জেনে নিন লাউ চাষ পদ্ধতি

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: লাউ বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় সবজি। লাউ সাধারণত শীতকালে বসতবাড়ির আশপাশে চাষ হয়। লাউয়ের পাতা ও ডগা শাক হিসেবে এবং লাউ তরকারী ও ভাজি হিসেবে খাওয়া যায়। লাউয়ের চেয়ে এর শাক বেশি পুষ্টিকর।

লাউয়ের জাতঃ বাংলাদেশে লাউয়েরঅনেক জাত চোখে পড়ে। ফলের আকার-আকৃতি এবং গাছের লতানোর পরিমাণ থেকেও জাতগুলো পাথর্ক্য করা যায়। যাহোক দেশীয় উন্নত এবং গবেষণালব্ধ কিছু জাত হলোঃ

১। দেশীয় জাতঃ গাঢ় সবুজ থেকে হালকা সবুজ।

২। বারি লাউ-১: এ জাতটি বাছাইয়ের মাধ্যমে উদ্ভাবন করে ১৯৯৬ সনে সর্বত্র চাষাবাদের জন্য অনুমোদন করা হয়। পাতা সবুজ ও নরম। পুরুষ এবং স্ত্রী ফুল যথাক্রমে চারা রোপণের ৪০-৪৫ দিন এবং ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ফুটে। এর ফল হালকা সবুজ, লম্বা ৪০-৫০ সেমি.। প্রতি ফলের ওজন ১.৫-২.০ কেজি। প্রতি গাছে ১০-১২ টি ফল ধরে। এ জাতটি সারা বছরই চাষ করা যায়।

৩। হাইব্রিড লাউঃ গোলাকার বা লম্বা।

উৎপাদন প্রযুক্তি- মাটি ও জলবায়ুঃ
লাউ প্রায় সব ধরনের মাটিতে জন্মে। তবে প্রধাণত দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি লাউ চাষের জন্য উত্তম। লাউ সাধারণত একটি লতানো উদ্ভিদ, ফলে বছরের অধিকাংশ সময় চারা লাগিয়ে এ ফসল উৎপাদন করা যায়।

বীজ বপন ও চারা উৎপাদনঃ লাউ চাষের জন্য পলিথিন ব্যাগে চারা তৈরি করাই উত্তম। এতে বীজের খরচ কম পড়ে। পলিথিন ব্যাগে চারা উৎপাদন করে রোপণ করলে হেক্টর প্রতি ৮০০-১০০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। তবে মাটি দিয়ে মাদাতৈরি করেও চারা উৎপাদন করা যায়। প্রতি মাদায়৪-৫টি বীজ বপন করতে হবে। ৪-৫ দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরিত হবে।

বীজ বপনের সময়ঃ শীতকালীন চাষের জন্য মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য-কার্তিক (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) মাসে বীজ বপন করা যেতে পারে। তবে আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য ভাদ্রের ১ম সপ্তাহে বীজ বুনতে হবে।

জমি তৈরি ও চারা রোপণঃ আমাদের দেশে প্রধানত বসত বাড়ির আশপাশে যেমন গোয়াল ঘরের কিনারায় বা পুকুর পাড়ে ২-৩ টি লাউ গাছ লাগানো হয়ে থাকে। বেশি পরিমাণ জমিতে লাউয়ের চাষ করতে হলে প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। লাউ চাষের জন্য ২×২ মি. দূরত্বে প্রতি মাদায় ৪-৫ টি বীজ বোনা উচিত। রবি মৌসুমে লাউ মাচাবিহীন অবস্থায় চাষ করা যায়। তবে মাচায় ফলন বেশি হয়। এ ছাড়া পানিতে ভাসমান কচুরিপানার স্তুপে মাটি দিয়ে বীজ বুনেও সেখানে লাউ জন্মানো যেতে পারে।

পরিচর্যাঃ চারা একটু বড় হলেপ্রতি মাদায় ২টি করে চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে। মাটি নিড়ানি দিয়েআলগা করে ঝুরঝুরা করতে হবে। লাউগাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি প্রতিদিন দিতে হবে।

বাউনি ও মাচা তৈরিঃ গাছ যখন১৫-২০ সেন্টিমিটার বড় হয় তখন গাছের গোড়ার পাশে বাঁশের ডগা কঞ্চিসহ মাটিতে পুঁতেদিতে হয়।

বালাই ব্যবস্থাপনাঃ এ সবজিতে রেডপামকিন বিটল পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ধরে ধরে মেরে ফেলতে হবে। এছাড়া কিছুপ্রজাতির ঘাসের মাধ্যমে লাউয়ের ‘মোজাইক ভাইরাস’ রোগ হতে পারে।

ফসল সংগ্রহঃ বারি লাউ-১ এর চারা রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে প্রথম ফল সংগ্রহ করা হয়। ফল তোলা বা সংগ্রহ করার উপযুক্ত পর্যায় হলো-১) ফলের গায়ে প্রচুর শুং এর উপস্থিতি থাকবে। ২) ফলের গায়ে নখ দিয়ে চাপ দিলে খুব সহজেই নখ ডেবে যাবে। ৩) পরাগায়ণের ১২-১৫ দিন পর ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়।

ফলনঃ বারি লাউ-১ এর জীবনকাল ১২০-১৪০ দিন। ফলন শীতকালে ৪২-৪৫ টন/হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালে ২০-২২ টন/হেক্টর।