বিভাগ - জাতীয়

সরকারের জনস্বার্থে গৃহীত উদ্যোগকে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ দাঁড় করানোর ঘৃণ্য অপচেষ্টা !

প্রকাশিত

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রগতিশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্র!

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ১৩ জানুয়ারি,২০২০ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে “ভারতীয় কূটনীতিকের সাথে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার গোপন বৈঠক” শিরোনামের খবরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী আইন মন্ত্রণালয়ের মুক্তিযুদ্ধেiর স্বপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। জানা যায় , ভারতীয় কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠকটি গোপনে নয় বরং হোটেল সোনারগাঁয়ে খোলা রেস্তোরায় অনেক লোকের মাঝেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করা হয়েছে এমন তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট উদ্দেশ্য প্রণোদিত, যা একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন বলে জানা যায়।

তারা জানান, ভারত ও বাংলাদেশের আইন-কানুন এবং সংসদীয় রীতিনীতিতে অনেক মিল থাকায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের জন্য লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং ট্রেনিং ভারতীয় লোকসভায় প্রতিবছর অব্যাহত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ডেস্ক মতবিনিময়ের জন্যই উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে দেন ।

এই সাক্ষাৎ ও ট্রেনিং বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় অবহিত আছে কিনা অনুসন্ধানে জানা যায় এ বছর ভারতীয় পার্লামেন্টে প্রশিক্ষণের জন্য দুজন কর্মকর্তাকে মনোনয়ন দেয়া হয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে। তাদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকল্পে পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে নৈশ ভোজে অংশগ্রহনের নিমন্ত্রণ মেলে। উল্লেখ্য, গত ৩/৪ বছর ধরে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভারতের পার্লামেন্টে লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং ট্রেনিং-এ কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দেয়া হলেও সেঅনুসারে প্রশিক্ষনের সুযোগ বর্তমানে মিলছে না। তাই, গত ৩ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ নবনিযুক্ত সচিব নরেন দাস, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্তির পর কর্মকর্তাদের সামর্থ্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সচেষ্ঠ হন। এরই অংশ হিসেবেই তিনি বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর জোর দেন। রুলস অব বিজনেস , ১৯৯৬ অনুসারে সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান বিধায় সচিব পর্যায়ে নিতান্তই প্রাথমিক স্তরের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে তেমন কোনো গুরুতর আপত্তি থাকার কথা আছে বলে মনে হয় না। অপরপক্ষ হতে আনুষ্ঠানিক সাড়া পেলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সুযোগ রয়েছে। যেমনটি সুপ্রীম কোর্ট এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে মর্মে জানা যায়। অনুরূপভাবে, লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং কর্মে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ভারতীয় পার্লামেন্টের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং ট্রেনিং-এ প্রতিবছর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও অব্যাহত রাখাই ছিল এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। নিতান্তই সৎ উদ্দেশ্যে জনস্বার্থে গৃহীত উদ্যোগকে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্কের মধ্যে ভুল বুঝাবোঝির সৃষ্টি হতে পারে। ওই বিশেষ দৈনিক পত্রিকাটি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মুখপাত্র হিসাবে পরিচিত এবং এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সাথে ওই পত্রিকার যোগাযোগ রয়েছে মর্মে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা যায়, সোনারগাঁও হোটেলের উন্মুক্ত স্থানে বহুলোকের সামনেই গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ঐ ডিনারের আলোচনার টেবিলে কথিত ব্রিফকেসের কোনো অস্তিত্ব ছিলনা। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। অথচ গোপন দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে মর্মে কল্পকাহিনী ছাপা হয়েছে, যা মানহানিকর। প্রতিবেদনে দায়িত্বপালনরত সচিব নরেন দাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা ল্যাপটপ কাহিনীর অবতারনা করা হয়েছে। যার সত্যতা মেলেনি সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার তদন্তে,বরং মিথ্যা অভিযোগ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে বলে জানা যায় ।

ধারণা করা হচ্ছে, সদ্য অবসরে যাওয়া এক কর্মকর্তা নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন, এর সাথে যোগ দিয়েছে জামায়াত-বিএনপির অনুসারী এ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কুচক্রীমহল। যাদের একজন সচিব পদে নিয়োগ প্রত্যাশী ছিলেন এবং যিনি ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে প্রেষনে নিযুক্ত হয়ে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে গণপ্রতিনিধি আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনপূর্বক নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে পরাস্ত করতে সহায়তা করেছিলেন। ফলস্বরূপ, চার দলীয় বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে এবং নেমে এসেছিলো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ওপর অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত। বিডিআর বিদ্রোহের সময় ঐ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উল্লাসে ফেটে পড়েন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রত্যাশায়। এমনকি তারা ২০১৩ সালে হেফাজতের কর্মীদের সহায়ক ছিলেন এবং গণজাগরণ মঞ্চ বিদ্বেষী।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশক্তি এবং ছাত্রজীবন থেকে ধারাবাহিক প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল, এমনকি ১৯৯০ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডাকসু) নির্বাচনে সলিমুল্লাহ হলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের ছাত্র সংগঠনের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এমন ক্লিন ইমেজের কর্মকর্তাকে গুপ্তচর বৃত্তির দায়ে অভিযুুক্ত করতে তৎপর ওই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন থেকেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি তার উপর ভীষণ রাগান্বিত। বিশেষত সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ প্রণয়নের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন এবং বাস্তবায়িত হয় সুপ্রীম কোর্ট ঘোষিত সংবিধান পঞ্চম, সপ্তম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী রায়।এছাড়া প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রণয়নপূর্বক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন,১৯৭৩ এর অধীন যুদ্ধঅপরাধীর বিচার বাস্তবায়নে দৃঢ সংকল্পবদ্ধ।সঙ্গত কারণে পাকিস্তানপন্থী মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি বরাবরই তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে এ ধরণের বিভ্রান্তিকর মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের সাথে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত যে সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী জড়িত তাদের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি মাত্র। অন্যথায় সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্তে।