঞ ৩১জানুয়ারি  এ আদেশে লিভ টু আপিলের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম  কোটের আপিলেট ডিভিশন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন.বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী.হাসান ফয়েজ সিদ্দিকি এবং মির্জা হোসেইন হায়দারের যৌথ বেঞ ৯ এপ্রিল ২০১৮ সালের আরেক আদেশে পুনরায় লিভ টু আপিলের আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোটের আপিল ডিভিশন।এ আদেশকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ পদটি দখল করে আছেন আ’লীগ নেতা সুজাত আলী রফিক। কলেজ বিভিন্ন ফান্ডে হিসাবেই রয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক গড়মিল।  কলেজ কয়েক লাখ টাকার গাছ বিত্রি করে অধ্যক্ষ তার নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত করেছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। কলেজের চলমান প্রত্যেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অধ্যক্ষ ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। কলেজের মাঠ ভরাটের জন্য ও বিনা টেন্ডারের মাধ্যমে একজন ঠিকাদার দিয়ে ভবন নিমান করারনা হয়। কিন্তু ওই ঠিকাদার কোন কাজ ছাড়াই অধ্যক্ষের যোগসাজসে সম্পুর্ণ বিল তুলে নিয়েছেন। ওইসব কাজ থেকে অধ্যক্ষ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।তারঅনিয়ম দুনীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীরা একাধিকবার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়েছে। পরে কলেজ কতৃপক্ষ সালিশের মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের দাবি মেনে বিরোধের ঘটনাটি নিম্পতি করা হয়।তিনি অনিয়ম দুনীতির কারনে অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক  ছাত্রদের হাতে একাধিকবার নাজেহালের ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক বক্তব্য নেয়ার জন্য সরাসরি কলেজ গিয়ে ও তার ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। কলেজের উপাধ্যক্ষ মহি উদ্দিন সঙ্গে আলাপ করলে তিনি এব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানান।